আসামে আলফা জঙ্গিদের হামলায় ৩ সৈন্য নিহত

  • অমিতাভ ভট্টশালী
  • বিবিসি, কলকাতা
আলফা গেরিলাদের প্রশিক্ষণ চলছে, ফাইল ফটো

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

আলফা গেরিলাদের প্রশিক্ষণ চলছে, ফাইল ফটো

উত্তরপূর্ব ভারতের রাজ্য আসামে সন্দেহভাজন আলফা জঙ্গিদের হামলায় তিনজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

তিনসুকিয়া জেলার পেঙরির ওই ঘটনায় সেনাবাহিনীর আরও চারজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।

বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলফার সামরিক প্রধান পরেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন যে অংশটি ভারত সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনার বিরোধিতা করে আলফা (ইন্ডিপেন্ডেন্ট) নামে পরিচিত হয়েছে, তাদেরই সদস্যরা এই হামলা চালিয়েছে বলে সেনা এবং পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করছেন।

সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলছেন, শনিবার ভোরের দিকে ঘন জঙ্গল এলাকা দিয়ে যখন সেনাবাহিনীর একটি কনভয় যাচ্ছিল, তখন প্রথমে একটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

গাড়িগুলি থেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জঙ্গিরা ব্যাপক গুলিবর্ষণ শুরু করে।

সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়, কিন্তু জঙ্গিরা জঙ্গলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

তাদের খোঁজে গোটা এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। ব্যবহার করা হচ্ছে হেলিকপ্টারও।

আসামের সার্বভৌমত্বের দাবীতে প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে লড়াই করছে সশস্ত্র সংগ্রামে বিশ্বাসী এই সংগঠনটি।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

আলফা গেরিলা, ফাইল ফটো

তবে কয়েক বছর আগে আলফার চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজ-খোয়াসহ শীর্ষ নেতৃত্বের একটা বড় অংশ আত্মসমর্পণ করে ভারত সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালাচ্ছেন। কিন্তু সংগঠনটির সামরিক প্রধান পরেশ বড়ুয়া তাঁর অনুগামীদের নিয়ে পৃথক সংগঠন গড়ে তুলেছেন এবং উত্তরপূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যের জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে যৌথ মঞ্চও গড়েছেন।

সংগঠন পৃথক হয়ে যাওয়ার ফলে আলফার জন-ভিত্তি এবং অস্ত্র সম্ভার যেমন কমেছে, তেমনই কমেছে তাদের তহবিল সংগ্রহ।

দীর্ঘদিন পরে তারা আসামে অবস্থিত সেনাবাহিনীর ওপরে হামলা চালালো।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার জন্যই দীর্ঘদিন পরে সেনাবাহিনীর ওপরে এই হামলা চালিয়েছে আলফা।