ছেলের আকাঙ্খায় অন্যের শিশু চুরি: এক নারী আটক

ছবির কপিরাইট Leisa Tyler
Image caption পুলিশ বলছে, সন্তানের আকাঙ্খা থেকেই চুরির ঘটনা ঘটেছে

বাংলাদেশের রাজশাহীতে একটি নবজাত শিশু চুরি হয়ে যাওয়ার নয় দিন পর আজ তার বাবা-মা সন্তানটিকে ফিরে পেয়েছে। শিশুটিকে চুরির অভিযোগে পুলিশ একজন নারীকে আটক করেছে।

কেন তিনি অন্যের সন্তান চুরি করেছেন - এর সঠিক তথ্য পাওয়া না গেলেও পুলিশ বলছে, ঐ নারী একটি ছেলে সন্তান পাবার আকাঙ্ক্ষা থেকেই নবজাত শিশুটিকে চুরি করেছিলেন বলে তাদের ধারণা।

এ মাসের ১৯ তারিখে রাজশাহীর নওদাপাড়া এলাকায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন মুক্তি খাতুন। ক্লিনিকে সেসময় শাহিন আক্তার শুভ্রা নামে আরো একজন ছিলেন তার সাথে।

তবে শিশু জন্ম নেয়ার ছয় ঘণ্টা পর শিশুসহ শুভ্রা ছিলেন নিখোঁজ। শিশুটির বাবা নাসির উদ্দিন বলছিলেন খুব অল্প দিনের পরিচয় ছিল শুভ্রা নামের ঐ নারীর সাথে তার পরিবারের। দিনমজুর নাসিরকে সে আশ্বাস দিয়েছিলেন তার স্ত্রীর প্রসবকালীন খরচের সাহায্য করবেন তিনি।

সেই ভরসায় নাসিরের জন্য কাল হয়েছিল। শিশুটি চুরি যাওয়ার আট দিন পর গেল শুক্রবার দুপুরের দিকে পুলিশ নগরীর টিকাপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন, সাথে গ্রেফতার করেন শুভ্রাকে।

রাজশাহী গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা আল আমিন হোসেন বলছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রথমে এই নারীকে শনাক্ত করেন তারা।পরে নাসিরের পরিবার ও ক্লিনিকের চিকিতসকরা ফুটেজ দেখে নিশ্চিত করেন।

ছবির কপিরাইট Leisa Tyler
Image caption চুরি যাওয়া শিশুটিকে মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে

শাহিন আক্তার শুভ্রা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তার পারিবারিক অবস্থা বিশ্লেষণ করলে প্রশ্ন উঠেছে তিনি কেন শিশু চুরির মত এমন ঘটনায় জড়াবেন?

এ বিষয়ে খোঁজ নিতে যেয়ে নানা তথ্য পাওয়া গেছে। তার একজন প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন ঐ মহিলা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন না।

স্বামীর সাথে সম্পর্কে অবনতি হলে আলাদা থাকছিলেন মাস কয়েক হল। স্থানীয় সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন শুভ্রা নিজেকে গত কয়েক মাস যাবত গর্ভবতী হিসেবে দাবি করেছেন আর শিশুটিকে প্রথম থেকেই নিজের সন্তান বলে জানিয়েছেন।

এদিকে পুলিশ বলছে প্রথমে নিজের সন্তান হিসেবে দাবি করলেও পরে তাদের কাছে চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি। তার সাথে কথা বলে এই কর্মকর্তা বলছিলেন ছেলে সন্তানের আকাঙ্গা থেকে তিনি ছেলে শিশুটি চুরির উদ্যোগ নিয়ে থাকতে পারেন।

শাহিন আখতারের স্বামী একজন চিকিৎসক, তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে আজ শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে, আর শিশু চুরির একটি মামলায় শাহিন আক্তার শুভ্রাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে আজ।

সম্পর্কিত বিষয়