জাতিসংঘ মহাসচিবের সফরের মধ্যেই হাইতিতে ত্রাণের ট্রাক লুটপাট

হাইতি ত্রাণ
ছবির ক্যাপশান,

পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগে ত্রাণবহরে হামলা চালাচ্ছে কিছু হাইতিয়ান

জাতিসংঘ মহাসচিব যখন হারিকেন ম্যাথুর আঘাতে বিধ্বস্ত হাইতি পরিদর্শন করছেন, তখন ক্ষুদ্ধ হাইতিয়ানরা ত্রাণের ট্রাক লুট করেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

হারিকেনে দেশটিতে ৯০০ মানুষ নিহত হয়েছে।

বান কি-মুন বলেছেন, তিনি লে কায়েতে তিনি নিজেই একটি লুটের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন। হাইতিকে তিনি আরো বেশি ত্রাণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং অন্যান্য দেশকেও আরো দান করার আহ্বান জানিয়েছেন।

কর্মকর্তারা বলছেন, দেশটির ১৪ লাখেরও বেশি মানুষের জরুরী ভিত্তিতে ত্রাণ প্রয়োজন।

হাইতিতে কলেরা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছেন অনেকে। এরই মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কলেরায় মৃত্যুর ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

পানিবাহিত এই রোগটি হাইতিতে প্রথম ছড়ায় ২০১০ সালের ভূমিকম্পের পর জাতিসংঘের নেপালি শান্তিরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে। ঐসময় কলেরায় প্রায় ১০,০০০ মানুষ মারা যায়।

অনেক পরিবার, যাদের শস্য এবং পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের কাছে এখনো ত্রাণ সাহায্য না পৌছানোয় উত্তেজনা আরো বাড়ছে।

লা কায়েতে ত্রাণবহরের ওপর হামলার পর পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।

ছবির ক্যাপশান,

বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বান কি-মুন

ছবির ক্যাপশান,

বন্যা এবং সুপেয় পানির অভাবের কারণে কলেরা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে

ছবির ক্যাপশান,

লে কায়েতে ক্ষুদ্ধ বাসিন্দাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়

"জরুরী সাহায্যের জন্য যারা অপেক্ষা করছে তাদের অধৈর্য এবং ক্ষুদ্ধ হওয়ার কারণ আমরা বুঝি। দ্রুত সাহায্য আনার জন্য আমরা যতটা সম্ভব করছি"। বলেন মি. বান।

চার মাত্রার হারিকেন ম্যাথু হাইতির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার পর সেখানে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যায় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কিছু এলাকায় জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও এখনো অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ নেই এবং অনেক এলাকায় যাতায়াত করাটাও এখনো বেশ দুরূহ।