পদ্মায় ধরা পড়া সম্ভবত ভারত থেকে ভেসে আসা মিঠে পানির কুমীরটি কি বাঁচবে

পদ্মায় ধরা পড়েছে সম্ভবত ভারত থেকে ভেসে আসা মিঠে পানির কুমীর ছবির কপিরাইট Nazmul Ahsan
Image caption পদ্মায় ধরা পড়েছে সম্ভবত ভারত থেকে ভেসে আসা মিঠে পানির কুমীর

বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে খুবই বিরল প্রজাতির যে কুমীরটি ধরা পড়েছিল, সেটিকে রক্ষার জন্য আবার নদীতেই ছেড়ে দিয়েছেন সরকারের বন্য প্রাণী বিভাগের কর্মকর্তারা।

গতকাল বুধবার উত্তরাঞ্চলীয় জেলা নাটোরে পদ্মা নদীতে প্রায় ছয় ফুট লম্বা এই মিঠে পানির কুমীরটি ধরা পড়ে।

বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে নোনা পানির কুমীর অনেক দেখা গেলেও, মিঠে পানির কুমীর চার দশকেরও বেশি আগে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

তবে বাংলাদেশের উজানে ভারতের গঙ্গা নদীতে এখনও প্রচুর মিঠে পানির কুমীর দেখা যায়।

তাই বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন এটি হয়তো সেখান থেকেই ভেসে এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড: আনোয়ারুল ইসলাম বলছেন ভারতে গঙ্গা অববাহিকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ এখনও অনেক প্রাণীর জন্য ভাল অবস্থায় রয়েছে। ফলে তিনি বলছেন মিঠে পানির কুমীর বাংলাদেশ অংশে বিলুপ্ত হয়ে গেলেও ভারতে এখনও তা বিলুপ্ত হয় নি।

এছাড়াও তিনি বলছেন ভারতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনের একটা দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং তা অনেকাংশে জোরদার।

"বাংলাদেশে আমরা পদ্মা নদীর প্রতি ইঞ্চি মাছের জন্য ছেঁকে নিই। তাছাড়া কুমীরকে সবসময় রোদ পোহানোর জন্য, ডিম পাড়ার জন্য নদীর পাড়ে যেতে হয়। তাদের আবাসস্থলটা এখানে মোটেই ভাল নেই।"

তিনি বলেন পদ্মা নদীর অনেক জায়গায় এখন চর পড়ে গেছে। তাছাড়া সারা বছর ধরে মানুষের সম্পদ আহরণের আয়োজন তাতে মানুষের সঙ্গে বন্য প্রাণীর সহাবস্থান অনেকটাই আশঙ্কার একটা জায়গায় দাঁড়িয়েছে।

অধ্যাপক ইসলাম বলছেন বাংলাদেশে মিঠে পানির কুমীরের আবার বংশবৃদ্ধি করতে হলে প্রথমেই মানুষের চেতনায় সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে - অর্থাৎ "কুমীরের সঙ্গে আমরা বসবাস করতে রাজি" এটা মেনে নিতে হবে।

বাংলাদেশ যেহেতু নদীমাতৃক ও নদীনির্ভর একটি দেশ - ফলে নদীর সঙ্গে মানুষের যে প্রাত্যহিক ব্যবস্থাপনা বা চলাফেরার সম্পর্ক, নদী সম্পদের উপর মানুষের যে নির্ভরতা তাতে করে তিনি বাংলাদেশে মিঠে পানির কুমীরের বংশ বিস্তারের সম্ভাবনা তেমন উজ্জ্বল নয় বলেই মনে করেন।

যে কুমীরটি পদ্মা নদীতে পাওয়া গেছে তাকে আবার পদ্মায় ছেড়ে দেওয়া হলেও একা সঙ্গীবিহীন অবস্থায় তার বাঁচার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ বলেই মনে মনে করছেন অধ্যাপক ইসলাম।

তিনি বলছেন গঙ্গার স্রোত এমন যে কুমীরটিকেএখন উজানে যেতে গেলে অনেক কষ্ট করতে হবে। তাই তাকে আবার পদ্মায় ছেড়ে দেওয়ার আগে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে দেখা উচিত ছিল।

সম্পর্কিত বিষয়

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর