৫ই জানুয়ারি: 'বিএনপি একেবারেই ভুল করেনি'

  • আবুল কালাম আজাদ
  • বিবিসি বাংলা, ঢাকা
ছবির ক্যাপশান,

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে সহিংসতার ঝুঁকি প্রবল

বাংলাদেশে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর তিন বছর পার হয়েছে।

সেই নির্বাচনটি প্রধান বিরোধীদল বিএনপি বয়কট করেছিল।

একতরফা সেই নির্বাচনে জাতীয় সংসদের সদস্যদের অর্ধেকের বেশি সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

বিএনপির বয়কট, কম ভোটার উপস্থিতি এবং কিছু অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচনটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।

বিতর্কিত ওই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ বরাবর নির্বাচন কেন্দ্রিক বিতর্কের প্রশ্নে বিএনপিকেই দোষারোপ করে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "আইনগত দিক থেকে এই সরকারের বৈধতা নিয়ে কোনও সমস্যা নাই। বিএনপি যেহেতু আসে নাই সেজন্য এত সংখ্যক এমপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সন্ত্রাসের পথ বেছে নেয়া ছিল বিএনপির কৌশলগতভাবে ভুল সিদ্ধান্ত। এখন তারা সেটা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছে।"

মি. রাজ্জাক জানান, সবার অংশগ্রহণে আগামীতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার রয়েছে আওয়ামী লীগের। "আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। বর্তমান সরকার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে সমর্থন আছে এবং যে ধরনের কর্তৃত্ব দেশ পরিচালনায় রয়েছে তাতে আগামী নির্বাচন করতে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। এটি আমাদের সহযোগিতা করবে আগামী নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে।"

ছবির ক্যাপশান,

ড. আব্দুর রাজ্জাক

এদিকে নির্বাচনের তিন বছরেও বিএনপি জোট আগাম জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে জোরদার কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। সরকারকেও চাপে ফেলতেও তারা ব্যর্থ।

তবে ৫ই জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেয়া ভুল সিদ্ধান্ত ছিল সেটি মানতে নারাজ দলটি।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "বিএনপি একেবারেই ভুল করে নাই। পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে নির্বাচন কমিশনের যে ভূমিকা পালন করেছে, সেগুলোতো আমরা দেখেছি। এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে স্বীকার করতে হয়েছে উনি আর প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন দেখতে চান না। আজকে জাতি যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেখানে এই প্রেক্ষাপটে যে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না এটা সবাই জানে বাংলাদেশে।"

আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে মি. চৌধুরী বলেন, "আমরা বলছি জাতীয় মতৈক্যের পরিপ্রেক্ষিতে যেভাবে নির্বাচনকালীন সরকার এসেছিল বিগত দিনে, আজকেও জাতীয় আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন কীভাবে গঠিত হবে এবং নির্বাচনকালীন সরকারটা কী হবে সেটা ঠিক করতে হবে। জাতীর কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানের ক্ষেত্র আজকে তৈরি হয়েছে এবং দেশে বিদেশে সবাই সেটা প্রত্যাশা করছে।"

আইন অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনটিও অনুষ্ঠিত হবে বর্তমান সরকারের অধীনে।

রাষ্ট্রপতি গঠিত নতুন নির্বাচন কমিশন সে দায়িত্ব পালন করবে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ ছহুল হোসাইন বলেন, "যে পরিমাণ আইন আছে তা দিয়ে অত্যন্ত জোরালোভাবে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায়। এটা হয় তখন, যখন সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করে। এর জন্য সবচাইতে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে সরকারকে এবং সব রাজনৈতিক দলকে। এর সাথে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তাদের মধ্যেও সদিচ্ছা থাকতে হবে যে আমরা কোনো অবস্থাতেই আনফেয়ার মিনস অ্যাডপ্ট করব না। এটা না হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।"

ছবির ক্যাপশান,

মোহাম্মদ ছহুল হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার

নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি সংস্থা ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান বলেন, আগামী নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ হতেই হবে। এ জন্য এখন থেকেই আলোচনা শুরু করা দরকার।

"ডেমোক্রেসিতো চয়েস না, এটাতো মাস্ট। এটাকে আমাদের ধরে রাখতেই হবে। এবং ধরে রাখার জন্য এবং সুসংহত করে রাখার জন্য যা যা দরকার আমরা সমস্ত দায়িত্বশীল পার্টির কাছে সেটা আশা করি। তারা যেন এদিকটা খেয়াল রাখেন যে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবার অবশ্যই হতে হবে এবং তার জন্য একবারের জায়গায় দশবার ডিসকাশনে বসতে হবে ডায়ালগ হতে হবে।"