অবশেষে স্কুল পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলো ধর্ষিত সেই কিশোরীটি

এক কিশোরীর ছায়া ছবির কপিরাইট unk
Image caption চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষের দিকে কাজের লোভ দেখিয়ে ওই কিশোরীকে নিয়ে গিয়েছিলো প্রতিবেশী এক নারী। একদিন নিখোঁজ থাকার পর তাকে অচেতন অবস্থায় বাহুবলের একটি বাজারের ধারে রাস্তায় খুঁজে পায় স্থানীয় লোকজন।

বাংলাদেশের হবিগঞ্জে ধর্ষণের শিকার যে কিশোরী স্কুল কর্তৃপক্ষের বাধায় ক্লাস ও বছর শেষের ফাইনাল পরীক্ষা দিতে পারছিল না অভিযোগ উঠেছিল, সেই কিশোরীটি আজ উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে।

বাহুবলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বিবিসিকে জানিয়েছেন, মেয়েটি যেন সব পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে সে বিষয়েও স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে।

"পরীক্ষা ছাড়াও মেয়েটিকে ওপরের শ্রেনীতে উত্তীর্ণ করতে বাধা নাই বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের বলেছে। কারণ সে দ্বিতীয় সাময়িকে ভালো করেছিল"-বলছিলেন মি: ইসলাম।

কিশোরীটি যেন স্কুলে আর কোনও ধরনের বাধার মুখে না পড়ে সেদিকটাও নজর দেয়া হচ্ছে বলে জানাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

জুলাই মাসে ধর্ষণের শিকার হয় সপ্তম শ্রেণীর ওই কিশোরী।

ধর্ষণের ঘটনার পর তার পরিবারের করা এক মামলায় দু'জনকে স্থানীয় পুলিশ গ্রেফতারও করে।

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার প্রায় সব বিদ্যালয়ে বছর শেষে ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়েছে কয়েক দিন আগে।

কিন্তু ধর্ষণের শিকার হওয়া সপ্তম শ্রেণীর ওই ছাত্রীর পরীক্ষা দেয়া হচ্ছে না।

তার বাবা হরিধন চক্রবর্তী অভিযোগ করে বলেছিলেন, স্কুলের কর্তৃপক্ষ তার মেয়েকে ওই ঘটনার পর থেকে ক্লাসেও যেতে দেয়নি।

আরও পড়ুন:

ধর্ষিত কিশোরীকে ক্লাস করতে না দেওয়ার অভিযোগ

ছবির কপিরাইট Science Photo Library
Image caption ধর্ষণের ঘটনার পর ওই কিশোরীকে স্কুলে ক্লাস করতে দেয়া হচ্ছিল না বলে পরিবার অভিযোগ করেছিল। (ফাইল ছবি)

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলছেন "স্কুল কর্তৃপক্ষ মেয়েটার দোষ দেখিয়ে এমনটা করেছে। আর একটা গ্রাম্য রাজনীতির কারণে এমনটা ঘটেছে। এমনটা হওয়া উচিত নয়। আমরা এজন্য হস্তক্ষেপ করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন বিষয়টা দেখছি যেন পরিবার ও মেয়েটি কোন সমস্যার আর শিকার না হয়, মেয়েটির পড়ালেখা যেন হয় সে দায়িত্ব আমরা নিচ্ছে"।

স্কুল কর্তৃপক্ষ মেয়েটিকে পরীক্ষা দিতে দিচ্ছে না বিষয়টি জানাজানি হবার পর গতকাল সন্ধ্যায় আলোচনায় বসেন উপজেলা প্রশাসন, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের কর্মকর্তারা।

সকল আলোচনার পর মেয়েটি যেন বছর শেষের ফাইনাল পরীক্ষা দিতে পারে সেটি নিশ্চিত করা হয়।

আর আজ মেয়েটি পরীক্ষা দিতে পারায় সে এবং তার পরিবার খুবই খুশী বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে কিশোরীটির পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের আজ পাওয়া যায়নি।

সম্পর্কিত বিষয়

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর