২০১৬ সাল: ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি ও নাসিরনগর হামলাসহ বহু ঘটনা বছরজুড়ে আলোচনায়

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption পুরনো ঢাকায় সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে ১১ই মে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়

শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসিকার্যকর

শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয় কয়েক বছর ধরে। তবে ২০১৬ সালেই জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামী এবং দলটির অর্থের মূল যোগানদাতা হিসেবে পরিচিত মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়। আর এর মধ্য দিয়েই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের অধ্যায় শেষ হয়।

মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করা হয় ১১ই মে দিবাগত রাত বারটা দশ মিনিটে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার মতো আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি বহাল ছিল সর্বোচ্চ আদালত থেকে।

তিনি ১৯৭১ সালে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা হিসেবে পাকিস্তানী বাহিনীর সহযোগী আল বদর বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন।

এই মিলিশিয়া বাহিনীর বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর সব মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এই আল বদর বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের নেতা ছিলেন মীর কাসেম আলী। তার ফাঁসি কার্যকর করা হয় গত ৩রা সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে দশটায়।

এই দু'জনের আগে ২০১৫সালে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোঃ মুজাহিদ এবং মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption মতিউর রহমান নিজামী

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শেষ করে প্রথমে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল ২০১৩ সালে। তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই বিদেশে জামায়াতের নিয়োগ করা লবিষ্টের তৎপরতার কারণে সরকারকে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলা করতে হয়েছে।

তবে সর্বশেষ ২০১৬ সালে মতিউর রহমান নিজামী এবং মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর করার সময় আন্তর্জাতিক চাপ অনেক বেশি ছিল বলে বলছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

"অনেক রাষ্ট্রপ্রধান,অনেক রাষ্ট্রের শক্তিশালী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং একপর্যায়ে জাতিসংঘের মহাসচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেছিলেন, যাতে যুদ্ধাপরাধীদের সাজা কার্যকর করা না হয়।জনগণ যেহেতু এসব রায় কার্যকর করার পক্ষে ছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন। সেজন্য তিনি কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করেন নাই।"

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের প্রত্যেকের অধিকার নিশ্চিত করে এবং স্বচ্ছতার সাথে এই বিচার হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।

শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের অধ্যায় শেষ হওয়ার পর যদিও মাঠ পর্যায়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অব্যাহত রাখা হয়েছে। কিন্তু এই ইস্যুতে আলোচনা স্তিমিত হয়ে যায়।

Image caption বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ থেকে তুলে নেয়া হয় দশ কোটি ডলারের বেশী অর্থ

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি

আলোচনায় আবারও উঠে আসে বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় অংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা।

বছরের প্রথম দিকে অর্থাৎ গত ফেব্রুয়ারি মাসে দশ কোটি দশ লাখ ডলার রিজার্ভ চুরি হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে। কিন্তু ঘটনার এক মাস পর বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি প্রকাশ করলে তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

তখন ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান চাপের মুখে পড়েন। এমন প্রেক্ষাপটে গত ১৫ই মার্চ তিনি পদত্যাগ করেন। তখন তিনি প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন- চাপের কারণে নয়, তিনি নিজে থেকেই সরে গেলেন।

কিন্তু সে সময় আতিউর রহমানের সাথে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের পুরনো বিরোধ প্রকাশ পেয়েছিল। সে সময় অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, আতিউর রহমান গভর্নরের পদ থেকে সরে যাওয়ার পিছনে তাঁরও চাপ ছিল।

রিজার্ভ চুরির ঘটনার মামলায় সিআইডি পুলিশ তদন্ত করছে। সাবেক গভর্নর মোঃ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি কমিটি একমাস তদন্তের পর তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেই রিপোর্ট প্রকাশ না করায় তা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। সরকার দেশে তদন্ত করার পাশাপাশি অর্থ উদ্ধারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার কথাও বলছে। কিন্তু চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তায় দুর্বলতার প্রশ্ন ওঠে।

Image caption বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লোপাটের ঘটনার পর পদত্যাগ করেন গভর্নর আতিউর রহমান

একজন সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ মনে করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

"যেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছে। সে কারণে ব্যাংকিং সেক্টর তদারকির তাদের দায়িত্বের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। এই তদারকি শিথিল হলে পুরো ব্যাংকিং সেক্টর অস্থির হয়ে যায়। যেসব দুর্নীতি ঘটছে, সেটা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকে হাত যতটা প্রসারিত করার প্রয়োজন ছিল, সেটা তারা করতে পারছে না।"

চুরি যাওয়া অর্থের বড় অংশ আট কোটি দশ লাখ ডলারই চলে যায় ফিলিপিনে। এর ফেরত পাওয়ার প্রশ্নে বছর জুড়েই আলোচনা ছিল। যদিও এর কিছু অর্থ ফেরত পাওয়া গেছে। কিন্তু সিংহভাগ অর্থ ফেরত আনতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি দল গত নভেম্বরে ফিলিপিন সফর করেছে। ফেরত পাওয়ার প্রশ্নে কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি।

খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ মনে করেন,তদন্তের নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভিতরে এক ধরণের ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। পরিস্থিতির ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রনালয়ের পদক্ষেপ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

"মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ করার জন্যে অর্থমন্ত্রী দুই বার তারিখ দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রকাশ করেননি। দেশের স্বার্থে রিপোর্ট প্রকাশ নাও করতে পারেন। কিন্তু তা নিয়ে তারিখ দিয়ে খেলা করার প্রয়োজন ছিল না। এমন অনেক পদক্ষেপ বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে।"

Image caption প্রকল্পের স্থানটি সুন্দরবনের কাছে হওয়ায় এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে পরিবেশবাদীরা

ভারতের সাথে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ বিতর্ক

রিজার্ভ চুরির ঘটনার পাশাপাশি রামপালে ভারতের সাথে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক চলেছে সারা বছর ধরে ।

বামপন্থী দলগুলোর নেতা-কর্মী সমর্থক এবং সমমনাদের একটি ফোরাম তেল গ্যাস-বন্দর বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটি সুন্দরবনের কাছে রামপাল অভিমুখে লংমার্চ করেছিল গত মার্চ মাসে।

গত নভেম্বরে তারা সারাদেশ থেকে তাদের সমর্থকদের এনে ঢাকায় সমাবেশ করেছে। তারা তাদের অবস্থানের পক্ষে বিভিন্ন পেশার মানুষেরও সমর্থন পাওয়ার কথা বলছেন।

বিরোধিতা বা সমালোচনার মুখেও রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াটের যৌথ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ব্যাপারে ঢাকায় বাংলাদেশ সরকার এবং ভারত সরকার মুল নির্মাণ চুক্তি সই করেছে গত জুলাই মাসে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও এর পক্ষে সরকারের শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরে আসছেন। এমন অবস্থানের পিছনে সরকারের যুক্তি ধোপে টিকছে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম।

"সরকারের অনেক যুক্তি আছে। কিন্তু সেগুলো ধোপে টিকছে না। সেজন্য অন্য যুক্তি যেগুলো আসছে,সেগুলো সরকারের বিবেচনা করা উচিত।"

সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরত্বে রামপালে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হলে বন ধ্বংস হবে বলে আন্দোলনকারীরা বলছেন।

Image caption নাসিরনগরে ওই হামলায় হিন্দুদের মন্দিরও ভাংচুরের শিকার হয়েছে

সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বিদ্যুতের উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাকে যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে। উন্নয়ন এবং পরিবেশ নিয়ে বিতর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারের উদ্যোগের ব্যাপারে তাগিদ বেড়েছে বলে মনে করেন সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম।

