প্রকাশ্যে মলত্যাগ: দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল ট্রেন

Image caption ভারতে ৫০ কোটিরও বেশী মানুষ খোলা স্থানে মলত্যাগ করে, ফাইল ফটো

ভারতে প্রকাশ্যে মল-মূত্র ত্যাগ যে বড় ধরনের সমস্যা, সেটা দেশের সরকার স্বীকার করতে শুরু করেছে বেশ কয়েকবছর আগেই।

একদিকে যেমন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুরু করেছেন স্বচ্ছ ভারত অভিযান, অন্যদিকে, গ্রামে গ্রামে টয়লেট তরির জন্য অনুদান দেওয়া হচ্ছে, তেমনই ভোরবেলায় গ্রামে গিয়ে নজরদারি আর খোলা মাঠে মল-মূত্র ত্যাগ না করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

কিন্তু সেই প্রকাশ্যে মলত্যাগ যে উপকারেও লাগতে পারে, এটা কেউই ভাবে নি!

প্রকাশ্যে মলত্যাগের অভ্যাস সম্ভাব্য দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করেছে এক ট্রেন ভর্তি যাত্রীকে।

সোমবার সকালে বীরভূম জেলায় প্রকাশ্যে মলত্যাগের এই অভাবনীয় দিকটি সামনে এসেছে।

আরো পড়ুন: বাংলাদেশে পাঠ্যবই: 'ও-তে ওড়না' বিতর্ক

শান্তিনিকেতন- বোলপুর শহরের কাছেই বর্ধমান-বারহারোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি তিন স্থানীয় কিশোরের সাহায্যে রক্ষা পেয়েছে দুর্ঘটনার হাত থেকে।

স্থানীয় সূত্রগুলি বলছে, বোলপুরের সুরশ্রী পল্লীর বাসিন্দা তিন কিশোর - সুব্রত বাগদি, প্রকাশ দাস আর বিষ্ণু তুরি রোজকারের অভ্যাস মতোই রেললাইনে প্রাতঃকৃত্য সারতে গিয়েছিল।

সকাল তখন আটটার মতো।

তখনই তাদের চোখে পড়ে যে লাইনের প্রায় দেড় ইঞ্চি ফাটল রয়েছে।

তারা নিজেদের 'কাজ' ফেলে বাড়িতে ছুটে যায়।

ওই জায়গাটি বোলপুর আর প্রান্তিক স্টেশনের মাঝামাঝি।

বাড়ি থেকে লাল গামছা নিয়ে দৌড়ে ফিরে আসে তারা। ততোক্ষণে প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি কাছাকাছি-ই চলে এসেছে।

লাল গামছার সঙ্কেত খেয়াল করে যখন চালক ট্রেনটিকে পুরোপুরি থামাতে সক্ষম হন, ততক্ষণে ট্রেনের সামনের দিকের দুটি কামরা ওই ফাটল পেরিয়ে গেছে।

চালকই রেল কর্মীদের খবর দেন। ফাটল সারিয়ে ট্রেন চালু হয় প্রায় পঁচিশ মিনিট পরে।

Image caption ভারতে প্রকাশ্যে মল-মূত্র ত্যাগ যে বড় ধরনের সমস্যা, সেটা দেশের সরকার স্বীকার করতে শুরু করেছে

পূর্ব রেলের মুখপাত্র রবি মহাপাত্র বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, "তিন কিশোরই প্রথম ফাটলটা লক্ষ্য করেছিল। তাদের জন্যই দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ট্রেনটি।

তবে তারা সকাল বেলায় রেললাইনের ধারে কী করছিল, সেটা বলতে পারব না!"

আরো পড়ুন: পশ্চিমা পোশাক পরলে এরকম হবেই: ভারতীয় মন্ত্রী

ভারতের উত্তর প্রদেশে সম্প্রতি দুটি রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে লাইনে ফাটলের কারণে।

শীতকালে এধরনের ফাটল ধরা যে স্বাভাবিক, সেটা মেনে নেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে তার জন্য নিয়মিত নজরদারি থাকার কথা - যাতে ফাটল ধরা লাইনের ওপরে কোনও ট্রেন না চলে আসে।

কিন্তু সেই নজরদারির অভাব বারে বারেই প্রকট হয় কোনও রেল দুর্ঘটনার পরেই।

সম্পর্কিত বিষয়

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর