নাসিরনগর সফর করলেন বিএনপির নেতারা

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাফ্জিউদ্দিন আহমেদ

ফেসবুকে ইসলামধর্মের পবিত্র কাবা'র অবমাননাসূচক একটি ছবি পোস্ট করার জেরে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু মন্দির-বাড়িঘর আক্রান্ত হবার পর প্রধান বিরোধীদল বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল এলাকাটি সফর করেছে।

এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাফিজউদ্দিন আহমেদ, এবং তিনি তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা তাদের জানিয়েছেন যে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল যারা রাজনীতির সাথে যুক্ত - তাদের উস্কানিতেই এ ঘটনা ঘটেছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করার ফলে এটা প্রমাণ হয়েছে যে শাসক দলের লোকেরাই এ ঘটনার সাথে জড়িত।

"শুধু এটাই নয় - সারা বাংলাদেশ জুড়েই হিন্দু সম্পত্তি দখল এবং তাদের নির্যাতনের সাথে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে আমরা জানতে পেরেছি" - বলেন মি. হাফিজউদ্দিন।

তবে নাসিরনগরের স্থানীয় এমপি এবং সরকারের মৎস্য মন্ত্রী ছায়েদুল হক আজ বিবিসি বাংলার কাছে দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের যে তিন নেতাকে এই ঘটনায় সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে, তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং এরা বরং হিন্দুদের ওপর হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন।

তবে বিগত সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বাংলাদেশের বৃহত্তম সরকারবিরোধী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, আক্রান্ত এলাকার লোকেরা নিজেদের মোটেই নিরাপদ বোধ করে না, কারণ দলীয় পুলিশ বাহিনী তাদের কোন কাজে লাগে না।

রোববারের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার ভোররাতে নাসিরনগরে আরো কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেবার ঘটনা ঘটে।

কিন্তু এমপি ছায়েদুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেন, নাসিরনগরের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে কোন নিরাপত্তাহীনতা নেই।

বিএনপি নেতা হাফিজউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, বিশেষ করে বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনায় আমরা আশ্চর্য হয়েছি । এটি পুলিশের প্রতিরোধ করতে পারা উচিত ছিল।

ছবির কপিরাইট Mashuk Hridoy
Image caption নাসিরনগরে আক্রান্ত মন্দির

"আমরা কোন রাজনীতি করতে নাসিরনগরে যাইনি, পলিটিক্যাল পয়েন্ট স্কোর করতে যাইনি। আমরা শুধু সত্য অনুসন্ধানের জন্য গিয়েছি, ঘটনাস্থল থেকেই আমরা এসব মতামত পেয়েছি" - বলেন তিনি।

"বাংলাদেশের বাস্তবতা হলো এই যে দুর্বৃত্তরা সবসময় সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকে। একারণে এসব ঘটনা ঘটে সব সরকারের আমলেই, তবে এখনএকটু বেশি হচ্ছে কারণ দেশে গণতন্ত্র নেই।"

মি. আহমেদ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরাই জানিয়েছেন যে আশপাশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের আশ্রয় দিয়েছে, আক্রমণ প্রতিরোধের চেষ্টা করেছে।

তিনি এ ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তও দাবি করেন।

সম্পর্কিত বিষয়