ডোপিং কেলেঙ্কারিতে এক হাজারেরও বেশি রুশ অ্যাথলিট অভিযুক্ত

সচি অলিম্পিক রিং
ছবির ক্যাপশান,

সচি অলিম্পিক রিং

রাশিয়ান অ্যাথলেটিক্সে অবৈধ বলবর্ধক ওষুধ ব্যবহার নিয়ে তদন্তকারী দলের প্রধান বলেছেন রাশিয়ার অলিম্পিকস এবং প্যারালিম্পিকে এক হাজারেরও বেশি প্রতিযোগী অন্তত চার বছর ধরে নিয়মিতভাবে এসব ওষুধ ব্যবহার ও তা লুকিয়ে রাখার ব্যাপারে জড়িত ছিলেন।

তদন্ত দলের প্রধান রিচার্ড ম্যাকলারেন বলেছেন, বিষয়টি যাতে গোপন থাকে সেজন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একটা কৌশল গড়ে তোলার ব্যাপারে রুশ ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, মস্কোয় ড্রাগ পরীক্ষার গবেষণাগার এবং রাশিয়ার গুপ্তচর সংস্থা সকলেই ষড়যন্ত্রে অংশ নিয়েছে।

চূড়ান্ত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ায় রাষ্ট্রীয়ভাবে এই ডোপিং কর্মকাণ্ড চলে আসছে ২০১১ সাল থেকে।

প্রতিবেদনে ২০১৪ সালের সচিতে এবং ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকের কয়েকজন অ্যাথলিটকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

লন্ডন অলিম্পিকে ৭২টি এবং সচিতে শীতকালীন অলিম্পিকে মোট ৩৩টি পদক জয় করে রাশিয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার টিম লন্ডন অলিম্পিককে এমন মাত্রায় দুর্নীতিগ্রস্ত করেছে যার কোন নজির নেই। তদন্তকারীরা বলছেন, এমনকি কি মাত্রায় দুর্নীতি হয়েছে সেটাও হয়তো কখনো জানা যাবে না।

রাশিয়ার ডোপিং কেলেঙ্কারির ওপর এই তদন্ত পরিচালনা করে ডোপিং-বিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াডা।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ওষুধ গ্রহণের বিষয়টি রাশিয়া এমনভাবে ধামা চাপা দিয়েছে যা পদক জয়ের জন্যে প্রাতিষ্ঠানিক এক কৌশলে রূপ নিয়েছে।

ছবির ক্যাপশান,

প্রতিবেদনের মূল রচয়িতা রিচার্ড ম্যাকলারেন (মাঝখানের ব্যক্তি)

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এসব ক্রীড়াবিদরা যে নিজেদের উদ্যোগেই ড্রাগ নিয়েছেন তা নয়। এর পেছনে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাও রয়েছে। এমনকি এর সাথে রাশিয়ার গুপ্তচর সংস্থাও জড়িত।

তদন্ত দলের প্রধান বলেছেন, মেডেল জয়ের আকাঙ্ক্ষা সকল নৈতিকতা এবং অলিম্পিকের মূল্যবোধকে ছাড়িয়ে গেছে।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে রুশ কর্তৃপক্ষ থেকে এখনও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে এর আগে যখন প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছিলো তখন রাশিয়ার পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছিলো।