সুন্দরবনে কুমিরের বাচ্চা ‘উধাও হবার’ রহস্যের সমাধান

ছবির কপিরাইট Wildlife Management & Nature Conservation Division
Image caption গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত চিতা বিড়ালের ছবি

সুন্দরবনের করমজল এলাকায় একটি সরকারি কুমির প্রজনন কেন্দ্র থেকে গত কয়েকদিনে অন্তত ৬৩টি কুমিরের বাচ্চা নিখোঁজ বা মৃত পাওয়া যাবার রহস্যের অবশেষে সমাধান হয়েছে বলে জানাচ্ছেন কর্মকর্তারা।

এমনকি প্রথমে আউটসোর্সিং স্টাফদের সন্দেহ করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং মামলাও করেন কর্মকর্তারা।

কিন্তু তারপরও কুমিরের বাচ্চাগুলো নিখোঁজ হচ্ছিল।

কীভাবে হলো এই রহস্য ভেদ?

বন সংরক্ষক এবং অতিরিক্ত প্রধান ওয়ার্ডেন জাহিদুল কবির বিবিসি বাংলাকে জানান, মৃত কৃমিরগুলোর ঘাড়ে দাতে দাগ থেকে তাদের সন্দেহ হয় এটা হয়তো বণ্যপ্রাণীর কাজ এবং গোপন ক্যামেরায় নজরদারি শুরু করেন তারা।

বন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, সাধারণত কোনও বণ্যপ্রাণী কিছু শিকার করলে ওই জায়গায় খায় না অন্য জায়গায় টেনে খায়।

মি: কবীর জানান, মৃত কুমিরগুলো যে জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল সে জায়গাতেই তারা রেখে দিয়েছিলেন। "শিকারী যেহেতু খাবার লুকিয়ে রেখেছিল , সুতরাং সে আবার আসবেই-এ ধারণা থেকে এ কাজটা করা হয়" বলছিলেন জাহিদুল কবীর।

গতকাল রাতে দশ জোড়া ক্যামেরা বা বিশটা ক্যামেরা সেখানে স্থাপন করেন বন কর্মকর্তারা।

এরপর আড়াল থেকে তারা দেখতে থাকেন কী ঘটে।

ছবির কপিরাইট Wildlife Management & Nature Conservation Division
Image caption সুন্দরবনের করমজল এলাকায় একটি সরকারি কুমির প্রজনন কেন্দ্র থেকে গত কয়েকদিনে প্রায় ৬৩টি কুমিরের বাচ্চা নিখোঁজ হয় পরে মৃত পাওয়া যায়

একসময় আড়াইটার দিকে তারা দেখতে পান একটা বিড়ালের মতো প্রাণী সেখানে ঢুকছে।

ওই জায়গাটায় প্রাণীটা ঢোকার পর সামনে আস্তে আস্তে এগিয়ে দেখতে পান একটা চিতা বিড়াল বা লিওপার্ড ক্যাট মৃত কুমিরগুলো খাচ্ছে।

"যেহেতু ওটাকে বের করা যাচ্ছিল না এবং আমাদেরও প্রস্তুতি ছিল না তাই এটাকে গুলি করে মারা হয়েছে"-জানান মি: কবীর।

পরে ওই চিতা বিড়ালটির পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট করা হয় এবং তার পেট থেকে কুমিরের বাচ্চার দেহের অনেক অংশ বের করা হয়।

আরও পড়ুন:

মৃত্যুর অনুমতি চাওয়া পরিবারটির পাশে ভারত- চীন

মধ্যপ্রাচ্যের পথে নেপালে গ্রেফতার ৩৮ বাংলাদেশি

‘যুক্তরাষ্ট্রের কিছু হলে আদালত দায়ী থাকবে’ ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাজ্যে সবার জন্য খুলে দেয়া হয় দেড়'শ মসজিদ

ছবির কপিরাইট Wildlife Management & Nature Conservation Division
Image caption চিতা বিড়ালের পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট

সম্পর্কিত বিষয়