ইংল্যান্ডে বাঙালি এলাকায় জাল ভোট কেলেঙ্কারির জেরে বদলে যাচেছ ভোটের নিয়ম

ছবির কপিরাইট PA
Image caption ভোটকেন্দ্রে পরিচয়পত্র দেখানোর বিধি আসছে ইংল্যান্ডে

ভোট দিতে পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক করা হচেছ ইংল্যান্ডে।

২০১৮ সাল থেকে বার্মিংহাম এবং ব্রাডফোর্ড সহ প্রধানত দক্ষিণ এশীয় অধ্যুষিত এলাকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন এই বিধি পরীক্ষামূলক-ভাবে কার্যকর করা হবে।

ভোট দিতে যাওয়ার সময় ভোটারদের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং পাসপোর্টের মত ছবি সহ পরিচয়পত্র সাথে নিতে হবে।

ব্রিটেনের সংবিধান বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস স্কিডমোর বলেছেন, "নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষর আস্থা ধরে রাখার জন্য এটি জরুরী হয়ে পড়েছে।"

২০১৫ সালে লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস্‌ কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির এক কেলেঙ্কারির সূত্র ধরে নতুন এই বিধি আসছে।

টাওয়ার হ্যামলেটস্‌ কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক লুৎফর রহমান।

কিন্তু তার বিরুদ্ধে নানা উপায়ে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। আদালতেও লুৎফর রহমান দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

ঐ ঘটনার পরপরই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ভোট পদ্ধতি পর্যালোচনার জন্য একটি কমিশন গঠন করেন।

এক বছর ধরে কাজ করে সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এরিক পিকলসের তত্বাবধানে ঐ কমিশন আগস্ট মাসে তাদের রিপোর্ট দেয়।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption লুৎফর রহমান। ভোট কেলেঙ্কারিতে ক্ষমতা হারিয়েছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক এই মেয়র।

রিপোর্টে খোলাখুলি ইংল্যান্ডের বাংলাদেশি এবং পাকিস্তানী অভিবাসী এলাকায় নির্বাচনী অনিয়মের কথা বলা হয়।

মন্তব্য করা হয় - "রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতার বিবেচনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাকিস্তানী এবং বাংলাদেশিদের মধ্যে এই অনিয়ম জালিয়াতির বিষয়টি ইচ্ছা করেই অগ্রাহ্য করা হয়।"

এরিক পিকলসের ঐ রিপোর্টেই ভোটারদের জন্য পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়।

পোস্টাল ব্যালট অর্থাৎ ডাকে ভোট দেওয়ার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া ভোটারদের ওপর চাপ বা হয়রানি বন্ধের জন্য ভোট কেন্দ্রগুলোর আশপাশে পুলিশ মোতায়েনের সুপারিশ করা হয়।

সম্পর্কিত বিষয়

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর