'সুন্দরবন রক্ষা'র হরতাল কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রভাব পুরো সুন্দরবনের ওপরই পড়বে বলে আশংকা পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রভাব পুরো সুন্দরবনের ওপরই পড়বে বলে আশংকা পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর

বাংলাদেশে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের দাবিতে আজ ঢাকায় অর্ধদিবস হরতাল পালন করছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সুন্দরবনের জন্য ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে বহু দিন যাবৎ এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে সংগঠনটি।

তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাকা এই হরতালের সমর্থনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মিছিল হয়েছে।

সংবাদদাতা কাদির কল্লোল জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রামপালবিরোধী বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ টিয়ার শেল ছুঁড়েছে ও জল কামান ব্যবহার করেছে। শাহবাগে হরতাল-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া -পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনার পরে হরতাল-সমর্থকেরা চারুকলা ইনস্টিটিউটের সামনের সড়কে অবস্থান নেন।

বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি, বিভিন্ন বাম দল ও ছাত্র সংগঠন এই হরতালে সমর্থন দিয়েছে।

আন্দোলনকারীদের অন্যতম একজন নেতা অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বিবিসিকে বলেছেন-"সুন্দরবন বিনাশী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বিরোধী একটা ঐক্যমত তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে, হরতালের মাধ্যমে সরকারের কাছে এই বার্তা দিতে চাচ্ছি। "

"বৈজ্ঞানিক তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণতো আছেই। আন্তর্জাতিক একটা ঐক্যমতও তৈরি হয়েছে। জনগণের চাপ ছাড়াতো আর কোনও অবলম্বন নাই"-বলছিলেন আনু মোহাম্মদ।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করে আসছে (ফাইল ছবি)

বাংলাদেশে হরতাল সাম্প্রতিককালে খুব একটা সফল হয়নি। এক্ষেত্রে হরতালের মাধ্যমে কতটা সফল হতে পারবে সংগঠনটি?

বিবিসির সাথে আলোপকালে আনু মোহাম্মদ বলেছেন -"আমরা এটা শান্তিপূর্ণভাবে, মানুষের স্বত:স্ফূর্ততার ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। হরতাল বানচালের চেষ্টা হয়তো হবে। কিন্তু এর মাধ্যমে আমরা জনগণের বার্তা পৌঁছাতে চাই"।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাত বছর ধরে সুন্দরবন-বিনাশী রামপাল কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলসহ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানের জন্য সাত দফা বাস্তবায়নে তাঁরা লংমার্চ, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ, মহাসমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

"কিন্তু সরকার এই প্রকল্প বাতিল না করে উল্টো সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। তাই চাপ বাড়াতে বাধ্য হয়ে হরতাল পালনের কর্মসূচি নেয়া হয়েছে"-বলছেন আনু মোহাম্মদ।

Image caption সুন্দরবন থেকে ১৪ কি:মি: দুরে নির্মাণ করা হবে রামপাল প্রকল্প।

এর আগে হরতালের ঘোষণা দিয়ে আনু মোহাম্মদ বলেছিলেন "বাংলাদেশের মানুষ জনবিচ্ছিন্ন সহিংস, জ্বালাও-পোড়াও, সম্পদ ধ্বংসের আর ক্ষমতার সংকীর্ণ সংঘাতের অনেক হরতাল দেখেছেন। ২৬শে জানুয়ারির হরতাল এর সম্পূর্ণ বিপরীত, এটি ক্ষমতার সংকীর্ণ সংঘাতে সম্পদ ধ্বংসের নয়, বরং সম্পদ রক্ষা-সৃষ্টি ও বাংলাদেশ রক্ষার।"

এদিকে হরতালের সমর্থনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সমর্থকদের তৎপরতা দেখা গেলেও রাস্তাগুলোতে যানবাহন চলছে স্বাভাবিক দিনের মতো। হরতাল সমর্থকদের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের টিয়ার শেল নিক্ষেপের ঘটনা বাদে কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

ছবির কপিরাইট BBC bangla
Image caption হরতালে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ

সম্পর্কিত বিষয়

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য

বিবিসির অন্যান্য সাইটে

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর