শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন মামলায় বেকসুর খালাস পেলেন ক্রিকেটার শাহাদাত দম্পতি

ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন
ছবির ক্যাপশান,

ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন

বাংলাদেশে শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন মামলায় ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন ও তাঁর স্ত্রী জেসমিন জাহানকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।

আজ রোববার ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তানজিনা ইসমাঈল এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ক্রিকেটার শাহাদাত ও তাঁর স্ত্রী জেসমিন জাহান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আলী আজগর স্বপন বিবিসিকে জানিয়েছেন রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেছেন শাহাদাত হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামীদের বেকসুর খালাস দেওয়া হলো।

গত বছরের ৬ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পেস বোলার শাহাদাত হোসেন ও তার স্ত্রী জেসমিন জাহানের বিরুদ্ধে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।

ঐ দিন সন্ধ্যায় ঢাকার মিরপুর থেকে শিশু গৃহকর্মীকে স্থানীয় মানুষজনের সহায়তায় উদ্ধার করেন খন্দকার মোজাম্মেল হোসেন নামে একজন সাংবাদিক।

ওই শিশু গৃহকর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও জানায় গৃহকর্মীর শরীরে প্রচুর নির্যাতনের চিহ্ন ছিল।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীও জানান যে নির্যাতিত গৃহকর্মীর শরীরে নির্যাতনের অনেক চিহ্ন থাকার সাক্ষ্যপ্রমাণ চিকিৎসকরাও দিয়েছেন।

মি: আজগর বিবিসিকে জানিয়েছেন, গৃহকর্মী নিজেই তার ওপর অত্যাচারের বর্ণনা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দিয়েছিল, সেটি আদালতে দাখিলও করা হয়েছিল। এমনকি তাঁরা সমস্ত তথ্য প্রমাণ আদালতে দাখিল করেছিলেন।

"কিন্তু ওই শিশু গৃহকর্মীই পরে আদালতে এসে সাক্ষী দিলেন যে শরীরে যে আঘাতের চিহ্ন তা পড়ে গিয়েই পেয়েছি, তারা কেউ নির্যাতন করেনি। এরপর এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট সাতজনের সাক্ষ্য শোনে আদালত"-জানান মি: আজগর।

অন্যদিকে আসামীপক্ষের দাবি ছিল, ওই গৃহকর্মী 'রাগ করে' বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল; আসামীদের হাতে সে নির্যাতিত হয়নি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলছেন, ওই গৃহকর্মী ছিল মহিলা আইনজীবী সমিতির জিম্মায়, সেসময় নির্যাতনের শিকার ওই গৃহকর্মী বা তার পরিবারের সাথে আসামীরা যোগাযোগ করেছেন কি না সেটা তারা জানেন না। আসল সত্যটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন বলে জানান আইনজীবী আলী আজগর স্বপন।

ছবির ক্যাপশান,

খালাস পাবার পর আদালত ছেড়ে যাচ্ছেন ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন ও তাঁর স্ত্রী

শাহাদাত হোসেন ও তাঁর স্ত্রী জেসমিন জাহানের বিরুদ্ধে গত ৬ই সেপ্টেম্বর শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা হয় মিরপুর মডেল থানায়।

তারপর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন এই দম্পতি। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ এবং আত্মগোপনের ঘটনা ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। বিসিবিও তাঁকে ক্রিকেটে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে।

দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গত ৪ঠা অক্টোবর মি. হোসেনের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার পরদিনই মি. হোসেন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। আদালত তখন তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।

তদন্ত শেষে গত বছরের ২৯শে ডিসেম্বর পুলিশ অভিযোগপত্র দেয়।

ডিসেম্বর মাসেই জামিনে মুক্তি পান শাহাদাত হোসেন দম্পতি।

আর চলতি বছর এপ্রিল মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান বাংলাদেশের পেস বোলার শাহাদাত হোসেন ।

তারপর মে মাসে বিসিবি ঘরোয়া ক্রিকেটে শাহাদাত হোসেনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।