মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্য নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য

Stress and brains

ছবির উৎস, Thinkstock

ছবির ক্যাপশান,

মানসিক আঘাতে ছেলে আর মেয়েদের মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভিন্নভাবে

মনের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে এমন ঘটনা নারী ও পুরুষের মস্তিষ্কে ভিন্নধরনের প্রভাব ফেলে।

আমেরিকায় স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে চালানো একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে মস্তিষ্কের যে অংশ আবেগ ও সহমর্মী অনুভূতির সঙ্গে জড়িত মানসিকভাবে আঘাত পেলে মেয়েদের ক্ষেত্রে সেই অংশটি ছেলেদের তুলনায় ছোট হয়ে যায়।

মানসিক আঘাত পাওয়া ছেলেদের ক্ষেত্রে এই অংশের আয়তন অনেক বেশি।

গবেষকরা বলছেন এর থেকে বোঝা যাচ্ছে মানসিক আঘাত, বা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলে মেয়েদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব ছেলেদের থেকে কেন বেশি হয়।

এই গবেষণার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে একইধরনের মানসিক কষ্ট, বিপর্যয় বা ভয়ের ঘটনায় ছেলেদের যে প্রতিক্রিয়া বা উপসর্গ দেখা যায়, মেয়েদের বেলায় তার উল্টোটা দেখা যেতে পারে। ফলে তাদের চিকিৎসাও ভিন্নভাবে করা উচিত।

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা বলছেন মস্তিষ্কের যে অংশ ব্যথাবেদনা বা অনুভূতির জন্য দায়ী, মানসিক আঘাত পাওয়া মেয়েদের ক্ষেত্রে ঐ অংশের বয়স অনেক দ্রুত বেড়ে যায়। মস্তিষ্কের ঐ অংশকে বলে ইনসুলা।

ছবির উৎস, Science Photo Library

ছবির ক্যাপশান,

মানসিক আঘাতে মগজের ইনসুলা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়

ইনসুলা মগজের বেশ ভেতরের একটি অংশ এবং মস্তিষ্কের সঙ্গে শরীরের অন্যান্য অনেক অংশের যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ইনসুলা।

নয় থেকে ১৭ বছরের প্রায় ৬০ জন শিশু-কিশোরীর ওপর পরীক্ষা চালান গবেষকরা।

এদের মধ্যে প্রথম দলে ১৪জন মেয়ে আর ১৬জন ছেলে অন্তত একবার খুবই মানসিক চাপ ও বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে গেছে।

আর দ্বিতীয় দলটির ১৫জন মেয়ে ও ১৪জন ছেলে কখনই কোনো মানসিক চাপে পড়ে নি।

পরীক্ষায় দেখা গেছে মানসিক আঘাত পাওয়া ছেলেমেয়েদের মস্তিষ্কের ইনসুলা অংশটির আয়তনে পরিবর্তন ঘটেছে এবং মেয়ে ও ছেলেদের বেলায় ঐ আয়তনে তারতম্য রয়েছে।

তারা বলছেন কিশোর ও তরুণ বয়সীদের মধ্যে মানসিক চাপের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে, কাজেই মানসিক চাপের সময় মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে তা বুঝতে পারলে তাদের চিকিৎসা দেওয়ার কাজটা সহজ হবে।