'শুধু কথা দিয়ে' হিসেব রাখার প্রযুক্তি আসছে মোবাইলে

বাংলাদেশ

ছবির উৎস, FARJANA K. GODHULY

ছবির ক্যাপশান,

মোবাইল ফোন হাতে একজন কৃষক

বাংলাদেশে শুধুমাত্র কথার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের হিসেব রাখার এক ডিজিটাল সেবা চালু করতে যাচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান এটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারও করছে।

একে বলা যায় 'ডিজিটাল হালখাতা' - বলছেন এটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা জুবায়ের আহমেদ।

এটি এমন একটি সফটওয়ার - যা মোবাইল ফোনের 'স্পিচ রিকগনিশন' বা কণ্ঠস্বর চিনে রাখার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করেছে 'হিসাব' নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশে অনেকে আছেন যারা সামান্যই লেখাপড়া জানেন বলে তাদের আর্থিক লেনদেনের নির্ভুল হিসেব রাখাটা কষ্টকর হয়ে পড়ে, তারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শুধু কথা বলেই আয়-ব্যয়, বেচা-কেনা, বা দেনা-পাওনার হিসেব রাখতে পারবেন এই 'হিসাব' নামের সেবাটি ব্যবহার করে।

ছবির উৎস, FARJANA K. GODHULY

ছবির ক্যাপশান,

কেনা-বেচা, আয়-ব্যয়, দেনা-পাওনা সব রকম হিসেব রাখা যাবে এই প্রযুক্তিতে

মোবাইল ফোন ভিত্তিক এই সফটওয়ারটির নামই হলো হিসাব। মোবাইল ব্যবহার করার মতো সামান্য অক্ষরজ্ঞান থাকলেই এটি দিয়ে কাজ করা যাবে।

আর যারা শিক্ষিত ও মোবাইল ফোন ব্যবহারে দক্ষ - তাদের বেলায় তো কথাই নেই।

বিবিসি বাংলাকে এর কার্যপদ্ধতি ব্যাখ্যা করে জুবায়ের আহমেদ বলছিলেন, এ জন্য কোন এ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে না। তাই শুধু স্মার্টফোন নয় - যে কোন অতি সাধারণ মোবাইল থেকেও এই ডিজিটাল হালখাতা বা আর্থিক লেনদেনের বিবরণ সংরক্ষণের পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে।

একজন গ্রাহককে এ জন্য পাঁচ অংকের একটি নির্দিষ্ট নাম্বারে ডায়াল করতে হবে।

ছবির উৎস, SHAWKAT KHAN

ছবির ক্যাপশান,

অতি সাধারণ মোবাইল ফোন দিয়েই ব্যবহার করা যাবে এই সেবা

"ডায়াল করলেই তিনি 'কানেকটেড' হয়ে যাবেন। এর পর তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলার মতো করেই মুখে বলবেন - যেমন ধরুন, 'আমি চাল কিনেছি ৩০ কেচি ৪০ টাকা কেজিপ্রতি দরে। আলু কিনেছি ২০ টাকা কেজি দরে ৬০ কেজি'- ইত্যাদি" - বলছিলেন জুবায়ের আহমেদ।

"এর পর তিনি বলবেন এটা আমি কিনেছি ধরা যাক 'মিম গ্রসারি' থেকে যার নাম্বার হচ্ছে ধরুন ১২৩৪৫৬৭৮. এটা বলে আপনি ব্যবহারকারী লাইনটি কেটে দিতে পারেন।"

"এর পরপরই ব্যবহারকারী এবং মিম গ্রসারি দু পক্ষই একটি টেক্স মেসেজ পাবেন - যাতে এই পুরো বেচাকেনার বিবরণটি লিখিত আকারে থাকবে।"

"হিসাব নামের এই ডিজিটাল প্রযুক্তি এই মুখে বলা কথা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড করে রাখবে, তাকে লিপিবদ্ধ করবে বা টেক্সট-এ পরিণত করবে - এবং তা একটি ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষণ করে রাখবে।"

ছবির উৎস, FARJANA K. GODHULY

ছবির ক্যাপশান,

গ্রাহকের কষ্ঠস্বর চিনে রাখবে এই প্রযুক্তি

"এই সেবার গ্রাহকরা প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড পাবেন - যার মাধ্যমে তার 'ডিজিটাল হালখাতায়' কি আছে, কি কেনাবেচা হলো, কি ভাড়া দেয়া হলো, বা কার কাছে কত দেনা-পাওনা আছে - এসবের হিসেব দেখতে পারবেন, ডাউনলোড করেও নিতে পারবেন।"

জুবায়ের আহমেদ বলছিলেন, এই সফটওয়ারটি প্রতিটি একাউন্ট ইউজারের কণ্ঠস্বর-বাচনভঙ্গী চিনতে পারবে, তিনি কোন মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন তাও মনে রাখবে - তাই এর মধ্যে প্রতারণার সুযোগ প্রায় থাকবেই না।

মি. আহমেদ বলেন, 'বাংলাদেশের ৪৭টি ডায়ালেক্ট বা আঞ্চলিক কথ্য ভাষার মধ্যে ২৭টি এই সফটওয়ার বুঝতে পারে, আর বাকিগুলো এতে সন্নিবেশিত করার কাজ চলছে'।

ছবির উৎস, FARJANA K. GODHULY

ছবির ক্যাপশান,

আয়ব্যয়ের হিসেব পরে লিখিত আকারে মোবাইল থেকে ডাউনলোডও করা যাবে

তাই অচিরেই কারো কথার আঞ্চলিক টানের জন্য যে এই সফটওয়ার কারো কথা বুঝতে পারবে না - এমন সম্ভাবনাও দুর হয়ে যাবে।

এখনো এটি আছে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এটি ব্যবহার করছে, এবং এখন পর্যন্ত সফটওয়ারটি নির্ভুলভােই কাচ করছে, জানালেন মি. আহমেদ।

জুলাই মাসে এটি বাণিজ্যিকভাবে চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন মি. জুবায়ের।

তার মতে, মোবাইল ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক লেনদেনের হিসেব রাখার ক্ষেত্রে এটা এক বিরাট পরিবর্তন নিয়ে আসবে।