যেভাবে দেয়া হলো সাত খুন মামলার রায়

  • কাদির কল্লোল
  • বিবিসি বাংলা, ঢাকা
নারায়নগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গনে সাংবাদিকদের ভিড়
ছবির ক্যাপশান,

নারায়নগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গনে সাংবাদিকদের ভিড়

আলোচিত সাত খুন মামলার রায় উপলক্ষে সোমবার সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

খুব সকালে আদালতে পৌছানোর পর প্রধান ফটক থেকে শুরু করে এজলাস পর্যন্ত যেতে কয়েক দফা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিবন্ধকতা পার হতে হয়। ঢাকার বাইরে কোন মামলার রায়ের জন্য এমন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ বিরল।

এধরণের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাম্প্রতিক সময়ে শুধুমাত্র ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের রায়ের সময়েই দেখা গিয়েছিল।

বিচারক আসার বেশ আগেই এজলাসকক্ষ গমগম করছিল সাংবাদিক এবং আইনজীবীদের ভিড়ে। স্থানীয় সাংবাদিকদের বাইরেও প্রায় প্রতিটি বড় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকেরা এসেছেন ঢাকা থেকে।

মামলার আসামীদের রাখার জন্য এজলাস কক্ষের ভেতর একটি খাঁচার মত একটি কক্ষ ছিল। ৯ টার আগেই বেশ কিছু আসামীকে সেই খাঁচার ভেতরে রাখা হয়। সাড়ে নয় টার মধ্যে মূল কয়েকজন আসামী বাদে গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামীকেই সেই খাঁচায় রাখা হয়।

সকাল পৌনে দশটা নাগাদ এজলাসকক্ষে আনা হয় তিন সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা লেফটেনেন্ট কর্নেল তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন, লেফটেনেন্ট কমান্ডার মাসুদ রানা এবং সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নুর হোসেনকে। সকলকেই ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

তবে তাদের মধ্যে শুধুমাত্র নুর হোসনকে ঢোকানো হয় লোহার খাঁচার ভেতরে। তিনজন র‍্যাব কর্মকর্তাকে রাখা হয় খাঁচার বাইরে।

ছবির ক্যাপশান,

সাবেক কাউন্সিলর নুর হোসেন

আসামীদের অনেককেই সেসময় বেশ বিমর্ষ দেখাচ্ছিল।

সকাল ১০ টার একটু পরেই এজলাসে প্রবেশ করেন বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন। এই মামলায় দায়েরকৃত দুটি মামলার অভিন্ন সংক্ষিপ্ত রায় পড়ে শোনান তিনি।

রায়ে ২৬ জন আসামীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন বিচারক। যাদের মধ্যে তিনজন র‍্যাব কর্মকর্তা এবং নুর হোসেনেরও নাম ঘোষণা করা হয়। বাকি ৯ জন আসামীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় এই মামলার মোট ৩৫ জন আসামীর মধ্যে যে ২৩ জন কারাগারে ছিল তাদের সবাই এজলাসকক্ষে উপস্থিত ছিল।

ছবির ক্যাপশান,

২০১৪ সালে চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঐ ঘটনায় নারায়নগঞ্জসহ সারাদেশে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয় (ফাইল ফটো)

মামলার একজন বাদী নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলামের সাথে রায়ের পর কথা হলে তিনি এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

প্রতিক্রিয়ায় মামলাটির রাষ্ট্রপক্ষের কৌশুলী ওয়াজেদ আলী এই মামলাকে 'ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি মাইলফলক' হিসেবে উল্লেখ করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে রায়ের কোন প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের উল্লাস মিছিল করতেও দেখা যায়।