"উন্নয়ন নাকি পরিবেশ,এ বছর অত্যন্ত অপ্রয়োজনীয় এই বিতর্ক চলেছে। উন্নয়ন আমরা চাই।সুন্দরবন ধ্বংস করবে, এমন উন্নয়ন আমরা চাই না।"

নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়ি মন্দিরে হামলা

রামপাল নিয়ে বিতর্কের মাঝেই নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়ি এবং মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালে দেশের কয়েকটি জায়গায় হিন্দুদের মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ছোটখাটো ঘটনা ঘটেছিল।

কিন্তু গত ৩১শে অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরত্বে নাসিরনগরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। সেখানে হিন্দুদের অন্তত পাঁচটি মন্দির এবং বহু ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয় মুসলমানদের কাবাঘরের জন্য অবমাননাকর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার জের ধরে।

হামলার সেই ঘটনার আগে হেফাজতে ইসলাম এবং আহলে সুন্নত নামের দু'টি সংগঠন নাসিরনগরে সমাবেশ করেছিল কাবাঘরের অবমাননার অভিযোগ তুলে।

ছবির কপিরাইট ALJAZEERA
Image caption পুলিশ ঘর-বাড়িতে আগুন দিচ্ছে, এমন একটি ভিডিও প্রচার করে আলজাজিরা

সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ হয় ,ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় দু'টি গোষ্ঠীর বিরোধ এই হামলার অন্যতম কারণ হতে পারে। আওয়ামী লীগ তা অস্বীকার করেছে।

মামলায় তদন্ত করলেও বড় ধরণের হামলার ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিন্দুদের মধ্যে ভয় তৈরি হয়েছে। তবে হামলার ঘটনার বিরুদ্ধে সারাদেশে ব্যাপক প্রতিবাদ হয় এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।

গাইবান্ধায় সাঁওতাল উচ্ছেদ

নাসিরনগরের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তরাঞ্চলীয় জেলা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলে বিরোধপূর্ণ জায়গা থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করা হয়। সেই ঘটনায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে গুলিতে কমপক্ষে তিনজন নিহত এবং অনেকে আহত হয়।

সাঁওতালদের দেড় হাজারের মতো বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট করা হয়েছিল। এর বিরুদ্ধেও সারাদেশে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়।

এই ঘটনায় ক্ষেত্রেও সরকার এবং প্রশাসন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।

Image caption সাঁওতালদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

বাড়িঘরে আগুন লাগিয়েছিল কারা, সেই প্রশ্ন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তবে আল জাজিরা টেলিভিশন একটি ভিডিও প্রচার করেছে। তাতে দেখা যায়, উচ্ছেদের সময় সংঘর্ষ বেঁধে গেলে পুলিশ গুলি চালাচ্ছে।একপর্যায়ে পুলিশ সাঁওতালদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। এই ভিডিও নিয়ে গণমাধ্যমে এবং সামাজিক নেটওয়ার্কে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

নাসিরনগর এবং গোবিন্দগঞ্জের , দু'টি ঘটনার ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায় বলে মনে করেন মানবাধিকার সংগঠক সুলতানা কামাল।

"ধারাবাহিকভাবে পরিকল্পনা করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতি একটা অসহিষ্ণুতাকে প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে। এখন অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির পক্ষের সরকারও সেখানে দৃঢ় কোনো অবস্থান দেখাচ্ছে না।"

তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া এবং সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা সরকার বলছে। কিন্তু সুলতানা কামাল মনে করেন, সংখ্যালঘুদের বিশ্বাসের জায়গায় জায়গায় একটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সে বিষয়ে রাষ্ট্রকে নজর দিতে হবে।

যে ইস্যুগুলো আলোচিত হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা শেষ হয়ে যায়নি। এর প্রভাব নতুন ইংরেজি বছরেও থাকবে, সেটা নি:সন্দেহে বলা যায়।

সম্পর্কিত বিষয়

বিবিসির অন্যান্য সাইটে