বিমানযাত্রীর পেট থেকে পড়লো সোনার বিস্কুট

যাত্রীর পেটের এক্স-রে, ভেতরে সন্দেহজনক বস্তু ছবির কপিরাইট বাংলাদেশ শুল্ক গোয়েন্দা
Image caption যাত্রীর পেটের এক্স-রে, ভেতরে সন্দেহজনক বস্তু

প্রথমে চারটি সোনার বিকুট স্কচ টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে একটি কনডমে রাখা হয়।

তারপর কনডমটিকে আবার স্কচ-টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে পায়ুপথে প্রবেশ করানো হয়।

এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বর্ণ ভর্তি তিনটি কনডম নিজের পায়ুপথে প্রবেশ করান কুমিল্লার শরীফ আহমেদ।

উদ্দেশ্য ছিল, ঢাকার হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের শুল্ক গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্বর্ণ পাচার করা

কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ফ্লাইট অবতরণ করার ৩০ মিনিট আগে আকাশপথে বাথরুমে গিয়ে যাত্রী শরীফ মোহম্মদ কনডমগুলো পায়ুপথে প্রবেশ করান।

এজন্য মালয়েশিয়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন তিনি।

মালয়েশিয়া থেকে মালিন্দো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় আসেন। তিনি কুমিল্লার একটি বাজারে মুদি দোকানী।

শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তরের ফেসবুক পেইজে জানানো হয়েছে, আটককৃত ব্যক্তির কাছ থেকে ১২০০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা।

শরীফ আহমেদ গত ৩রা জানুয়ারি 'ব্যবসার কাজে' মালয়েশিয়া যান।

শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তর বলছেন ২০১৬ সালে তিনি ১০ বার বিদেশ ভ্রমণ করেন।

ছবির কপিরাইট বাংলাদেশ শুল্ক গোয়েন্দা
Image caption উদ্ধারকৃত সোনা

গত রাতে শাহ্‌জালাল বিমানবন্দরে নামার পর শুল্ক গোয়েন্দারা শরীফ আহমেদকে নজরদারিতে রাখেন।

গ্রিন চ্যানেল দিয়ে পর হয়ে যাবার সময় কর্মকর্তারা তাকে চ্যালেঞ্জ করেন।

এ সময় তার হাঁটা-চলায় অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কিন্তু শরীফ আহমেদ কোনভাবেই তার কাছে স্বর্ণ থাকার কথা স্বীকার করছিলেন না।

একপর্যায়ে সে ব্যক্তিকে এয়ারপোর্টের বাইরে উত্তরার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে তার এক্সরে করানো হয়। সে সময় তার পায়ুপথে তিনটি অস্বাভাবিক বস্তুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

কিন্তু তারপরও আটককৃত ব্যক্তি কোনভাবেই স্বর্ণ থাকার বিষয়টি স্বীকার করছিলেন না বলে জানান কর্মকর্তারা।

শুল্ক গোয়েন্দা অফিসের ফেসবুক পেইজে জানানো হয়, "গোয়েন্দাদের উদ্যোগে কর্তব্যরত ডাক্তার তলপেট কেটে স্বর্ণ বের করার জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিলে তিনি নমনীয় হন। অপারেশন ছাড়া স্বর্ণ বের করে দিবেন বলে ওয়াদা করেন।"

এরপর শুল্ক গোয়েন্দাদের উপস্থিতিতে টয়লেটের অভ্যন্তরে বিশেষ কায়দায় যাত্রী শরীফ আহমেদ পায়ুপথ দিয়ে ১২টি সোনার বিস্কুট বের করে আনেন।

এর আগেও শুল্ক গোয়েন্দারা শাহজালাল বিমনাবন্দরে স্বর্ণ মানবের সন্ধান পায়।

সর্বশেষ গত ১৭ অক্টোবর এক যাত্রীর রেক্টাম থেকে ৮টি সোনার বার উদ্ধার করে।

সম্পর্কিত বিষয়

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর