নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন রেকর্ড পর্যায়ে

আন্তর্জাতিক জ্বালানী সংস্থা আই ই এ বলছে, সারা বিশ্বে সৌরশক্তি, বায়ু এবং পানির মতো নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা বর্তমানে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে।

সংস্থাটির নতুন এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছর সারা বিশ্বে প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ লাখ করে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে।

নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা সবচে বেশি বেড়েছে চীনে।

বলা হচ্ছে, মোট উৎপাদন ক্ষমতার ৪০ শতাংশই চীনে।

দেশটিতে গত বছর প্রত্যেক মিনিটে দুটো করে উইন্ড টারবাইন বসানো হয়েছে।

ছবির ক্যাপশান,

বায়ু শক্তির জনপ্রিয়তা দিনে দিনে বাড়ছে

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বলছে, নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই ক্ষমতা বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে বিশ্বের বড়ো বড়ো পাঁচটি দেশ - যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত এবং মেক্সিকোর সরকারি নীতিতে বড়ো রকমের কিছু পরিবর্তনের কারণে।

সংস্থাটি বলছে, নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ আগামী পাঁচ বছরে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানীতে পরিবেশের ক্ষতি হয় না বলে তারা এই খবরটিকে বড়ো রকমের সুখবর হিসেবে উল্লেখ করছেন।

এসব নিয়ে শুনুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্সটিটিউট অফ রিনিওবেল এনার্জির শিক্ষক এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানী বিশেষজ্ঞ সাইফুল হকের সাক্ষাৎকার।

১৩ কোটি বছর পুরনো ডায়নোসরের মাথা

ব্রিটেনের বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, দশ বছরেরও বেশি সময় আগে তারা বাদামী রঙের পাথরের নুড়ির মতো দেখতে যে জিনিসটি খুঁজে পেয়েছিলেন সেটি আসলে প্রস্তরীভূত একটি ডায়নোসরের মস্তিষ্ক।

দক্ষিণ ইংল্যান্ডে এটি পাওয়া গিয়েছিলো।

ছবির ক্যাপশান,

ডায়নোসরের মস্তিষ্ক

এই মস্তিষ্কটি এতো দীর্ঘ সময়েও বেশ ভালোভাবে রক্ষিত হয়েছে কারণ ডায়নোসরের মাথাটি এমন এক জলাশয়ে ডুবেছিলো যেখানে এসিডের মাত্রা ছিলো খুব বেশি আর অক্সিজেনের পরিমাণ ছিলো খুবই কম।

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই প্রাণীটি ১৩০ মিলিয়ন বা ১৩ কোটিরও বেশি বছর আগের।

তারা বলছেন, এই ডায়নোসরটি ইগুয়ানোডন প্রজাতির যা গাছপালা খেয়ে বেঁচে থাকতো।

তাদের ধারণা ওই ডায়নোসরটির মৃত্যুর পর সেটি কোনো জলাভূমিতে ডুবে গিয়েছিলো।

বিজ্ঞানীদের যে দলটি এই মস্তিষ্কটির ওপর গবেষণা পরিচালনা করছে তাদেরই একজন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপার্টমেন্ট অফ আর্থ সায়েন্সের একজন বিজ্ঞানী ড. অ্যালেক্স লিউ। তিনি বলছিলেন, কুড়িয়ে পাওয়া এই মস্তিষ্কটি প্রায় ১০ সেন্টিমিটার লম্বা। প্রস্থে পাঁচ সেন্টিমিটার। উচ্চতাও পাঁচ সেন্টিমিটারের মতো।

"এর আকার একেবারেই অস্বাভাবিক রকমের। সমুদ্র সৈকতে সাধারণত পাথরের যেসব নুড়ি বা শিলাখণ্ড পাওয়া যায় এটার আকৃতি মোটেই সেরকম কিছু নয়," বলেন তিনি।

বিজ্ঞানী লিউ বলেন, "দেখে মনে হচ্ছে এর কানের লতিটা বেশ লম্বা ছিলো। এছাড়াও এর বড় অংশই খনিজ পদার্থে পরিণত হয়ে গেছে। এর ভেতরকার খুব সামান্য কিছু অংশই দেখা যায়। এই মাথাটির যেখানে পড়ে ছিলো তার আশেপাশের পাথর থেকে মাথাটির ওপরে পলি জমে গেছে।"

জীবাশ্ম সংগ্রহ করেন এরকম একজন অপেশাদার ব্যক্তি ইংল্যান্ডের সাসেক্স এলাকায় ডায়নোসরের এই মস্তিষ্কটি খুঁজে পেয়েছিলেন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডায়নোসরের এই মস্তিষ্কের সাথে আধুনিক কালের পাখি এবং কুমিরের মস্তিষ্কের কিছু মিল পাওয়া যায়।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন মিজানুর রহমান খান।