গুলশান মার্কেটে আগুন: নাশকতার অভিযোগ

  • কাদির কল্লোল
  • বিবিসি বাংলা, ঢাকা
অগ্নিকাণ্ডে মার্কেটের একটি অংশ ধসে পড়েছে

ছবির উৎস, focus bangla

ছবির ক্যাপশান,

অগ্নিকাণ্ডে মার্কেটের একটি অংশ ধসে পড়েছে

বাংলাদেশে ঢাকার অভিজাত গুলশান এলাকায় সিটি কর্পোরেশন মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পরিকল্পিত নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা সেটা খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মার্কেটটির ব্যবসায়ীদের অনেকে অভিযোগ করেছেন,বহুতল ট্রেড সেন্টার নির্মাণের কথা বলে এই মার্কেট ভেঙে ফেলার একটা চেষ্টা ছিল, তার মধ্যেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।

তবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এই অগ্নিকাণ্ডকে প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনা বলে বর্ণনা করেছেন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত দু'টায় আগুন লাগার ১৫ ঘণ্টারও বেশি সময় পর দমকল বাহিনী তা মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

এই আগুনে ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। তবে কোনো প্রাণহানি হয়নি।

আগুন লাগার পর মার্কেটে ভবনের একটা অংশ ধসে পড়েছে।

ছবির উৎস, focus bangla

ছবির ক্যাপশান,

গুলশান মার্কেটে আসবাবপত্র বা ফার্নিচারের দোকান বেশি ছিলো

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের অন্য অংশের ব্যবসায়ীরা যে যার দোকান থেকে মালামাল বের করে এনে রাস্তার ওপর রাখছেন।

তারা চেষ্টা করছিলেন আগুনের হাত থেকে অন্তত কিছু মালামাল রক্ষা করা যায় কিনা।

মার্কেটে একদিকে কাঁচা বাজার আর অন্যদিকে কাপড়, কসমেটিকস এবং গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন জিনিস পাওয়া যেতো।

তবে এখানে আসবাবপত্র বা ফার্নিচারের দোকান বেশি ছিলো।

ব্যবসায়ীরা আগুন লাগার পর পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়ায় ফায়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

একজন ব্যবসায়ী বলেছেন, "ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা তাদের গাড়িতে আনা পানি শেষ হওয়ার পর কাজ বন্ধ রেখেছিল। সে কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়। অথচ মার্কেটের দুই পাশে লেক ছিল। সেখান থেকে পানি নিতে তারা অনেক সময় নেয়।"

অনেক ব্যবসায়ী কিছু মালামাল রক্ষা করতে পেরেছেন। অনেকের মালামাল,পুঁজি সবই আগুনে পুড়ে গেছে।

ছবির উৎস, focus bangla

ছবির ক্যাপশান,

অনেকে অভিযোগ করছেন পরিকল্পনা করে আগুন লাগানো হয়েছে

তারা ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুলছেন।

তবে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন বিভাগের পরিচালক এ কে এম শাকিল নেওয়াজ কোনো অভিযোগ মানতে রাজি নন।

"মার্কেটটিতে দাহ্য পদার্থ এবং গ্যাস থেকে শুরু করে নানান ধরণের জিনিস ছিল। এছাড়া আগুন লাগার পর বিস্ফোরণ হয়ে মার্কেটের একটা অংশ ধসে পড়ে। আগুন নেভানোর কোনো যন্ত্র বা পানি কিছুই ছিল না। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে।"

মার্কেটটির ব্যবসায়ীরা এমন অগ্নিকান্ডের পিছনে ষড়যন্ত্রেরও অভিযোগ এনেছেন।

তারা বলেছেন,সাত বিঘা জমির ওপর এই মার্কেট ভেঙে ১৮তলা ভবন নির্মাণের জন্য ২০০৩ সালে সিটি কর্পোরেশন একটি কোম্পানির সাথে চুক্তি করেছিল।

ছবির উৎস, focus bangla

ছবির ক্যাপশান,

আগুন নেভাতে দমকল বাহিনীকে বেগ পেতে হচ্ছে

মার্কেটের দোকান মালিকদের পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।

কিন্তু তাদের উচ্ছেদের ব্যাপারে বিভিন্ন সময় হুমকি দেয়া হয়েছিলো।

সে কারণে এখন অগ্নিকাণ্ডের ব্যাপারে তাদের সন্দেহ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির একজন নেতা শেখ মো: হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, "নাশকতা বলছি এই কারণে যে, কয়েকবার আমাদের উচ্ছেদের চেষ্টা হয়েছে। আমাদের পুনর্বাসন না করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করতে চায়। সে কারণে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা নিয়ে আমাদের সন্দেহ।"

তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র আনিসুল হক বলেছেন, এটি নাশকতার কোনো ঘটনা নয় বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন।

"নাশকতার কোনো প্রমাণ আমার কাছে নেই। প্রাথমিকভাবে আমি মনে করি, এটা একটা দুর্ঘটনা। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে হতে পারে। তবে সিটি কর্পোরেশন এবং ফায়ার সার্ভিসের যৌথ তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে, এটি নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা।"

অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখন তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছেন।