উত্তরপূর্ব ভারতের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বিশেষ বাহিনী দিল্লি পুলিশের

ছবির কপিরাইট দিল্লী পুলিশের ফেসবুক পেজ
Image caption দিল্লী পুলিশের বিশেষ বাহিনী

উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির নারী-পুরুষদের নিয়ে একটি বিশেষ বাহিনী গড়েছে দিল্লি পুলিশ।

উত্তরপূর্বাঞ্চল থেকে দিল্লিতে আসা মানুষদের ওপরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক হামলার ঘটনা হয়েছে, যাতে মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে।

এছাড়াও উত্তরপূর্বের বাসিন্দাদের নিয়মিতই হাস্যাস্পদ হতে হয়, হেনস্থা করা হয়। প্রশ্ন ওঠে তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়েও।

সেই সব ঘটনার মোকাবিলাতেই দিল্লি পুলিশের এই বিশেষ বাহিনী গঠন।

দিল্লিতে কাজ বা পড়াশোনার সূত্রে যে কয়েক লক্ষ মানুষ উত্তরপূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি থেকে আসেন বা বসবাস করেন, তাঁদের নিয়ে অনেকদিন ধরেই কটূক্তি করেন উত্তরভারতের মানুষজন। হাসাহাসি চলে তাঁদের চেহারা নিয়ে।

কিন্তু সম্প্রতি একের পর এক হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে উত্তরপূর্বাঞ্চলের একটি ছাত্রের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। তা নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়েছিল দিল্লিতে।

সেই সব ঘটনার মোকাবিলায় প্রথমে উত্তরপূর্ব ভারতের মানুষদের জন্য একজন কেন্দ্রীয় অফিসার ও একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছিল দিল্লি পুলিশ।

আর এখন শুধুমাত্র উত্তরপূর্বাঞ্চলের ৪৩৯ ছেলে মেয়েকে নিয়ে একটি বিশেষ বাহিনী তৈরি করেছে তারা। এদের মধ্যে ১৩৯ জনই নারী।

ইন্সপেক্টর জেনারেল রবিন হিবু উত্তরপূর্বাঞ্চলের মানুষদের জন্য দিল্লি পুলিশের কেন্দ্রীয় অফিসার। তিনি নিজেও উত্তরপূর্বেরই মানুষ।

বিবিসি বাংলাকে মি. হিবু বলছিলেন, "এটা ঠিকই যে সাম্প্রতিক অতীতে বেশ কিছু ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে উত্তরপূর্বের মানুষদের ওপরে হামলা হয়েছে। দিল্লিতে কয়েক লক্ষ উত্তরপূর্বের মানুষ থাকেন। তাই একটি বিশেষ বাহিনী গড়ার কথা ভাবা হয়, যেখানে উত্তরপূর্ব থেকে আসা দিল্লিবাসীরা নিজেদের সমস্যা নিয়ে নিজেদের অঞ্চলের পুলিশ কর্মীদের কাছেই যেতে পারবেন। তাহলে নিঃসন্দেহে কোনও ঘটনা হলে আরও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সেগুলোর মোকাবিলা করা যাবে"।

ছবির কপিরাইট দিল্লী পুলিশের ফেসবুক পেজ
Image caption দিল্লী পুলিশের বিশেষ বাহিনী

নতুন বাহিনী তৈরি করা ছাড়াও বাধ্যতামূলকভাবে দিল্লি পুলিশের সমস্ত সদস্যকে উত্তরপূর্বাঞ্চল নিয়ে আরও সংবেদনশীল হওয়ার প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

এই বিশেষ পুলিশ বাহিনী তৈরি হওয়ার পর কি সেটা বাড়তি মনোবল যোগাবে উত্তরপূর্বের মানুষদের?

জানতে চেয়েছিলাম অরুণাচল প্রদেশ থেকে দিল্লিতে পড়তে আসা আইনের ছাত্র আলেন্সো চেইয়ের কাছে।

তিনি বললেন, "এই নতুন বাহিনীতে যারা যোগ দিয়েছেন, তাঁরাও উত্তরপূর্বের বাসিন্দা। তাই নি:সন্দেহে আমরা যারা ওখান থেকে এসে দিল্লিতে থাকি, তাঁদের সঙ্গে একটা মানসিক সেতুবন্ধনের জায়গা তৈরি হবে। দিল্লির সাধারণ মানুষের মধ্যেও একটা কড়া বার্তা যাবে যে আমরা উত্তরপূর্বের বাসিন্দারাও ভারতীয় - তারাও দিল্লি পুলিশের ইউনিফর্ম পড়তে পারে।"

ছবির কপিরাইট দিল্লী পুলিশের ফেসবুক পেজ
Image caption পুলিশ কর্মকর্তা রবিন হিবু

এছাড়াও কোথাও কোনও অভিযোগ জানাতে গেলে বা অসুবিধায় পড়লে যেভাবে হেনস্থা হতে হয়, সেটাও সম্ভবত বন্ধ হবে। বলছিলেন আইনের ছাত্র অ্যালেন্সো।

দিল্লিতে থেকে সরকারী চাকরী পরীক্ষাগুলির জন্য তৈরি হচ্ছে উত্তরপূর্বের আরেক বাসিন্দা তাশি ক্যালি।

তাঁর কথায়, "যে প্রশ্নগুলোর মুখে নিয়মিত আমাদের পড়তে হয় যে চীন জাপানের লোক কী না, সেটা বোধহয় বন্ধ হবে এবার। মঙ্গোলীয় হোক বা যেকোনো রকমেরই চেহারা হোক - সবাই যে ভারতীয়, সেটা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবে আশা করা যায়। এই বিশেষ বাহিনী গঠন সেদিক থেকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।"

দিল্লি পুলিশের এই বিশেষ বাহিনীকে বছর খানেক ধরে এ কে ৪৭ এর মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র চালনা থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নানা দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এবার শুরু হচ্ছে তাদের কাজে যোগদান। তারপরে তাদের পাঠানো হবে কম্যান্ডো ট্রেনিং-এ।

একই সঙ্গে উত্তরপূর্বের সবকটি রাজ্য থেকে আরও পুলিশ কর্মী নিয়োগেরও প্রক্রিয়া চলছে।