নেপালের রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ঘরে ফেরার জন্য সাহায্য চান

কাঠমান্ডুতে আশ্রয় নেয়া কিছু রোহিঙ্গা শরণাথী বলছেন জাতিসংঘ সাহায্য করলে তারা মিয়ানমারে নিজেদের ঘরে ফিরে যেতে চান।

কাঠমান্ডুর উপকণ্ঠে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা
ছবির ক্যাপশান,

সাম্প্রতিক কয়েক মাসে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী মিয়ানমার থেকে পালিয়ে গেছেন। তারা মূলত গেছেন বাংলাদেশে, তাদের কথায়, মিয়ানমার সরকারের নির্যাতন থেকে বাঁচতে তারা দেশ ছেড়েছেন। তবে এই ছবিতে যে রোহিঙ্গাদের দেখা যাচ্ছে তারা একই কারণে অর্থাৎ অত্যাচার নির্যাতন এড়াতে নেপালের কাঠমান্ডুতে চলে গিয়েছিলেন কয়েক বছর আগে।

ছবির ক্যাপশান,

নেপাল কর্তৃপক্ষের আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী কাঠমান্ডুর উপকণ্ঠে দুটি বসতি এলাকায় থাকেন প্রায় ২০০ রোহিঙ্গা। বিবিসি নেপালীর সংবাদদাতা কমল পরিবার কাপানের রাম মন্দির এলাকায় এরকম একটি বসতিতে অস্থায়ী বাসস্থান তৈরি করে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

ছবির ক্যাপশান,

কাঠমান্ডুতে বসতি যে প্রায় ২০০ রোহিঙ্গার, তাদের মধ্যে আছেন ৩১ বছর বয়সী আমির হুসেন (ছবিতে বাঁ দিকে)। ২০১২ সালে স্ত্রী এবং তিন সন্তানকে নিয়ে পায়ে হেঁটে তিনি কাঠমান্ডু পৌঁছন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দিয়ে পায়ে হেঁটে এই পথ পাড়ি দিতে তাদের সময় লেগেছিল তিন মাস। ৩০ বছর বয়সী আয়াতোল্লা আয়াতোল্লা (সাদা শার্ট পরা) নেপালে পৌঁছেছেন মাত্র গত বছর এবং নেপালে তিনি আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন।

ছবির ক্যাপশান,

আমীর হুসেন বিবিসি নেপালীর কমল পরিবারকে বলেছেন, “উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা আমাদের সম্প্রদায়ের লোকজনদের উপর হামলা করলে অনেকে গুরুতরভাবে আহত হন। কেউ কেউ আমার চোখের সামনে মারা গেছেন। এরপর রাখাইন রাজ্যের মংডুতে আমার গ্রাম ছেড়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমরা পরিবারের পাঁচজন আর আমাদেরই গ্রামের আরও কয়েকজন রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে হাঁটতে শুরু করি। আমাদের খাবার ছিল না, অর্থও ছিল না। আমি ও আমার স্ত্রী কখনও আধপেটা খেয়ে, কখনও বা খালি পেটে ঘুমিয়েছি। আমরা দিনরাত হেঁটে বাংলাদেশে পৌঁছই। আমাদের দুদর্শা সেখানে নতুন রূপ নেয়, কারণ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আমাদের সেখানে থাকার অনুমতি দেয় নি। ওরা আমাদের অস্থায়ী আস্তানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, আমাদের হুমকি দিয়েছিল, যাতে আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাই। ”

ছবির ক্যাপশান,

রোহিঙ্গারা বলছেন তারা ১২০জন রোহিঙ্গার জন্য বছরে প্রায় ৭০০ মার্কিন ডলার ঘরভাড়া দেন। তাদের অভিযোগ ইউএনএইচসিআর-এর কাছ থেকে তারা যে ভাতা পান তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ তাদের ঘরভাড়া বাড়ছে বছরে দশ শতাংশ হারে।

ছবির ক্যাপশান,

শুধু তিব্বত ও ভূটান থেকে যাওয়া শরণার্থীদের নেপাল শরণার্থী হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। অন্যান্য দেশের শরণার্থীদের সেখানে ''অবৈধ অভিবাসী'' হিসাবে গণ্য করা হয়। কিন্তু নেপালে অন্যান্য দেশের শরণার্থীরাও আছেন যেমন ইরান, ইরাক, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা এবং ইউক্রেনের শরণার্থীরা।

ছবির ক্যাপশান,

নেপালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র খোশারি নিরাউলা বলছেন সব শরাণার্থীর খাদ্য ও বাসস্থানের প্রত্যাশা মেটানো সম্ভব নয়, সরকার সেটা অনুৎসাহিত করারই চেষ্টা করে। তার মন্ত্রণালয় শহরে এধরনের শরণাথীদের বসতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কাজ করছে।

ছবির ক্যাপশান,

আয়াতোল্লা আয়াতোল্লার (বামে) নেপালে আশ্রয়ের আবেদনে সাড়া দেয় নি কাঠমান্ডুতে ইউএনএইচসিআরের দপ্তর। তবে আমীর হুসেনের মত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য বলছেন ইউএনএইচসিআর অর্থসাহায্য করলে এবং তাদের নিজের দেশ মিয়ানমারে তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে আগ্রহী।