পৃথিবীর মতো আরো সাতটি নতুন গ্রহ

চমকে দেবার মতো এক খবর- আমাদের এই সৌর জগতের বাইরে আরো একটি নতুন সৌর জগতের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।।

সৌর জগত কোন চমক নয়, চমক এজন্যে যে ওই সৌর জগতে আছে আরো সাতটি গ্রহ যেগুলো ট্র্যাপিস্ট ওয়ান নামের একটি নক্ষত্রকে ঘিরে ঘুরছে।

এখানেই শেষ নয়- এই গ্রহগুলো নাকি আমাদের পৃথিবীর মতোই। বলা হচ্ছে, এগুলো সম্ভবত পাথরের তৈরি। আকারেও সমান এবং থাকতে পারে তরল পানিও।

তাহলে সেখানে কি কোন ধরনের জীবনের অস্তিত্ব আছে? তবে থামুন, এসব নিয়ে এতো উত্তেজনার কিছু নেই। কারণ এসব গ্রহ বহু বহু দূরে। সেখানে যাওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই।

গবেষকরা বলছেন, এই সাতটি গ্রহেই তরল পানি থাকার মতো পরিবেশ আছে। তবে সেটা নির্ভর করছে গ্রহগুলোতে আর কি কি ধরনের উপাদান আছে তার ওপর।

তবে এই সাতটির মধ্যে তিনটি গ্রহ ওই সৌর জগতের এমন এক এলাকায় যে জায়গাটি অনেক বেশি বসবাসযোগ্য। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সেসব কারণে এই তিনটি গ্রহে প্রাণের খুব বেশি সম্ভাবনা আছে। এর এসব গ্রহ আছে আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ আলোক বর্ষ দূরে।

ছবির ক্যাপশান,

আমাদের সৌর জগতের সাথে নতুন সৌর জগতের গ্রহগুলোর তুলনা

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা স্পিৎজার স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এসব গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন।

এই কাজে তারা চিলিতে খুবই বড় আকারের একটি টেলিস্কোপ এবং স্পেনের লিভারপুল টেলিস্কোপসহ অন্যান্য টেলিস্কোপ দিয়ে সংগৃহীত তথ্যও ব্যবহার করেছেন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, গ্রহগুলো একটি আরেকটি খুব কাছাকাছি। এবং নক্ষত্রটির খুব কাছেই। জুপিটারের চারপাশে যেসব উপগ্রহ আছে তার সাথে এই নক্ষত্রটির বেশ মিল আছে।

নাসার এই আবিষ্কার নিয়ে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এই প্রতিষ্ঠানটিরই একজন বিজ্ঞানী ড. অমিতাভ ঘোষ। শুনতে চাইলে অডিও ফাইলটিতে ক্লিক করুন।

ছবির উৎস, NASA

ছবির ক্যাপশান,

নতুন সৌর জগতে ভ্রমণের একটি কাল্পনিক পোস্টার তৈরি করেছে নাসা

আমাদের সৌর জগতের বাইরেও আরো সৌরজগতে এতো বেশি গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে যে এই খবরে আমরা মোটামুটি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি।

নাসার তালিকাতেই এরকম গ্রহের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজারের মতো। এবং প্রত্যেকবারই যখন নতুন নতুন গ্রহ আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করা হয়, তখন প্রত্যেকবারই এতে এমন কিছু থাকে যা এক ধরনের চমক সৃষ্টি করে।

এবারের চমক - সাতটি গ্রহ, প্রত্যেকটি পৃথিবীর প্রায় সমান আকারের। শুধু তাই নয়, আরো চমক হচ্ছে, যে ট্র্যাপিস্ট ওয়ান নক্ষত্রকে ঘিরে এসব গ্রহ আবর্তিত হচ্ছে, সেই নক্ষত্রটি ছোট এবং খুব বেশি উজ্জ্বল নয়।

নক্ষত্রটির আলো যখন টেলিস্কোপে এসে পড়েছে তখন সেটির চোখ ধাঁধিয়ে যায়নি, যেমনটা অত্যুজ্জ্বল নক্ষত্রের দিতে তাকালে হয়ে থাকে। ফলে এই আবিষ্কার দূরের পৃথিবী সর্বোপরি মহাবিশ্বের বায়ুমণ্ডলকে দেখার, তার সম্পর্কে জানার এক বিশাল দরজা খুলে দিয়েছে।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করছেন মিজানুর রহমান খান