রোহিঙ্গাদের কথা শুনতে ঢাকায় জাতিসংঘের দূত

  • আকবর হোসেন
  • বিবিসি বাংলা, ঢাকা
ছবির ক্যাপশান,

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী

মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত ইয়াংঘি লি বাংলাদেশে আজ থেকে চারদিনের সফর শুরু করেছেন।

প্রথম দিনে মিস লি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সাথে বৈঠক করেছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তরের বিশেষ দূত ইয়াংঘি লি চারদিনের এ সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলবেন।

উখিয়া এবং টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মুখ থেকে নির্যাতনের বর্ণনাও শুনবেন তিনি।

এর আগে মিস লি ১২ দিন মিয়ানমার সফর করেছেন। সেখানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি কথা-বার্তা বলেছেন। সহিংসতা কবলিত রাখাইন রাজ্যে তিনি গেলেও যেসব জায়গায় ব্যাপক হত্যা, নির্যাতন এবং অন্যান্য মানবাধিকারের লঙ্ঘন হয়েছে সেসব জায়গায় তিনি কতটা যেতে পেরেছেন তা নিয়ে সংশয় আছে।

ছবির ক্যাপশান,

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে জাতিসংঘের বিশেষ দূত

দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক মিস লি তার এ সফর শেষে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তরের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেবেন যেটি ১২ই মার্চ প্রকাশ করা হবে।

বাংলাদেশ সরকারের হিসেবে অনুযায়ী প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা গত চার মাসে পালিয়ে বাংলাদেশে আসে।

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ যে হিমশিম খাচ্ছে সে বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বোঝানোর জন্য বিভিন্ন কূটনৈতিক তৎপরতাও চালাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে সেগুলো বিশ্লেষণ করে অনেকেই ধারনা করছেন, খুব তাড়াতাড়ি এসব রোহিঙ্গা মিয়ানামারে ফিরে যাবার কোন সম্ভাবনা নেই ।

কারণ বঙ্গোপসাগরের কাছে ঠেঙ্গারচরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

ধারণা করা হচ্ছে, ইয়াংঘি লির সাথে আলোচনায় এসব বিষয়ও উঠে আসবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়াংঘি লি সে দেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একজন উপদেষ্টা। একজন স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ হিসেবে মিস লি তার প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন।

ছবির ক্যাপশান,

প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক রেপোটিয়ার ইয়াংঘি লি যখন মিয়ানমার সফরে ছিলেন তখন রাখাইন রাজ্যে প্রায় চার মাসের সামরিক অভিযান শেষ করার ঘোষণা দিয়েছিল মিয়ানমার।

কিন্তু মিস লি যখন বাংলাদেশ সফর শুরু করলেন তখন রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে স্থানীয়দের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তে অস্ত্রধারী একটি গ্রুপের সাথে সৈন্যদের সংঘর্ষ হলে দুইজন সৈন্য আহত হয় বলে জানা গেছে।