যুগের চাহিদা কতটা মেটাতে পারছে বেতার?

  • কাদির কল্লোল
  • বিবিসি বাংলা, ঢাকা
রেডিও
ছবির ক্যাপশান,

বেতার দিবস উপলক্ষে রেডিও প্রদর্শনীর আয়োজন করে বাংলাদেশ বেতার।

বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার রেডিও বা বেতারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, এখন বেতারকে ইন্টারনেট এবং টেলিভিশনের সাথে টিকে থাকার লড়াই করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বেতার সম্প্রচার জগতে পরিবর্তনের এই সময়টাতে কতটা তাল মেলাতে পারছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এমন প্রেক্ষাপটেই নানান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ বিশ্ব বেতার দিবস পালন করা হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশ বেতারের কর্মকর্তারা বলেছেন, পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তাদের এগুনোর ক্ষেত্রে বেতারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

ঢাকার কাঁঠালবাগান এলাকায় রাস্তার পাশে পুরনো একটি চায়ের দোকানে সারাক্ষণই বড় সেটে বাংলাদেশ বেতার বাজতো। এখন সেটা অতীত ঐ দোকান মালিকের কাছে।

কয়েক বছর আগে রেডিওটি নষ্ট হওয়ার পর তা সরিয়ে ফেলা হয়।দোকানের মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ এখন মাঝে মধ্যে বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা চলার সময় রেডিও শোনেন নিজের মোবাইল ফোনের সেটে।তাঁর দোকানে আসা মানুষের জন্যও বড় সেটে রেডিও বাজানোর তাগিদ অনুভব করেন না।

৪২ বছর বয়স্ক শহিদুল হাসান শ্যামলী এলাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন।শেষ কবে বেতারের অনুষ্ঠান শুনেছেন, সেটা তাঁর মনে নেই।কিন্তু এক সময় তিনি বেতারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা করতেন।

তিনি মনে করেন,আসলে টেলিভিশন, ইন্টারনেট বা সামাজিক নেটওয়ার্কসহ অনেক উপায় থাকায় তিনি এখন বেতারের ওপর নির্ভরশীল নন।

ছবির ক্যাপশান,

অনেকেই বলছেন, এখন বেতারকে ইন্টারনেট এবং টেলিভিশনের সাথে টিকে থাকার লড়াই করতে হচ্ছে।

"স্কুলে পড়ার সময় ছোটবেলায় ছুটির দিনে বা অবসরে অনুরোধের গানের আসরসহ বেতারের বিভিন্ন অনুষ্ঠান নিয়মিত শুনতাম।সুরের পরশ নামের একটা অনুষ্ঠান আমি খুব শুনতাম।সেখানে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কথা এবং কণ্ঠ ভাল লাগতো।কিন্তু স্যাটেলাইট টেলিভিশনের ডিশ লাইন গ্রামেও চলে যায়।এরপর শেষ কবে বেতারের অনুষ্ঠান শুনেছি। এখন মনে নেই"।

তবে আগারগাঁ এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা একটি প্রাইভেট কারে বেতারের অনুষ্ঠান বাজছিল।গাড়িটির চালক ইদ্রিসুর রহমান বলছিলেন,গাড়ি যতক্ষণ চলে, পুরো সময়ই তিনি বেতার শোনেন।সেখানেই কয়েকজন বলছিলেন, তারা বেতারে গানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান শোনেন।অনেক সময় খবরও শোনেন।

তথ্য প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে দেশের সবচেয়ে পুরনো এবং রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বাংলাদেশ বেতার কতটা তাল মেলাতে পারছে, সেই প্রশ্ন যে উঠছে। সেই প্রেক্ষাপটে বেতারের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক শাহজাদী আঞ্জুমান আরা বলছিলেন, তারা পরিস্থিতিটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েই পরিকল্পনা করছেন।

"চ্যালেঞ্জের কারণে প্রতিযোগিতার বিষয় আসছে।সেজন্য আমরা শ্রোতাদের সাথে কথা বলছি।তারা কি ধরণের অনুষ্ঠান চায়, সে ব্যাপারে আমরা গবেষণাও করছি।শ্রোতাদের মতামত এবং গবেষণার ভিত্তিতেই আমরা অনুষ্ঠান সাজানোর চেষ্টা করছি।"

একটি বেসরকারি সংস্থার গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় দেড় কোটি মানুষ রেডিও শোনে।এর বড় অংশ বাংলাদেশ বেতারের শ্রোতা।তবে এই শ্রোতাদের বেশির ভাগই দুর্গম এবং প্রত্যন্ত এলাকার।

বেতারের উপ-মহাপরিচালক নারায়ণ চন্দ্রশীল দাবি করেন, তারা সামাজিক নেটওয়ার্কসহ সব মাধ্যমেই দৃশ্যমান হওয়ায় তাদের জনপ্রিয়তা ১০ শতাংশ বেড়েছে।

ছবির ক্যাপশান,

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু মনে করেন, টেলিভিশন এবং ইন্টারনেটের প্রসারের কাছে বেতার হেরে যায়নি।

"বেতার হেরে যাবে, এমন কথা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।বেতার যেমন তথ্য দেয়, কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়।ফলে বেতার মানুষের জীবনের সাথে মিশে গেছে।"

বেতারের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু দুর্গম, সুবিধাবঞ্চিত বা প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ নয়,নগরীর মানুষ এবং তরুণরাও যেন বেতারের অনুষ্ঠান শোনার জন্য আগ্রহী হয়।সেজন্য তারা বিভিন্ন পরিকল্পনা নিচ্ছেন।