স্তন ক্যান্সার কি নারীদের বিপর্যয়ের মুখে ফেলছে?

স্তন ক্যান্সারের পরীক্ষা ছবির কপিরাইট SPL
Image caption বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীদের অনেকের মধ্যে এখনও স্তন ক্যান্সার বিষয়ক সচেতনতা আসেনি।

ক্যান্সার নিয়ে কাজ করে এমন ১৯টি সংগঠনের জোট বাংলাদেশে 'ব্রেস্ট ক্যান্সার এওয়ারনেস ফোরাম' স্তন ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে অক্টোবর মাস জুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করছে।

ক্যান্সার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সী ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার বা আইএআরসি'র হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর নতুন করে ১৫ হাজার নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এবং এর মধ্যে ৭ হাজারই মৃত্যুবরণ করেন।

স্তন ক্যান্সারে যারা আক্রান্ত হন তারা কি সামাজিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়ছেন?

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে 'ব্রেস্ট ক্যান্সার এওয়ারনেস ফোরামে'র প্রধান সমন্বয়ক ডা: মো: হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলছিলেন, "অনেক সময় দেখা যাচ্ছে একজন নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার পর তার ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে এবং তাকে বাবার বাড়িতে ফিরে আসতে হয়। এর পর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতেও অনেককে হিমশিম খেতে হয়। অনেকের পক্ষে সম্ভবও হয় না"।

ছবির কপিরাইট PA
Image caption এক্স-রে প্লেটে স্তন ক্যান্সার

সমাজের ধনী-গরীব শিক্ষিত ও অশিক্ষিত অনেক পরিবারেই স্তন ক্যান্সারের কারণে ডিভোর্সের উদাহরণ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মি: তালুকদার।

"সামাজিকভাবে যথেষ্ট হেয় প্রতিপন্ন করা হয় বলে বিভিন্ন উদাহরণ দেখা যায়, একইসাথে গ্রামাঞ্চলের নারীদের বেশিরভাগই জানেন না এই স্তন ক্যান্সারের বিষয়ে"-বলেন ডা: মো: হাবিবুল্লাহ তালুকদার।

তিনি বলছিলেন, স্তন ক্যান্সার নিয়ে নারীদের মধ্যে কিছুটা হলেও সচেতনতা বেড়েছে তবে চিকিৎসা সুবিধা এখনও অপ্রতুল। যেভাবে এ বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে পড়া প্রয়োজন ছিল সেভাবে হয়নি বলে মনে করছেন তিনি।

ডা: মো: হাবিবুল্লাহ তালুকদার বলছেন- চিকিৎসায় সহায়তার জন্য টাঙ্গাইলে সরকার একটি পাইলট প্রজেক্ট নিয়েছে, কিন্তু প্রচার না থাকায় সেটির সুবিধা পাচ্ছেন না ক্যান্সার আক্রান্তরা।

স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনলে গরীব রোগীদের জন্য তা অনেক সহায়ক হবে বলে মনে ডা: তালুকদার।

ছবির কপিরাইট No credit
Image caption স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় ঘরে বসেই করা যায় এর প্রাথমিক পরীক্ষা