গর্ভধারণকালে মদ: গর্ভস্থ শিশুর ওপর প্রভাব
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

গর্ভধারণকালে মদ: গর্ভস্থ শিশুর ওপর প্রভাব

আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে গর্ভধারণকালে দুই শতাংশেরও বেশি নারী মদ বা মদ জাতীয় পানীয় পান করেন। একারণে প্রতি ১০ হাজার শিশুর মধ্যে তিনটি শিশুর জন্ম হচ্ছে মদের প্রভাবজনিত নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা নিয়ে।

ব্রিটেনের চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকী দ্যা ল্যানসেটে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা যাচ্ছে সারা বিশ্বে প্রায় দশ শতাংশ মা গর্ভাবস্থায় মদ খান এবং এর ফলে প্রতি ১০ হাজার শিশুর মধ্যে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে প্রায় ১৬টি শিশুর জন্ম হচ্ছে।

মদের প্রভাবজনিত এই শারীরিক ও মানসিক সমস্যাকে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ফিটাল অ্যালকোহল সিনড্রোম।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, গর্ভাবস্থায় মদ খেলে গর্ভস্থ শিশুর ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে শিশুর শারীরিক বিকাশ এমনকি মস্তিষ্কেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ছবির কপিরাইট PA
Image caption আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে গর্ভধারণকালে দুই শতাংশেরও বেশি নারী মদ বা মদ জাতীয় পানীয় পান করেন।

বাংলাদেশে এতো সংখ্যক নারী গর্ভধারণকালে মদ খান- এই তথ্যে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশে সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, প্রতি বছর প্রায় ৩৭ লাখ নারী গর্ভধারণ করেন।

এই হিসাবকে ল্যানসেটের তথ্যের সংগে মেলালে বলা যায়, প্রতি বছর এক হাজারেরও বেশি মদের প্রভাবজনিত সমস্যা নিয়ে জন্ম নিচ্ছে।

এই ফিটাল এলকোহল সিনড্রোম নিয়ে শুনুন গাইনোকলিজস্ট ড. জাকিউর রহমানের সাক্ষাৎকার।

চাষ করা গাছ কেন বড় হয়

সাধারণত দেখা যায়, চাষ করা কোন ফসলের গাছ, ওই গাছেরই বুনো প্রজাতির তুলনায় আকারে বড়ো হয়। অর্থাৎ বাড়িতে বা তার আশেপাশে জন্মানো একই গাছের তুলনায় ছোট হয় বনে ও জঙ্গলের গাছ।

তবে এর কারণ কি সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা যায় নি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, চাষ করা গাছের বীজ থেকে এবিষয়ে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, একটি গাছের ওজন কতো বাড়বে সেবিষয়ে চাষীদের অনেক আগ্রহ। কারণ এর উপর ওই গাছের উৎপাদনশীলতা নির্ভর করছে।

স্পেনের একদল বিজ্ঞানী এবিষয়টির ওপর গবেষণা করেছেন। খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছেন কোন কোন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে গাছ ছোট বড় হয়ে থাকে।

এর জন্যে যেসব জিনিস কাজ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বায়োমাস, পাতার আকার, কতো দ্রুত ওই গাছের ফটোসিনথেসিস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এসব।

ছবির কপিরাইট S.Matesanz
Image caption গবেষণায় দেখা গেছে, চাষ করা কোন গাছ, ওই গাছেরই বুনো প্রজাতির তুলনায় আকারে বড়ো হয়

তারা বলছেন, এসব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই চাষ করা গাছ আর বনে জঙ্গলের গাছপালার আকারে তফাৎ হয়ে থাকে।

গবেষণা দলের বিজ্ঞানীরা বলছেন, তারা দেখতে পেয়েছেন চাষ করার ফলে গাছের মাটির ওপরের বায়োমাস বৃদ্ধি পায়।

দেখা গেছে, এসব গাছ জঙ্গলের গাছের তুলনায়, পাতার পরিবর্তে, কাণ্ডের দিকেই বেশি জোর দিয়ে থাকে। তাই এসব গাছ লম্বায় বেশি বাড়ে।

তবে এই দুই জায়গার গাছেরই ফটোসিনথেসিসের হার প্রায় একই।

তাই প্রশ্ন উঠেছে, যেহেতু সূর্যের আলো থেকে আলোক সংশ্লেষণের মাধ্যমে একই পরিমাণে চিনি তৈরি করে থাকে তারপরেও চাষ করা গাছের পাতার আকার কেন বড় হয়।

এই গবেষণার সাথে জড়িত ছিলেন মাদ্রিদে কিং হুয়ান কার্লোস বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিজ্ঞানী রুবেন মিয়া। এর কারণ ব্যাখ্যা করছিলেন তিনি। বলেছেন, "প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হতো, অন্যান্য জিনিসের চেয়ে গাছের জীবনধারা বা শারীরবৃত্ত অনেক বেশি ভূমিকা রাখে। গাছপালার আকার কি হবে, সেটার প্রাথমিক তথ্য থাকে এর বীজের ভেতরে এবং বীজের আকার কতো বড় তার ওপর। সাধারণত দেখা গেছে, মানুষ তার বাড়ির আশেপাশে ও ক্ষেতখামারে যেসব গাছপালা ফলায় সেগুলোর বীজ আকারে বড় হয়।"

তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, গাছ কতো লম্বা হবে সেটা তার শারীরবৃত্তের চেয়ে তার বীজের আকারের ওপরেই অনেক বেশি নির্ভর করে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, কৃষকদের আগ্রহের কথা বিবেচনা করেই তারা এই গবেষণাটি চালিয়েছেন।

কারণ গাছপালা বড় হলে এর ফসলের পরিমাণ কমে যেতে পারে। এসব গাছ তখন ফসল উৎপাদনের দিকে জোর না দিয়ে বেশি জোর দেয় কাণ্ড লম্বা হওয়ার ওপরেই।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করছেন মিজানুর রহমান খান

সম্পর্কিত বিষয়