ভারতে ইংল্যান্ডের আসন্ন ক্রিকেট সিরিজ বাতিলে কর্মকর্তাদের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

  • শুভজ্যোতি ঘোষ
  • বিবিসি বাংলা, দিল্লি
ক্রিকেট , খেলা
ছবির ক্যাপশান,

আগামী রোববার শুরু হচ্ছে ইংল্যান্ড ও ভারতের ওয়ানডে সিরিজ। এটি বাতিলে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সে দেশের ক্রিকেট বোর্ডের যে কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে, তারা ইংল্যান্ডের সঙ্গে ভারতের আসন্ন ওয়ানডে সিরিজ 'অন্তর্ঘাত' করে বাতিল করার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট জাইলস ক্লার্কের লেখা একটি ই-মেইল ফাঁস হওয়ার পরই এই অভিযোগ সামনে এসেছে।

ভারতীয় বোর্ডের অপসারিত সচিব অজয় শিরকে মি ক্লার্কের সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে স্বীকারও করেছেন, তবে অন্তর্ঘাতের অভিযোগ তিনি মানতে চাননি।

ইংল্যান্ডের ঠিক পরই ভারতে খেলতে আসছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, তাদের সফর নিয়ে অবশ্য অনিশ্চয়তার কোনও কারণ নেই বলে আয়োজকরা দাবি করেছেন।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে এই নতুন কেলেঙ্কারির অভিযোগের পেছনে আছে জাইলস ক্লার্কের লেখা একটি মেইল - যেটি তিনি বিসিসিআইয়ের সিইও রাহুল জোহরি-কে লিখেছিলেন গত সপ্তাহে।

আগামী ১৫ই জানুয়ারি রবিবার থেকে ইংল্যান্ড ও ভারতের মধ্যে ওয়ানডে সিরিজ শুরু হতে যাচ্ছে, সেই সিরিজ নিয়ে আশঙ্কার কোনও কারণ আছে কি না, ভারতের কাছে সেটাই জানতে চেয়েছিলেন ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান।

আরও লিখেছিলেন, অজয় শিরকে নিজে তাকে ফোন করে কথা বলেছেন - তার পরই তিনি এই সিরিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

এখন এই ই-মেইল ফাঁস হওয়ার পরই প্রশ্ন উঠেছে, সুপ্রিম কোর্ট গত ৩ তারিখে মি শিরকে-কে বোর্ড সচিবের পদ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পরও তিনি কেন জাইলস ক্লার্ককে ফোন করে ইংল্যান্ড সিরিজ নিয়ে কথা বলতে গেছেন?

ছবির ক্যাপশান,

বামদিকে অজয় শির্কে এবং ডানদিকে জাইলস ক্লার্ক

আত্মপক্ষ সমর্থন করে অজয় শিরকে বলেছেন, "আমি বছরের বেশিটা সময় ইংল্যান্ডে থাকি - আর মি ক্লার্কের সঙ্গে আমার নিয়মিতই দেখা হয়, কথাবার্তা হয়। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের সময়ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের জেরে সঙ্কট তৈরি হয়েছিল, ক্রিকেটারদের বেতন-ভাতা কীভাবে দেওয়া হবে তা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল।"

"৩রা জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে সেটা নিয়েই জাইলস ক্লার্কের সঙ্গে আমি কথা বলেছিলাম। এখানে অন্তর্ঘাতের প্রশ্নই ওঠে না, বরং সব সমস্যা দূর করে সিরিজটা কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় আমার সেটাই চেষ্টা ছিল।"

কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট মহলে যারা অনুরাগ ঠাকুর-অজয় শিরকে জুটির অপসারণকে সমর্থন করছেন, তাদের বক্তব্য হল বোর্ড থেকে বিতাড়িত হওয়ার পরও ইংল্যান্ড সিরিজ নিয়ে তাদের কীসের মাথাব্যথা?

আর জাইলস ক্লার্কের মেইল থেকেও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, অজয় শিরকে তাকে সফর নিয়ে কোনও ইতিবাচক কথা বলেননি, বরং সিরিজ যাতে ভেস্তে যায় - সেই উদ্দেশ্য নিয়েই ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডকে ভয় পাইয়ে দিতে চেষ্টা করেছেন।

এই শিবিরের নেতৃস্থানীয় মুখ হলেন ভারতের জাতীয় দলের সাবেক অলরাউন্ডার ও ক্ষমতাসীন বিজেপি-র বিদ্রোহী এমপি কীর্তি আজাদ।

ছবির ক্যাপশান,

ইংল্যান্ডের সফরের পরই ভারতে বাংলাদেশ দলের সফর করার কথা।

কীর্তি আজাদ বলছেন, "আমি মনে করি এদের বিরুদ্ধে সোজা দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা উচিত। মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট গত ৩রা জানুয়ারি তাদের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করার পরও এই অজয় শিরকের মতো লোকজন যেভাবে আদালতের অবমাননা করে যাচ্ছেন, তাতে দেশের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।"

"আমি তো মনে করি এরকম জঘন্য চক্রান্ত করার জন্য তাদের জেলে পাঠিয়ে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়া দরকার - যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের কাজ করার সাহস না-পায়!"

এই বিতর্কে একটা জিনিস পরিষ্কার - কোর্টের নির্দেশে পদ ছাড়তে হলেও ভারতীয় বোর্ডের বিদায়ী নেতৃত্ব দেশের ক্রিকেটে নাক গলানো বন্ধ করতে মোটেও রাজি নন।

দেশের বিভিন্ন রাজ্যের ক্রিকেট সংস্থার মাধ্যমে তারা এখন বলার চেষ্টা করছেন - বোর্ডের আর্থিক সাহায্য না-মিললে ভারতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন করাই মুশকিল হয়ে পড়বে, অথচ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বোর্ডের তহবিলেই এখন তালাচাবি।

এই সমস্যার পরবর্তী শিকার হতে পারে বাংলাদেশ - যারা ইংল্যান্ড সিরিজের পরই ফেব্রুয়ারির গোড়ায় ভারতের হায়দ্রাবাদে টেস্ট খেলতে আসবে।

এই পটভূমিতে হায়দ্রাবাদ ক্রিকেট সংস্থা অবশ্য বলছে - বাংলাদেশ টেস্ট আয়োজন করার মতো আর্থিক সঙ্গতি তাদের আছে - এমন সফরকারীরা চাইলে তারা তিনদিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচেরও ব্যবস্থা করতে পারে।