নির্মাণের কয়েকদিনের মধ্যেই ভেঙে পড়লো স্কুল ভবনের সিঁড়ি

ভেঙে পড়া সিঁড়ি

ছবির উৎস, Rez An Ul Basar

ছবির ক্যাপশান,

ভেঙে পড়া সিঁড়ি

বাংলাদেশের মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় স্কুল ভবন নির্মাণের কয়েকদিনের মধ্যে সিড়ি ভেঙে পড়ার পর সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন।

অভিযোগ উঠেছে, ভবন নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এমনকি এলাকাবাসী অনেকে অভিযোগ করে বলছে, এই ভবন নির্মাণে ইট-বালুর সাথে কোনও সিমেন্টের ব্যবহার হয়নি।

তবে ঠিকাদারদের একজন মোনায়েম হোসেন বলছেন, "ঠিকাদারি কাজে কোনও অনিয়ম হয়নি, মিস্ত্রিদের গাফিলতির কারণে এমনটা হয়েছে"।

অন্যদিকে সেখানকার ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হক ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও ঠিকাদারদের গাফিলতির কথা স্বীকার করেছেন।

শনিবার উপজেলার মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের নবীনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি ভেঙে পড়ে। এতে এক নির্মাণ শ্রমিক আহত হন।

নির্মাণাধীন ভবনের পাশেই আরেকটি পুরনো ভবনে নবীনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস করেন। গতকাল শনিবার যখন সিড়িটি ভেঙে পড়ে তখনও শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছিল।

স্কুল ক্যাম্পাসে নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শেষে শিক্ষার্থীদের এই ভবনেই চলে যাওয়ার কথা ছিল, যেটির সিঁড়ি ভেঙে যাওয়ায় নির্মাণ কাজ নিয়ে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে।

ছবির উৎস, Rez An Ul Basar

ছবির ক্যাপশান,

গাংনীর নির্মাণাধীন স্কুল ভবন, এটারই দোতলার সিঁড়ি ভেঙে পড়েছে।

যে এলাকায় স্কুল ভবনটি নির্মাণ হচ্ছে ওই এলাকারই বাসিন্দা নুরুজ্জামান মজনু বিবিসি বাংলাকে জানান, "সিমেন্ট, বালু-ইট সবকিছু ঠিকমতো মিলায়েতো কংক্রিট হয়। ওইখানে ভিতরেতো সিমেন্টই ছিলো না। মাটির মতো বড় বড় ঢেলার মতো পাথরের মতো ছিল, আপনে পা দিয়ে লাথি মারলে মাটির মতো ছিটে যাচ্ছে। সিমেন্ট না থাকলে জয়েন্ট হবে ক্যামনে, সিমেন্টইতো নাই"।

ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান মজনু আরও জানালেন নির্মাণের সময় তাদের কাছে সন্দেহ লাগলেও কিছু বলতে পারেননি কারণ ওই এলাকার নেতাই ভবনটি নির্মাণে ঠিকাদারের কাজ করছিল।