বাংলাদেশের বাস্তবতা মানতে হবে: ভাস্কর্য সরানোর বিষয়ে ওবায়দুল কাদের

বিবিসি বাংলা, বাংলাদেশ

ছবির উৎস, facebook

ছবির ক্যাপশান,

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলছেন, দেশের বাস্তবতা মানতে হবে। দেশের সিংহভাগ মানুষের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশে হাইকোর্ট ভবনের সামনে থেকে একটি ভাস্কর্য সরিয়ে নিতে হেফাজতে ইসলামের দাবির প্রতি প্রধানমন্ত্রী হাসিনার প্রকাশ্য সমর্থন নিয়ে অব্যাহত বিতর্কের মাঝে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলছেন, দেশের বাস্তবতা মানতে হবে। দেশের সিংহভাগ মানুষের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

মঙ্গলবার এক বৈঠকে হেফাজতের নেতারা ইসলামি সংস্কৃতির সাথে সাংঘার্ষিক এই যুক্তিতে ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেওয়ার দাবী তুললে শেখ হাসিনা বলেন -- তিনি নিজেও এটি পছন্দ করেন না।

তারপর থেকেই টিভি-সংবাদপত্র সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকেই সমালোচনা করছেন -- রাজনীতির স্বার্থে আওয়ামী লীগ হেফাজতকে অতিরিক্ত ছাড় দিচ্ছে, আপোষ করছে ।

বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এই সমালোচনা কি তিনি অস্বীকার করতে পারেন ?

জবাবে মি. কাদের বলেন,"এ বিষয়ে প্রত্যেকেরই নিজস্ব মতামত থাকতে পারে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেটা বলেছেন তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা বলেননি। তিনি(প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, আমি মাননীয় প্রধান বিচারপতির সাথে বসবো"।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ভাস্কর্যটি সম্পর্কে বলেছেন তিনি নিজেও এটি পছন্দ করেননি।

ছবির উৎস, facebook

ছবির ক্যাপশান,

শেখ হাসিনার সাথে ওবায়দুল কাদের

এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের আবারও বলেন, "সেটা বলেছেন। কিন্তু তিনি এটাও বলেছেন যে, তিনি প্রধান বিচারপতির সাথে আলাপ করবেন। কোনও চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি"।

তবে শুধুমাত্র ভাস্কর্য ইস্যুটিই নয়। হেফাজতে ইসলামীর দাবির প্রেক্ষাপটে পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন এসেছে, কওমি মাদ্রাসার ডিগ্রীকে মাস্টার্স হিসেবে যোগ্যতা দেয়ার বিষয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকার খুব জোর গলায় অভিযোগ করেছে তা নয়।

এ বিষয়টাকে সরকারের কম্প্রোমাইজ হিসেবে দেখছে সবাই। বিবিসি বাংলার শাকিল আনোয়ারের এমন প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মি. কাদের বলেন, "কম্প্রোমাইজ কেন হবে? দেখুন এ দেশে যুদ্ধাপরাধীদেরর বিচার কারও পক্ষেই সম্ভব হয়নি। এ দু:সাহসিক কাজটা শেখ হাসিনার পক্ষে সম্ভব হয়েছে। জঙ্গি-বিরোধী অবস্থান এটা নিয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। তবে আমাদের দেশে কিছু রাজনৈতিক বাস্তবতা আছে"।

তিনি বলেন, "অনুভূতি -আবেগ আছে। আমাদের মডারেট হতে হবে। বাস্তবতার আলোকে কিছু কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের দেশে জনগণের আবেগ-অনুভূতির দিকটা আমাদের দেখতে হবে"।

এটা আপোষ নয়, মাদ্রাসা শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দেওয়ার লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে আসছে আওয়ামী লীগের সরকার। সেখানে ইসলামী একটি গোষ্ঠীর দাবির প্রতি সমর্থন দেয়া কি নিজেদের মূল লক্ষ্য থেকে সরে আসা নয়? জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, "রিয়েলিস্টিক অ্যাপ্রোচ নিয়ে দেশ চালাতে হবে। অধিকাংশ জনগণের যে আবেগ-অনুভূতি সেটাকে ইগনোর (উপেক্ষা) করতে পারিনা"।

এরপর যদি অন্য কোনও ভাস্কর্য সরানোর দাবি তোলা হয় তখন কি করবে সরকার?

এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, "সেটা হলে তো আমরা মানবো না"