পাক-ভারত প্রেম কাহিনীর শুভ সমাপ্তি

নরেশ তিওয়ানি ও প্রিয়া বাচ্চানির তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক বিয়েতে গড়ালো ছবির কপিরাইট Shakeel Akhtar
Image caption নরেশ তিওয়ানি ও প্রিয়া বাচ্চানির তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক বিয়েতে গড়ালো

পাকিস্তান ও ভারতের প্রেম কাহিনীর সফল বা শুভ সমাপ্তির খবর যেমন আছে তেমনি করুণ পরিণতিও আছে। ভালোবাসার পরিণতি বিয়েতে গড়ালেও নানা বাধা-বিপত্তি পার করতে হয় দুই দেশে থাকা প্রেমিক-প্রেমিকাকে।

দু'দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েনের প্রভাব ভালোবাসার সম্পর্কেও এসে পড়ে অনেক সময়। তেমনটাই ঘটেছিল নরেশ তিওয়ানি ও প্রিয়া বাচ্চানির ক্ষেত্রে। তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছিল সংশয়। কারণ ভারতে আসার ভিসা পাচ্ছিলেন না কনের পরিবারের।

ভারতের যোধপুরে বাস করেন নরেশ তিওয়ানি, কিন্তু তার প্রেমিকা প্রিয়া বাচ্চানি থাকেন পাকিস্তানে। তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক এদের দুজনের। আর তাদের পরিবারেরে সম্মতিতে বিয়ের দিন-তারিখও ঠিক হয়।

কিন্তু সমস্যা বাধে ভিসা পাওয়া নিয়ে। পাকিস্তান থেকে ভারতে আসার ভিসা পেতে দেরী হচ্ছিল প্রিয়া বাচ্চানি ও তার পরিবারের।

আর এটা দেখে নরেশ তিওয়ানি একদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে টুইট করে সাহায্যের আবেদন জানান ।

মি: তিওয়ানি তাঁর টুইট বার্তায় লিখেছিলেন "ম্যাম, আমার বিয়ে ৭ই নভেম্বর, আমার বাগদত্তা থাকে পাকিস্তানের করাচিতে। কিন্তু তারা কেউই এখনও ভারতের ভিসা পায়নি। এখন আপনিই আমার ভরসা, আপনি পারেন সাহায্য করতে"।

ছবির কপিরাইট Shakeel akhtar
Image caption অনুষ্ঠানে নরেশ তিওয়ানি ও প্রিয়া বাচ্চানি

নরেশ তিওয়ানিকে আশাহত করেননি মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, তিনি টুইটারে খুব সক্রিয় আর অপরিচিত ব্যক্তিদের করা প্রশ্ন বা আবেদনে খুব জলদি সাড়া দেওয়ার ব্যাপারে সুষমা স্বরাজের পরিচিতি আছে। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

প্রিয়া বাচ্চানি ও তার পরিবারের ৩৫জন সদস্য সোমবারের অনুষ্ঠানের আগেই ভিসা পেয়েছেন সুষমা স্বরাজের সহায়তায়।

কাশ্মীর ইস্যুতে দু'দেশের মধ্যে যে উত্তেজনা চলছে তার মধ্যে তার মধ্যে মিস স্বরাজের এমন সহায়তায় এই নবদম্পতি আন্তরিক ধন্যবাদও জানিয়েছেন মন্ত্রীকে।

"শেষ পর্যন্ত ভালোবাসাই জয় হয়। ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশের মধ্যে ভালোবাসা বিরাজমান এবং এ কারণেআমরা আজ এই দেশে এসেছি"-বিবিসি উর্দুর সংবাদদাতা শাকিল আখতারকে বলছিলেন কনে প্রিয়া বাচ্চানির বাবা গিরিধরলাল বাচ্চানি।

নরেশ তিওয়ানির বাবা বলছিলেন ভিসা পেতে দেরী হওয়ায় কয়েক সপ্তাহ মানসিক চাপে ছিলেন।

ভিসা পাবার এই বাধা কাটলো বর যখন সরাসরি সুষমা স্বরাজের সাহায্য চাইলেন।

আর মিস স্বরাজের সহায়তায় পাক-ভারত প্রেম কাহিনীর শুভ সমাপ্তি ঘটলো ৭ই নভেম্বর।

সম্পর্কিত বিষয়