ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দেয়ায় ভাঙলো ২২ বছরের সংসার

ট্রাম্পকে ভোট দেয়ায় স্বামীকে ত্যাগ করলেন স্ত্রী গেইল ম্যাককরমিক

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান,

গেইল ম্যককরমিক বলছেন 'ট্রাম্পের সমর্থন দিবে শুনে আমার তাকে বিশ্বাসঘাতক মনে হচ্ছিল'

ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি অনেকের সমর্থন দেয়া না দেয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হবার পরও তার বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের বিতর্ক চললেও দীর্ঘ সংসার জীবনের ইতি টানার ঘটনা এই প্রথম চোখে পড়লো।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ায় ২২ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছেন গেইল ম্যাককরমিক নামের ৭৩ বছর বয়সী এক নারী।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে বলছে, গেইল ম্যাককরমিক ক্যালিফোর্নিয়ার একজন অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষী।

মিস ম্যককরমিক জানিয়েছেন গত বছর তার স্বামী বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও মধ্যাহ্নভোজের সময় ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন বলে জানান। স্বামীর মুখে একথা শুনে হতবাক হয়ে যান ম্যাককরমিক! কারণ ট্রাম্পের প্রতি স্বামীর সমর্থনকে 'বিশ্বাসঘাতকতা' হিসেবেই দেখেছেন তিনি।

গেইল ম্যাককরমিক বলছেন, 'ভাবতেই পারছিলামনা সে ট্রাম্পকে ভোট দেবে। মনে হচ্ছিলো নিজেই নিজেকে বোকা বানিয়ে ফেললাম! এতগুলো বছর এক ছাদের নিচে থেকে এরকম কোন অভিজ্ঞতার মুখে পড়িনি।

সেসময় আমার উপলব্ধি হলো বিয়ের পর আসলেই কত কিছু বদলে গেছে। কম বয়সে অনেক কিছু কখনও মেনে নিতাম না অথচ যে বিয়ের পর সেসব অনেক কিছুই গ্রহণ করে এসেছি আমি!

মনে হলো সব বিষয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করতে হবে। তাই আলাদা হয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম"।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আলোচিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ী হওয়ার কারণে আমেরিকায় ঘরে ঘরে বিভক্তি তৈরি হয়েছে -এমনটা বলছেন অনেক বিশ্লেষক। আর অনেক আমেরিকানের মতে, তাদের আবেগে এতটা ক্ষত কখনও তৈরি হয়নি।

আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান,

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ী হওয়ার কারণে আমেরিকায় ঘরে ঘরে বিভক্তি তৈরি হয়েছে -এমনটা বলছেন অনেক বিশ্লেষক।

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন ও সম্পর্কের অবনতি

বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক জরিপে একাধিক মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে কথা বলেছে এবং তাদের কাছ থেকে পেয়েছে বেশ আবেগি কথাবার্তা।

গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চালানো রয়টার্সের ওই জরিপে ৬,৪২৬ জন অংশ নেয়।

জরিপের ফলাফলে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বিতর্কে জড়ানোর হার নির্বাচনের পর অন্তত ছয় শতাংশ বেড়েছে।

আর একই বিষয়ে পরিবারের সদস্য অথবা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন এমন অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ১৬ শতাংশ।

ওহাইওর ২৫ বছর বয়সী ট্রাকচালক রব ব্রুনেলো জানান, ট্রাম্পকে সমর্থন জানানোর কারণে পরিবার ও বন্ধুদের প্রবল নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছেন।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্ধ সমর্থকও পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে ফেসবুকে ঝগড়ার কারণে বাল্যবন্ধুর সঙ্গে কথা বলেন না ফিলাডেলফিয়ার ৬৪ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ উইলিয়াম লোমি

লোমি বলছেন, 'ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়ে আমার বন্ধুকে কিছু প্রশ্ন করেছিলাম, ওর পছন্দ হয়নি। এ কারণে আমাকে বাজে মেসেজ দিয়েছে। এরপর থেকে আমরা একে অপরের সঙ্গে কথা বলি না।'

তবে এই জরিপের বিষয়ে হোয়াইট হাউজকে কিছু বলার অনুরোধ জানানো হলেও তাদের কাছ থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেছেন, 'মানুষ বিশ্বাস করতে পারছে না হিলারিকে হারাতে পারেন ট্রাম্প। নির্বাচনের ফল প্রকাশের প্রায় তিন মাস হতে চললেও এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেশ কষ্টই হচ্ছে অনেকের"।