বার্লিন হামলা: পুলিশ এখন খুঁজছে ফেরারি তিউনিসীয়কে

ক্রিসমাস বাজারে হামলার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের কাছেও পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ক্রিসমাস বাজারে হামলার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের কাছেও পুলিশ পাহারা দিচ্ছে।

জার্মানির বার্লিন শহরের ক্রিসমাস বাজারে সোমবারের হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এখন একজন তিউনিসিয়ার নাগরিককে খুঁজছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে।

জার্মান বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে বলা হচ্ছে এই ব্যক্তির নাম আনিস। জন্ম দক্ষিণ তিউনিসিয়ার তাতাউইন শহরে। বয়স ২৪। সে অস্থায়ী অনুমতি নিয়ে বৈধভাবেই জার্মানিতে রয়েছে।

জানা যাচ্ছে, পুলিশ জার্মানির নর্থরাইন ওয়েস্টফালিয়া প্রদেশে অভিযান চালাচ্ছে। কারণ ট্রাকের ভেতর এই সন্দেহভাজনের যে পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে তাতে দেখা গেছে যে জার্মানিতে থাকার অনুমতিপত্র ঐ প্রদেশ থেকে ইস্যু করা হয়েছিল।

কিন্তু এসব তথ্য এখন পর্যন্ত কিন্তু জার্মান মিডিয়ার মাধ্যমেই পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি।

সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি গাড়ির মূল চালকের সঙ্গে ধ্স্তাধস্তির সময় আহত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়তে পারেন:

বার্লিনে লরি হামলার দায় স্বীকার করলো ইসলামিক স্টেট

প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখের সামনে দেখা ভয়াল অভিজ্ঞতা

তবে বিল্ড এবং অলগেমিয়েন যেইটুং নামে দুইটি জার্মান পত্রিকা অনুযায়ী সন্দেহভাজন এই তিউনিসীয়ের বয়স ২১ থেকে ২৩এর মধ্যে এবং সে বিভিন্ন ভুয়া নামে পরিচিত।

খবরে বলা হচ্ছে, ঐ ব্যক্তি ২০১২ সালে ইতালিতে যায় এবং সেখান থেকে ২০১৫ সালে জার্মানিতে যায়। জার্মানিতে আশ্রয় চেয়ে ঐ ব্যক্তি আবেদন জানায় এবং এবছর এপ্রিল মাসে তাকে সেখানে সাময়িকভাবে দেশটিতে থাকার অনুমতিপত্র দেওয়া হয়।

পুলিশ এই ব্যক্তি সম্পর্কে জানে। ভুয়া ইতালীয় পরিচয়পত্র বহন করার কারণে পুলিশ অগাস্ট মাসে তাকে কিছুদিনের জন্য আটক রাখে।

সন্দেহভাজন ঐ ব্যক্তি ইসলামী ধর্মপ্রচারক আহমাদ আবদেলআজিজ, যিনি আবু ওয়ালা নামেও পরিচিত, তার ঘনিষ্ঠ মহলে ঘোরাফেরা করত বলে গণমাধ্যমগুলো খবর দিচ্ছে। আবু ওয়ালাকে নভেম্বর মাসেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে যে পাকিস্তানিকে আটক করা হয়েছিল তাকে মঙ্গলবার বিকেলের দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এরপর সন্দেহভাজন হিসাবে যে তিউনিসীয়কে খোঁজা হচ্ছে হামলার সঙ্গে তার জড়িত থাকার ব্যাপারে পুলিশ কতটা নিশ্চিত এ প্রশ্নও উঠছে।

জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টমাস ডে মেযিয়ের বলেছেন তিনি নিশ্চিত খুব শীগগিরি হামলাকারীকে ধরা যাবে।

মঙ্গলবার রাত থেকেই পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল মূল অপরাধী হয়ত পালিয়ে বেড়াচ্ছে, এবং সে হয়ত সশস্ত্র। মানুষজনকে সাবধানে থাকতে বলা হচ্ছিল।

এখন ট্রাকটির ভেতর চালকের চেম্বারে আনিস নামে এই তিউনিসিয়ান যুবকের পরিচয়পত্র পাওয়ার পর জার্মান পুলিশ বলছে ট্রাকের ভেতর পাওয়া সমস্ত ডিএনএ স্যাম্পল পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেই সাথে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া সমস্ত তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।

ইসলামিক স্টেট যদিও হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে তাদের একজন জঙ্গী এই হামলা চালিয়েছে, কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কোনো তথ্যপ্রমাণ দেওয়া হয়নি।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption একমাত্র সন্দেহভাজনকে আটক করা হলেও তাকে মঙ্গলবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ পর্যন্ত কী জানা গেছে?

ট্রাকটি বাজারের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় মূল চালকের সঙ্গে হামলাকারীর ধস্তাধস্তি হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

পোল্যান্ডের নাগরিক লুকাস আরবানকে চালকের পাশের সিটে মৃত পাওয়া যায়। তার গায়ে গুলি ও ছুরির আঘাত ছিল।

জার্মাান সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে তদন্তকারীরা বলছেন ছুরিকাঘাতের পরও ঐ পোলিশ চালক স্টিয়ারিং হুইলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য লড়াই চালাচ্ছিল।

বিল্ড পত্রিকা একজন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছে চালকের ময়নাতদন্ত থেকে জানা যাচ্ছে হামলা চালানোর সময়ও সে জীবিত ছিল। এরপর ট্রাকটি থেমে গেলে তাকে গুলি করে মারা হয়।

কোনো বন্দুক ট্রাকের ভেতরে পাওয়া যায় নি।

"পোলিশ চালকের মুখ ফুলে গিয়েছিল এবং রক্তাক্ত ছিল। সে যে বাঁচার জন্য লড়ছিল তা স্পষ্ট।''

পুলিশ বলছে জনসাধারণের কাছ থেকে পাওয়া শত শত সূত্রের ভিত্তিতে তারা এগোচ্ছে।

সম্পর্কিত বিষয়