“আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় আনতে হবে”: শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা
ছবির ক্যাপশান,

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের রুদ্ধদ্বার সভায় কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। পাশে সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে নেতৃত্ব নির্বাচনের বৈঠকে কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে শেখ হাসিনা তৃতীয় দফায় দলকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আনতে নেতা-কর্মীদের এখনই কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বৈঠকটি ছিল রুদ্ধদ্বার।

সেখানে সাংবাদিকদেরও প্রবেশাধিকার নেই।

তবে বাইরে স্থাপিত মাইকগুলোতে এই বৈঠকে দেয়া শেখ হাসিনার ভাষণ শোনা গেছে।

এছাড়া পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসের পাঠানো সংবাদের বরাতে শেখ হাসিনার বক্তব্য জানা যায়।

সেখানে প্রধানমন্ত্রী নেতা-কর্মীদের বলেন, "জনগণের কাছে যেতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের সত্যিকারের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়,তা জনগণকে বলতে হবে"।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আবারো নতুন দফায় দলের সভাপতি হতে অনীহার কথা জানান।

তিনি বলেন, "আমি চাই, আমি বেঁচে থাকতে থাকতে নেতা নির্বাচন করে দলকে শক্তিশালী করে যাব। আমার বয়স সত্তর হয়ে গেছে। আর কতো, নতুন নেতৃত্ব আনতে হবে"।

এই সম্মেলন শুরুর আগেও তার একই রকম বক্তব্য বাংলাদেশে বেশ আলোচনা তৈরি করেছিল।

তবে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, রবিবার সম্মেলনের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে শেখ হাসিনা এমন বক্তব্য দেবার পর উপস্থিত কাউন্সিলরেরা সমস্বরে 'না না' বলে প্রতিবাদ করেন এবং শেখ হাসিনাকেই প্রধান দায়িত্বে থাকতে হবে বলে দাবি জানান।

ছবির ক্যাপশান,

শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদও এক পর্যায়ে রুদ্ধদ্বার এই সভায় এসে যোগ দেন। এ বছরই তাকে দলীয় কাউন্সিলর নির্বাচিত করা হয়েছে।

তারা প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদের পক্ষেও 'জয়', 'জয়' বলে স্লোগান দিতে থাকেন বলে বাসসের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।

রবিবারের এই বৈঠক থেকেই আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কারা আসবেন তা ঠিক হবে বলে কথা রয়েছে।

এবারের সম্মেলনের আগে থেকেই গণমাধ্যমগুলোতে একটি আলোচনা উঠেছে যে, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সরিয়ে নতুন কাউকে এই পদে নেয়া হতে পারে।

শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের ছেলে তানজিম আহমেদ সোহেল তাজকেও এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হতে পারে, এমন আলোচনাও স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে ঠাঁই পেয়েছে।

রবিবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও যে সকল কাউন্সিলরেরা এখন পর্যন্ত বক্তব্য দিয়েছেন তারা প্রায় সই সজীব ওয়াজেদকে দলের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেবার দাবি জানান।

তবে ঢাকার বিভিন্ন টেলিভিশনের সাংবাদিকেরা সম্মেলন স্থল থেকে পাঠানো সংবাদে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা এসব দাবির জবাবে বলেছেন তার পুত্র এরই মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন।

উল্লেখ্য, সজীব ওয়াজেদ প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা।