রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও’র হত্যাকারীর ‘দীক্ষাগুরু’ গ্রেপ্তার

জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

তেসরা অক্টোবর ২০১৫ তারিখে রংপুরের কাউনিয়ার এই জায়গাটিতে গুলিতে নিহত হয়েছিলেন জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও। কাছাকাছি সময়গুলোতে বাংলাদেশ জুড়ে বিদেশী নাগরিক, সমকামী অধিকার কর্মী, ভিন্ন মতাবলম্বী ব্লগার, প্রকাশক, লেখক, অধ্যাপক, সংখ্যালঘু ধর্মীয় নেতারা হচ্ছিলেন সন্ত্রাসী আক্রমণের লক্ষ্য।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় রংপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ৪ জন সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলছে, এদের মধ্যে একজনের সঙ্গে গত বছর রংপুরে নিহত জাপানি নাগরিক হোশি কুনিওর প্রধান হত্যাকারীর যোগসাজশ ছিল।

রংপুরের পুলিশ সুপার বিবিসিকে বলছেন, রবিবার ভোররাতে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা থেকে বেলাল হোসেন, আল আমিন, এরশাদ আলী ও আশরাফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তারা তিন বছর ধরে পরিত্যক্ত ইট ভাটাটির একটি শ্রমিক শেডে আস্তানা গেড়েছিল।

তাদের কাছে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাওয়া গেছে।

এদের মধ্যে বেলাল হোসেন নামের একজনকে সাদ্দাম হোসেন নামে এক অভিযুক্ত খুনির 'দীক্ষাগুরু' বলে বর্ণনা করছিলেন এসপি মি. রহমান।

এক বছরেরও বেশী সময় ধরে পলাতক সাদ্দাম হোসেনকে হোশি কুনিওর মূল হত্যাকারী বলে মনে করে পুলিশ।

ঘটনাটি বাংলাদেশে ও সারা বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

পরে এ ঘটনার কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তবে সাদ্দাম হোসেন-সহ আরো কয়েকজন অভিযুক্তকে আজো গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মি. রহমান বিবিসিকে বলছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন মাসুদ রানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সেসময় জানিয়েছিল মি. কুনিওর মূল হত্যাকারী সাদ্দাম হোসেনকে জঙ্গিবাদে দীক্ষা দিয়েছিল বেলাল হোসেন।

"কিন্তু গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এখন সাদ্দামকেই নিজের দীক্ষাগুরু বলে দাবি করছে বেলাল", বলছেন রংপুরের এসপি।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে উল্লেখ করে এসপি মিজানুর রহমান বলছেন, তাদেরকে আজই আদালতে হাজির করা হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।