বাংলাদেশে পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার বন্ধে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

  • শায়লা রুখসানা
  • বিবসি বাংলা, ঢাকা
ছবির ক্যাপশান,

পরোয়ানা ছাড়া হয়রানিমূলক গ্রেফতারের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে রয়েছে।

বাংলাদেশে সন্দেহজনকভাবে পরোয়ানা ছাড়া হয়রানিমূলক গ্রেফতার ও রিম্যান্ডে নির্যাতনের ঘটনা এখনো চলছে বলে জানাচ্ছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

তবে এ সংক্রান্ত আদালতের রায় আজ পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর এই হার কমে আসবে বলে আশা করছেন তারা।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারা নিয়ে মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন।

এ বিষয়ে ১৩ বছর আগে সংশোধনীর রায়ও আসে হাইকোর্ট থেকে। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলেও তা খারিজ হয়ে যায় গত মে মাসে ।

আজ বৃহস্পতিবার সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।।

১৬ বছর আগে ১৯৯৮ সালে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকা থেকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয় বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শামীম রেজা রুবেলকে।

এরপর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে তাঁর মৃত্যু হলে বিষয়টি তদন্তের জন্য বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়।

সেই কমিশন ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধনের পক্ষে ১১ দফা সুপারিশ তুলে ধরে। কিন্তু সেসব সুপারিশ বাস্তবায়ন না করায় ধারা দুটোকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্লাস্টসহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন।

আইন ও শালিস কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান লিটন বলেছেন, এই দুটো ধারা মাধ্যমে নির্যাতনের বিভিন্ন অভিযোগ তারা পেয়ে আসছিলেন তারই প্রেক্ষাপটে রিট করেন তারা।

১৩ বছর আগে হাইকোর্টের রায় এলেও রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরুদ্ধে আপিল করলেও এ বছরের মে মাসেই তা খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ।

ছবির ক্যাপশান,

বাংলাদেশ হাইকোর্ট ভবন

সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ বলেন, রায়ে বলা হযেছে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কিংবা পরোয়ানা ছাড়া কোনও আসামিকে ধরা যাবে না।

হয়রানির নানা অভিযোগ সত্ত্বেও পরোয়ানা ছাড়া ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করাকে কেন প্রয়োজনীয় মনে করে আসছিল নিরাপত্তা বাহিনী?

এ প্রসঙ্গে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেছেন, "পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতারের ক্ষমতা ফৌজদারী কার্যবিধিতে দেয়া আছে। বলা আছে কগনিজেবেল কেস অর্থাৎ যেগুলো ধর্তব্য অপরাধ সেখানে পুলিশ পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার করতে পারে। সেটা তো আইনে তৈরি করে দেয়া আছে। এবং প্রয়োজন হয়।"

"কেননা আপনি কোর্ট থেকে তো যেয়ে ওযারেন্ট নিয়ে আসতে পারবেন না সবসময়। এখন এই ক্ষমতাটা থাকবে কি না থাকবে সেটা আরেক বিষয়। সেটি আইণ প্রণেতারা ঠিক করবেন"।

অন্যদিকে আইন ও শালিস কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান লিটন বলেছেন, গত মে মাসে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে দিলেও তাদের হাতে যে ধরনের তথ্যা এবং অভিযোগ আসছে তাতে পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়েছে বলে তারা অন্তত মনে করছেন না।

এ প্রসঙ্গে আইনজীবী শাহদিন মালিক বলছিলেন পরোয়না ছাড়া গ্রেপ্তার এবং হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে হযরানি ও নির্যাতন রোধে এখন নির্দেশনা পালন করার ক্ষেত্রে একধরনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হলো।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন রায় আসার পরও হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার থেমে নেই। চলছে হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদও।

তবে এখন যেহেতু গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সন্দেহের কারণ স্পষ্ট ও লিখিতভাবে আদালতের সামনে উল্লেখ করতে হবে। এর ফলে বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে। আর ক্ষুব্ধ কোনও ব্যক্তি বা তার পরিবারও আদালতের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না মনে করলে তারা আদালতের আশ্রয় নিতে পারবে।