রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে কতটা চাপে ফেলতে পারবে মুসলিম দেশগুলো?

মালয়েশিয়ায় বিক্ষোভাকারীরা অং সান সুচির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption মালয়েশিয়ায় বিক্ষোভাকারীরা অং সান সুচির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে

রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অত্যাচার নির্যাতনের ইস্যুতে মালয়েশিয়ার উদ্যোগে কুয়ালালামপুরে মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসির এক সম্মেলন শুরু হয়েছে।

সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক অত্যন্ত কড়া ভাষায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সব ধরনের বৈষম্য এবং নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা সমস্যাকে তিনি একটি মানবিক ট্রাজেডি হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালয়েশিয়া বেশ কিছুদিন ধরেই অত্যন্ত সরব। মিয়ানমার আসিয়ান জোটের সদস্য হওয়া সত্বেও জোটের অন্য প্রভাবশালী সদস্য ইন্দোনেশিয়াকে সাথে নিয়ে মিস সুচির সরকারের ওপর ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে যাচ্ছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। এখন তিনি ওআইসিকে এর ভেতর টেনে আনলেন।

কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে ওআইসি মিয়ানমারের ওপর কতটা চাপ তৈরি করতে পারবে ?

কুয়ালালামপুরে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির রাজনীতির অধ্যাপক ইশতিয়াক হোসেন মনে করেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর ওআইসি তেমন কোনও চাপ তৈরি করতে পারবে না।

"কারণ প্রথমত মিয়ানমার ওআইসির সদস্য নয়। এছাড়া ওআইসির সনদ অনুযায়ী কোন সময় একজন আরেকজনের ব্যাপারে নাক গলাতে পারবেনা"।

"কিন্তু এটি মালয়েশিয়ার জন্য স্পর্শকাতর, কারণ এত রোহিঙ্গা প্রবেশ করছে দেশটির জন্য এটা সামলানো কষ্টকর। মাইগ্রেশন মালয়েশিয়ার জন্য সবসময় স্পর্শকাতর বিষয়। মালয়েশিয়াতে এবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে সাধারণ মানুষ এত কথা বলেছে যার প্রেক্ষাপটে সরকার কথা বলতে বাধ্য হয়েছে"।"-বলছেন অধ্যাপক হোসেন।

তবে মি: হোসেন মনে করেন চাপ দিয়ে কোনও লাভ হবে না বরং আলোচনা সাপেক্ষেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

আরও পড়ুন:

মুসলিম দেশগুলোর কাছে কী প্রত্যাশা করছে রোহিঙ্গারা?

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা প্রবেশ তীব্র আকারে বেড়েছে

রোহিঙ্গা নিয়ে মিয়ানমারের সুচির সমালোচনায় জাতিসংঘ

+

ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN/AFP
Image caption মিয়ানমারে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের অনেকে সেখান থেকে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে