স্ট্রোকে আক্রান্তদের মৃত্যুর ঝুঁকি দ্বিগুণ: গবেষণা প্রতিবেদন

  • ফারহানা পারভীন
  • বিবিসি বাংলা, ঢাকা
হাসপাতালে রোগী

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, একবার স্ট্রোকের পর যারা বেঁচে যাচ্ছে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি দ্বিগুণ।

কানাডার মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, স্ট্রোক বা মিনি স্ট্রোকের কারণে যে ধরনের ঝুঁকির কথা আগে ধারণা করা হতো দীর্ঘস্থায়ী ঝুঁকি তার চেয়ে আরো ভয়াবহ।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, একবার স্ট্রোকের পর যারা বেঁচে যাচ্ছে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি দ্বিগুণ।

এছাড়া এক বছরের মধ্যে আরো একবার স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হতে পারেন তারা।

স্ট্রোকের ঝুঁকি বয়স্কদের বেশি আগে এমনটা ধারণা করা হলেও, সেটা এখন ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও এখন প্রায় পাঁচ লক্ষ লোক স্ট্রোকে আক্রান্ত।

কিন্তু ঠিক কী কারণে স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে এখন মানুষ?

আমেরিকান দূতাবাসের সাবেক নিরাপত্তাকর্মী আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা। ২০০৪ সালে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এর পর থেকে কর্মক্ষমতা হারান তিনি।

এর পাঁচ বছরের মধ্যেই আরো একবার বড় ধরনের স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে সম্পূর্ণ চলনশক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি।

মি: মোল্লার স্ত্রী নার্গিস আরা বলছিলেন, প্রথম স্ট্রোকটি করেছিলেন তিনি তার ৪০ বছর হওয়ার আগেই।

"এখন শুধু ওনার শুধু নি:শ্বাসটা চলে বাকি কিছুই করতে পারেন না বলতেও পারেন না"।

নার্গিস আক্তার বলছিলেন এমনিতে মি: মোল্লার অন্য কোন রোগ ছিলো না কিন্তু তারা ধারণা করেন পারিবারিক কিছু কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন সেটাই স্ট্রোটের কারণ হতে পারে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, একবার স্ট্রোকের পর যারা বেঁচে যাচ্ছে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি দ্বিগুণ। এছাড়া এক বছরের মধ্যে আরো একবার স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হতে পারে।

কানাডার মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ২৬ হাজার মানুষের উপর গবেষণা করে পাওয়া গেছে, প্রথম স্ট্রোক করার পাঁচ বছরের মধ্যে একজন মানুষের এসব ঝুঁকির শঙ্কা বেশি।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

গবেষকরা বলছেন- স্ট্রোকের অন্যতম কারণ ডায়াবেটিকস, উচ্চ রক্তচাপ ধরা হলেও তার চেয়ে বড় আরো অনেক কারণ রয়েছে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স এন্ড হসপিটাল বলছে, বাংলাদেশে এখন প্রতি এক হাজারে তিন জন স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে। সেই হিসেবে প্রায় ৫ লক্ষ লোক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে ভুগছে।

হাসপাতালটির একজন চিকিৎসক অধ্যাপক বদরুল আলম বলছিলেন মানসিক চাপ স্ট্রোকের একটি কারণ তবে তারচেয়ে বড় আরো অনেকগুলো কারণ রয়েছে।

"ডায়াবেটিকস, উচ্চ রক্তচাপ অন্যতম কারণ স্ট্রোকের। মানসিক চাপ একটা বড় কারণ তবে এটাই একমাত্র কারণ না" -বলছিলেন তিনি।

কানাডিয়ান ওই জার্নালে লেখক ড.মাইকেল হল লিখেছেন মৃত্যুঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও স্ট্রোককে একটি বড় সাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

স্ট্রোক সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা রয়েছে বয়স্করা এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। কিন্তু সেটাকে একটা ভুল তথ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে তরুণ বয়সীদের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কতটা দেখা যাচ্ছে?

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স এন্ড হসপিটালের অধ্যাপক বদরুল আলম বলছিলেন, গত ১০/১২ বছরে ৪০ বছরের নিচে এখন অনেকে স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে।

অধ্যাপক আলম বলছিলেন "৪০ বছরের নীচে এখন অনেকেই ডায়াবেটিকস বা রক্তচাপে ভুগছে। আমরা আগে ভাবতাম এগুলো একটু বয়স হলে হয়। কিন্তু আপনি দেখেন স্ট্রোকের এখন কোনো বয়স নেই। ২৫ থেকে ৩০ বছরের অনেকেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছে"।

"আরেকটা বিভৎস কারণ যেটা দেখতে পাচ্ছি সেটা হলো টিনএজাররা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। মাদকে আসক্ত হয়ে অনেকে স্ট্রোক করছে, আমরা দেখেছি"।

স্ট্রোকের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশে কত মানুষ মারা যাচ্ছে তার কোনো পরিসংখ্যান নেই।

তবে উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপে মৃত্যুর তৃতীয় ও চতুর্থ কারণ স্ট্রোক আর উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রধান কারণ হিসেবে স্ট্রোককে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

চিকিৎসকেরা বলছেন, বাংলাদেশে গত ১০/১২ বছরে ৪০ বছরের নিচে এখন অনেকে স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে।