বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঠেকাতে ফ্রিজ-এসিতে এইচএফসি ব্যবহার বন্ধ করার 'ঐতিহাসিক' চুক্তি

জন কেরি, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবির ক্যাপশান,

জন কেরি

সাধারণ ফ্রিজ এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে এইচ এফ সি বা হাইড্রোফ্লোরোকার্বন নামে যে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় - তা পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ বন্ধ করার জন্য একটি বৈশ্বিক চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। প্রায় দুশো'টি দেশ এই 'ঐতিহাসিক' চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে।

এ চুক্তির ফলে ভবিষ্যতে ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশনার ইত্যাদি ঠান্ডা করার কাজে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার অনেক কমে যাবে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, এই এইচএফসি একটি গ্রীনহাউজ গ্যাস হিসেবে কার্বন ডাইঅক্সাইডের চাইতে কয়েক হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী - এবং এটার উচ্ছেদ বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি কমাতে ব্যাপক ভুমিকা রাখবে।

রোয়ান্ডার রাজধানী কিগালিতে এই ঐকমত্যের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, এটি সামনের দিকে এক বিরাট পদক্ষেপ।

ছবির উৎস, Huw Evans picture agency

ছবির ক্যাপশান,

কিগালির সম্মেলনস্থলেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে

এই চুক্তি অনুযায়ী পৃথিবীর সবচেয়ে সম্পদশালী দেশগুলো আগামি তিন বছরের মধ্যে এইচএফসি ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা শুরু করবে।

তবে অপেক্ষাকৃত কম উন্নত দেশগুলোকে ১৬ বছর পর্যন্ত সময় দেয়া হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী চীন ও ল্যাটিন আমেরিকান দেশগুলো ২০২৪ সাল থেকে এবং ভারত, পাকিস্তান, ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলো ২০২৮ সালের পর থেকে এইচএফসি ব্যবহার কাটছাঁট করতে শুরু করবে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

দোকানে বিক্রি হচ্ছে ফ্রিজ

বিজ্ঞানীদের মতে, এর ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব হলে ২০৫০ সাল নাগাদ বায়ুমন্ডল থেকে ৭০০০ কোটি টন কার্বন ডাই অক্সাইডের সমপরিমাণ গ্রীনহাউজ গ্যাস অপসারণ করা যাবে ।

তবে এ চুক্তির সমালোচনাকারী পরিবেশবাদীরা বলেছেন, এতে যথেষ্ট কড়াকড়ি করা হয় নি।

তাদের মতে, এতে ভারত ও চীনকে বেশি ছাড় দেয়া হয়েছে যার ফলে এর প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়বে এবং আধা ডিগ্রি তাপমাত্রা কমানোর লক্ষ্য অর্জিত না-ও হতে পারে।