এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

অভিনেত্রী তন্নিষ্ঠা চ্যাটার্জি: ব্রিক লেন ছবিতে অভিনয় যার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে

ভারতীয় সিনেমায় ১৩ বছর ধরে অভিনয় করছেন তন্নিষ্ঠা চ্যাটার্জি।

কেমিস্ট্রি নিয়ে পড়াশোনা করলেও অভিনয় আর গানবাজনার প্রতি ছিল টান। ভেবেছিলেন আর পাঁচটা বাঙালি মেয়ের মত বিজ্ঞানকেই পেশা করবেন । গানবাজনা আর অভিনয় করবেন শখে। কিন্তু হয়ে গেল উল্টো।

পড়াশোনা করতে করতে দিল্লিতে ন্যাশানাল স্কুল অফ ড্রামায় একটা কর্মশালায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন। সেইখানেই প্রশিক্ষকরা তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন পেশা হিসাবে মঞ্চজীবন বেছে নিতে।

২০০৩ সালে তার প্রথম বই ছিল স্বরাজ, যে বইয়ে তন্নিষ্ঠা প্রতিবন্ধী একটি মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। বইটি ভারতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়।

বেশ কিছু বিদেশী প্রযোজকের ও পরিচালকের বইয়ে তিনি অভিনয় করেছেন এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছেন।

এর মধ্যে জার্মান ছবি "শ্যাডোস অফ টাইম" তাকে প্রথম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র মহলে পরিচিত করে তোলে। বইটি টরন্টো ও বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়। এরপর তার অভিনীত ভারত ও ফ্রান্স যৌথ প্রযোজনার ছবি "হাওয়া আনে দে"-ও দেখানো হয় বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে এবং ডারবান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেটি শ্রেষ্ঠ ছবির পুরস্কার পায়। এই দুটি ছবিতেই অডিশন দিয়ে নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন তন্নিষ্ঠা।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption মনিকা আলির বই ব্রিক লেন অবলম্বনে তৈরি ছবিতে নাজনীনের ভূমিকায় অভিনয় করেন তন্নিষ্ঠা

কিন্তু তারপর ২০০৭ সালে তন্নিষ্ঠা মনিকা আলির কাহিনি "ব্রিক লেন" অবলম্বনে ব্রিটিশ ছবির নামভূমিকায় অভিনয় করেন। ব্রিটিশ ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড-এ সেরা অভিনেত্রীর জন্য তিনি মনোনীত হয়েছিলেন, যদিও খেতাবটি শেষ পর্যন্ত তাঁর ভাগ্যে জোটে নি।

কিন্তু তন্নিষ্ঠা বলেছেন এই ছবিতে অভিনয় ছিল তার জীবনের দারুণ এক অভিজ্ঞতা। সিলেটি গৃহবধূ নাজনীনের ভূমিকায় অভিনয় করার জন্য প্রস্তুতিনিতে ব্রিক লেনে সিলেটি পরিবারগুলোর সঙ্গে অনেকটা সময় কাটিয়েছিলেন তিনি।

চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার জন্য ব্রিটেনে সিলেটিদের জীবন ও তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেক কিছু তাকে জানতে হয়েছিল, যেটা একটা মস্ত বড় পাওয়া বলে মনে করেন তন্নিষ্ঠা।

"এমনকী খাওয়া দাওয়া, রান্না করা- দিনের পর দিন আমি অনেকের বাড়িতে থাকতাম। এরকম অনেক মহিলা যাদের নাজনীনের মত গল্প ছিল- তাদের সাথে বসে গল্প করা- তারা অনেক ওপেন-আপ করেছিল আমার কাছে।"

এসব মহিলাদের জীবনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নানা দিক জানতে পারা - "ওই পুরো অভিজ্ঞতাটা আমার জন্য ছিল দারুণ।"

তিনি বলেন এই ছবিটি তার অভিনয় জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

তন্নিষ্ঠা ভালবাসেন বাণিজ্যিক ধারার বাইরে কিছুটা বিকল্প ধারার ছবি করতে- যেসব ছবিতে অভিনয়ে নানাধরনের চ্যালেঞ্জ আছে বা নতুনত্ব আছে।

Image caption বিবিসি বাংলার লন্ডন স্টুডিওতে সাক্ষাৎকার দেন তন্নিষ্ঠা চ্যাটার্জি

তার সাম্প্রতিক দুটি বই অজয় দেবগানের প্রযোজনায় লিনা ইয়াদবের পরিচালনায় হিন্দি বই "পার্চড" এবং অস্ট্রেলিয়ান রোমান্টিক ছবি "আনইন্ডিয়ান" যাতে ব্রেট লির বিপরীতে অভিনয় করেছেন তন্নিষ্ঠা চ্যাটার্জি।

বাংলা ছবিতে তার অভিনয় করা হয়েছে খুবই কম। যদিও ২০০৫ সালে বিবর ছবিতে অভিনয় করে ভারতে দুটি পুরস্কার পান। বাঙালি হয়ে বাংলা ছবির সংখ্যা এত কম কেন?

"জানি না- বাংলা সিনেমা আমাকে কোনোদিন ডাকে না। ভাবে বোধহয় আমি শুধু ইন্টারন্যাশানাল কাজই করি- মুম্বাইতে থাকি- বাংলা হয়ত বলতে পারব না। কোনো ভাল ছবি আসলে আমি নিশ্চয়ই করব।"

হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নিয়েছেন তন্নিষ্ঠা। রোড, পেজ থ্রি-র মত অনেক ছবিতে নিজেই গান করেছেন। তবে গানকে পেশা হিসাবে নিতে চান নি। গান তার প্রাণের জিনিস- একলা থাকেন যখন তখন গান নিয়েই থাকতে ভালবাসেন - বলেছেন তন্নিষ্ঠা।

পাশ্চাত্ত্যের অপেরা সঙ্গীতও তিনি করেন। লন্ডনের বিখ্যাত রয়াল অপেরা হাউসে পাশ্চাত্ত্য শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন, যেটা খুবই সম্মানের বিষয়।

বিবিসি বাংলার লন্ডন স্টুডিওতে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মানসী বড়ুয়া।

সম্পর্কিত বিষয়