রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধের দাবিতে মিয়ানমার দূতাবাসে হেফাজতের স্মারকলিপি

  • রাকিব হাসনাত
  • বিবিসি বাংলা, ঢাকা
রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা ও নির্যাতন বন্ধোর দাবিতে হেফাজতে ইসলাম

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা ও নির্যাতন বন্ধোর দাবিতে হেফাজতে ইসলাম

মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর হাতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা ও নির্যাতন বন্ধের দাবিতে ঢাকায় মিয়ানমার দূতাবাসে স্মারকলিপি দিয়েছে ইসলামপন্থী সংগঠন হেফাজত ইসলাম। তবে তাদের দূতাবাস অভিমুখে মিছিলের কর্মসূচি পুলিশী বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে।

রাখাইনে রোহিঙ্গা হত্যা বন্ধের দাবিতে ঢাকায় মিয়ানমার দূতাবাসে স্মারকলিপি দিতে যাওয়ার আগে ঢাকার পল্টনে বায়তুল মোকাররম মসজিদ চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করে হেফাজতে ইসলাম।

সমাবেশে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের জন্য মিয়ানমারকে দায়ী করে দেশটির তীব্র সমালোচনা করেন।

একই সাথে রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার বন্ধে তারা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি দাবি জানান।

আরও পড়তে চাইলে :

সমাবেশের পর হেফাজত ইসলামের মিছিল স্মারকলিপি দেয়ার উদ্দেশ্যে গুলশানে মিয়ানমার দূতাবাস অভিমুখে রওনা দিলেও বায়তুল মোকাররম মসজিদের একশ গজের মধ্যেই তাদের আটকে দেয় পুলিশ।

পুলিশী বাধার মুখে সেখানে কর্মসূচি শেষ করে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল দূতাবাসে গিয়ে রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধ ও তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা সহ ৫ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি হস্তান্তর করে।

হেফাজতে ইসলামের একজন নেতা মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াছেল বিবিসিকে জানান দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেছেন।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

প্রায় প্রতিদিনই বহু রোহিঙ্গা মুসলমান সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর চোখ এড়িয়ে ঢুকে পড়তে পারছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। ছবিটি টেকনাফের একটি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে তোলা। (ফাইল চিত্র)

মিস্টার ওয়াছেল বলেন, "মিয়ানমারে গণহত্যা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশে তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হোক। এ গণহত্যা বন্ধের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে যা যা করা দরকার তা করা হোক। দরকার হলে মিয়ানমারের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করা হোক। কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হোক"।

এবার রাখাইনে নির্যাতনের মুখে এ পর্যন্ত কী পরিমাণ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে তার কোন পরিসংখ্যান সরকারের হাতে নেই।

তবে জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা বলেছেন অন্তত ১০ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

আর দুমাস পরেও রাখাইনে সে পরিস্থিতিতে কোন পরিবর্তন আসেনি বলে জানাচ্ছেন কক্সবাজারে অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত মোহাম্মদ নুর ।

তিনি বলেন, "মংডুর লোকজন এখানে কীভাবে আসবে? বিজিবি মোতায়েন হয়ে আছে। এতোদিন তারা আসতে পারেনি। গত এক সপ্তাহে লোকজন আসতেই পারেনি। এখনো সেখানে গ্রামে গ্রামে আর্মি ঢুকে হামলা করছে"।

মিস্টার নুর জানান তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য এখনো রাখাইনে রয়েছেন এবং তাদের অনেকের সাথেই তিনি যোগাযোগ করতে পারছেন না।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

বায়তুল মোকাররমের সামনে বিক্ষোভরত হেফাজতের সমর্থকরা

আবার সীমান্তে কড়াকড়ির জন্য প্রাণ বাঁচাতে তারা বাংলাদেশেও আসতে পারছেন না।

তবে স্থানীয় সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ বলছেন সীমান্ত যতই নজরদারিতে থাকুক প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ মোটেও কমেনি।

তিনি বলেন, "রাতের বেলায় নাফ নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা আসছে। কয়েকটি পয়েন্টে রোহিঙ্গাদের একটি দলকে বিজিবি ফেরত পাঠিয়েছে"।

এদিকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা হত্যার প্রতিবাদে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে আরও একটি সংগঠন।

আর রাখাইনের রোহিঙ্গা নিধন বন্ধ না হলে আগামী ৫ ও ১২ই ডিসেম্বর মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাওয়ের কথা রয়েছে আরও দুটি একটি ইসলামপন্থী সংগঠনের।