নারায়ণগঞ্জে সুষ্ঠু নির্বাচনের পেছনে কারণ কী

  • কাদির কল্লোল
  • বিবিসি বাংলা, ঢাকা
ছবির ক্যাপশান,

ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা

বাংলাদেশে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে এককভাবে নির্বাচন কমিশনের কোন কৃতিত্ব নেই, বরং সরকারের সদিচ্ছাই নির্বাচন সুষ্ঠু হবার পেছনে বড় কারণ ছিল বলে তাদের মনে হয়েছে।

বড় কোন অনিয়মের অভিযোগ ছাড়াই অনুষ্ঠিত গতকালের (বৃহস্পতিবার) এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বিরোধী দল বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেনকে পরাজিত করেছেন।

বিশ্লেষকদের অনেকে বলেছেন, এমন নির্বাচন করে সরকার সম্ভবত তাদের অধীনেও যে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে , এমনই একটা রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হলো কীভাবে, এর পিছনে রহস্য কী, এখন এই প্রশ্নেই আলোচনা সব জায়গায়।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এবং নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে একক কৃতিত্ব দিতে রাজি নন।

ছবির ক্যাপশান,

বিজয়ী আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী

মি: আহমেদ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন রুটিন কাজগুলোই করেছে। সরকার একটা ইতিবাচক অবস্থান নেয়ার কারণে এই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে তাঁর ধারণা।

২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির একতরফা সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এছাড়াও গত তিন বছরে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাসহ যেসব নির্বাচন হয়েছে সেসব নির্বাচন নিয়েও অনেক প্রশ্ন রয়েছে।

এই নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ফেব্রুয়ারিতে।

শেষ সময়ে এসে এই কমিশন নিজেরা উদ্যোগী হয়ে শক্ত অবস্থান নিয়ে নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন সুষ্ঠু করেছেন,এমনটা মনে করেন না সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, সরকারের সদিচ্ছার পাশাপাশি বিরোধী দল বিএনপিসহ অংশগ্রহণকারী সকলের সহযোগিতায় নির্বাচন সুষ্ঠু করা সম্ভব হয়েছে।

"সরকার এবার নির্বাচন কমিশনকে সবদিক থেকে সহযোগিতা করেছে। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া কমিশনের পক্ষে এককভাবে ভাল নির্বাচন করা সম্ভব হয় না," বলেন মি. হোসেন।

নারায়ণগঞ্জে সুষ্ঠু নির্বাচনের পর বর্তমান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদও সকলের সহযোগিতার বিষয়কে তুলে ধরেছেন।

ইংরেজি দৈনিক দ্য নিউজ টুডে'র সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সরকারের ইতিবাচক ভূমিকার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বার্তা আছে বলে তিনি মনে করেন।

"আগের নির্বাচনগুলো যেভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, সেখান থেকে সরকার হয়তো বেরিয়ে আসতে চায়। আরেকটা হতে পারে, সরকার এখন রাজনীতিকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে চায় বা ভঙ্গুর নির্বাচনী ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে চায়। অথবা নারায়ণগঞ্জে আইভীর মতো ভাল প্রার্থী হওয়ায় সরকারের কনফিডেন্স ছিল। সবমিলিয়ে সরকার বা সরকারি দল একটা বার্তা দিতে চেয়েছে।"

বিএনপি সাধারণ নির্বাচন পরিচালনার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে এখনও সরে আসেনি।

ছবির ক্যাপশান,

বিএনপি প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন

এখন নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের প্রশ্নেও দলটি তাদের প্রস্তাব তুলে ধরেছে।

সেই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, সরকার এই বার্তাই দিতে চেয়েছে বলে বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও ঐ বক্তব্যকে আবারও সামনে আনছেন।

তবে রিয়াজউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, যেই জিতুক না কেন, নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে প্রধান দুই দলেরই লাভ হয়েছে।

"২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে নির্বাচন নিয়ে মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছিল। এখন মানুষের আস্থা ফেরত আসবে। ফলে দুই দলেরই লাভ হয়েছে," বলেন তিনি।

বিশ্লেষকরা এটাও বলছেন, সরকারের রাজনৈতিক কৌশল যাই থাকুক না কেন, এখন নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন উদাহরণ হিসেবে আসবে সামনের যেকোন নির্বাচনের ক্ষেত্রে।