পুতিনের ঘনিষ্ঠজন হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

টিলারসন

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান,

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে রেক্স টিলারসন, ২০১২ সালে

জ্বালানি জায়ান্ট এক্সন মবিলের প্রধান নির্বাহী রেক্স টিলারসনকে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে বাছাই করার কথা নিশ্চিত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ক্রেমলিনের 'অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ' খেতাব পেয়েছেন।

বিতর্ক আপত্তি তোয়াক্কা না করেই ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ (মঙ্গলবার) নিশ্চিত করেছেন জ্বালানি কোম্পানি এক্সন-মবিলের প্রধান নির্বাহী রেক্স টিলারসন হবেন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এক বিবৃতিতে আমেরিকার ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট বলেন, মি টিলারসন দেশের সবচেয়ে সফল ব্যবসায়ী নেতা এবং সফলতম আন্তর্জাতিক 'ডিলমেকার' অর্থাৎ সমঝোতা-কারি।

মি টিলারসনের ব্যাপারে রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রাট উভয় দলের মধ্যেই উদ্বেগ রয়েছে।

তাদের উদ্বেগের প্রধান কারণ, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা।

মি টিলারসনের চেষ্টায় এক্সন-মবিল রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি কোম্পানি রোজনেফট-এ শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে।

তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে খোলাখুলি কথা বলেছেন।

আর সে কারণে ২০১৩ সালে ক্রেমলিন তাকে অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ খেতাবে ভূষিত করে।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান,

রেক্স টিলারসন ২০১৩ সালে ক্রেমলিনের কাছ থেকে অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ খেতাব পান।

প্রভাবশালী রিপাবলিকান সেনেটর জন ম্যাকেইন মি টিলারসনের মনোনয়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আর প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনয়নের যুদ্ধে মি ট্রাম্পের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কো রুবিও মন্তব্য করেছেন, মি পুতিনের বন্ধু হিসাবে যার খ্যাতি এমন কাউকে তিনি আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান না।

এমন এক সময় মি টিলারসনের মনোনয়ন নিশ্চিত করলেন মি ট্রাম্প যখন সিআইএ তাদের এক তদন্তে বলছে রাশিয়া বিভিন্নভাবে আমেরিকার নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে।

এ নিয়ে আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হলেও ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট যে এসব বক্তব্যকে কোনো গুরুত্বই দিচ্ছেন না, মি টিলারসনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি তা প্রমাণ করে দিলেন।

পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে মি টিলারসনের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তবে তিনি এমন একটি কোম্পানি চালান যেখানে ৭৫,০০০ কর্মচারী কাজ করেন এবং যে কোম্পানি ৫০টিরও বেশি দেশে ব্যবসা করে।