মাঠে ময়দানে
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

বিশ্বকাপ ২০১৮-র টিকিট পাবার পথে কোন দেশ কতদূর?

আগামি বিশ্বকাপের জন্য কোয়ালিফাইং পর্বের জন্য অনেকগুলো ম্যাচ হয়ে গেল গত কয়েকদিনে।

এ পর্যন্ত আটটি দেশ রাশিয়ার বিশ্বকাপে খেলা নিশিচত করে ফেলেছে - কিন্তু অন্য দেশগুলোর কে কি অবস্থায়?

আগামি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে খেলতে দেখা যাবে কিনা এখনো নিশ্চিত হয় নি। কারণ লিওনেল মেসির মতো তারকা থাকলেও আর্জেন্টিনা আবারো ড্র করেছে ভেনেজুয়েলার সাথে তাদের সবশেষ ম্যাচে।

আগামি বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে আর এক বছরও বাকি নেই, রাশিয়ায় আগামি বছর ১৪ই জুন থেকে শুরু হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০১৮।

মস্কো আর সেন্ট পিটার্সবুর্গ আর সোচি সহ রাশিয়ার মোট ১২টি শহরে বিশ্বকাপের খেলাগুলো হবে। বিভিন্ন শহরে স্টেডিয়ামগুলো এখনো তৈরি হচ্ছে।

এখন পুরোদমে চলছে কোয়ালিফাইং পর্ব। মাঠে ময়দানের এ পর্বে আমরা দেখবো কোন দেশ কি অবস্থায় আছে।

২০১৮র বিশ্বকাপে খেলবে মোট ৩২টি দল, তার মধ্যে ৮টি দেশ এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করে ফেলেছে।

স্বাগতিক রাশিয়া তো আছেই, তার পর সবার আগে বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল - মার্চ মাসেই। এর পর জুন মাসে নিশ্চিত করেছে ইরান। আগস্ট মাসে জাপান। আর সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে মোট ৪ টি দেশ বেলজিয়াম, মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া আর সউদি আরব।

এশিয়া অঞ্চল থেকে কোয়ালিফাই করেছে ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান আর সউদি আরব।

ছবির কপিরাইট MLADEN ANTONOV
Image caption রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে তৈরি হচ্ছে স্টেডিয়াম

এখানে দুটো গ্রুপে তিন নম্বরে আছে সিরিয়া আর অস্ট্রেলিয়া। সিরিয়া আর অস্ট্রেলিয়া এখন নিজেদের মধ্যে দুটি ম্যা্চ খেলবে। জয়ী দল খেলবে ইন্টার কনফেডারেশন প্লে-অফ, কনকাকাফ অর্থাং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চলের গ্রপে চতুর্থ স্থান পাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে।

সিরিয়া গৃহযুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ হলেও্র বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত দারুণ খেলেছে বলতে হবে। কিন্তু এ প্রশ্ন অনেকেরই মনে আসবে যে প্রায় ৬ বছরের গৃহযুদ্ধের মধ্যে কি ভাবে সিরিয়া দলটি ফুটবল খেলছে?

সিরিয়া নিজেদের দেশের মাটিতে হোম ম্যাচ খেলতে পারে না। তাদের জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাও বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে।

সিরিয়া ফুটবল দলের সহকারী কোচ আরেক জাব্বান বলছিলেন, এটা অবশ্যই একটা কঠিন কাজ, কঠিন পরিস্থিতি। তবে সিরিয়ার জনগণ যেন ভালো করতে পারে, সে জন্য সবাই সাহায্য করতে আগ্রহী। ভবিষ্যতে ভালো ফল করতে হলে সিরিয়ার ওপর অন্য দেশগুলোর আস্থা বাড়াতে হবে।

তারা যদি অস্ট্রেলিযাকে হারাতে পারে তাহলে সিরিয়াকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে খেলতে হবে। যেহেতু সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে সরকারবিরোধীদের সমর্থন দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র - তাই এটা একটা উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ হবে বলে আশা করা যায়, যদি হয়।

উত্তর ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চল থেকে কোয়ালিফাই করেছে মেক্সিকো, এ অঞ্চল থেকে আরো তিন বা চারটি দেশ বিশ্বকাপে যাবে। এতে আছে কোস্টারিকা, পানামা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে ব্রাজিল এর মধ্যেই নিশ্চিত হয়ে গেছে, তাদের পেছনে আছে উরুগুয়ে, কলম্বিয়া, পেরু, আর আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনাকে ইন্টার কনফেডারেশন প্লে-অফ খেলতে হবে।

ইউরোপ থেকে একমাত্র বেলজিয়াম আর স্বাগতিক রাশিয়ার বিশ্বকাপে যাওয়া চুড়ান্ত হয়ে গেছে, আরো ১২টি দেশ যাবে। এ গ্রুপে জার্মানি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া পোল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড - এদের কোয়ালিফাই করা মোটামুটি নিশ্চিত তবে,

ছবির কপিরাইট MLADEN ANTONOV
Image caption রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে চলছে নির্মাণকাজ

কিন্তু ইতালি, সুইডেন, পর্তুগাল, শ্রোভাকিয়া, উত্তর আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস, আইসল্যান্ড, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, আর মন্টেনেগ্রো - এই দেশগুলোর সম্ভবত প্লে-অফ খেলে রাশিয়ার টিকিট পেতে হবে।

আফ্রিকা থেকে মোট পাঁচটি দেশ বিশ্বকাপে যাবে। এখানে আইভরি কোস্ট, তিউনিসিয়া, নাইজেরিয়া, এবং মিশর অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছে।

সবচেয়ে বিপদে আছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির মতো তারকা যে দেশের দলে - সেই দেশ বিশ্বকাপে যাওয়া অনিশ্চিত, এটা অনেকেই ভাবতে পারবেন না। কিন্তু এটাই বাস্তবতা।

গত বিশ্বকাপের রানার্স-আপ আর্জেন্টিনা সবশেষ কোয়ালিফাইং ম্যাচে একটি আত্মঘাতী গোলের কারণে কোনমতে ভেনেজুয়েলার সাথে ড্র করেছে।

এর ফলে তারা গ্রুপে পঞ্চম স্থানে আছে এখন এবং তাদের হাতে আছে মাত্র দুটি ম্যাচ।

বিবিসির জোসে পিনোশে বলছিলেন, আর্জেন্টিনার এই ফলাফল এখন তাদের ভক্তদের জন্য রীতিমত লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা এখন যে জায়গায় আছে তাতে তাদের প্লে-অফ ম্যাচ খেলতে হবে নিউজিল্যান্ডের সাথে। ফলে এখনো তাদের বিশ্বকাপে যাবার বড় সম্ভাবনা আছে। কিন্তু এটা ঠিক যে - এখন যে পরিস্থিতি এটা কেউ আশা করে নি।

ছবির কপিরাইট MLADEN ANTONOV
Image caption বিশ্বকাপের স্বাগতিক রুশ প্রেসিডেন্ট পুটিন

এর আগেও একবার আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে গিয়ে বিরাট সমস্যায় পড়েছিল । সেটা ১৯৯৪ সালে - যেবার মার্কিন যুক্তরাষ্টে বিশ্বকাপ হয়েছিল। সেবারও তারা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একটি প্লে-অফ ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের টিকিট পায়। তাদের এ জন্য দলে ডেকে আনতে হয়েছিল দিয়েগো মারাদোনাকে।

কাজেই এবারই প্রথম নয়, আগেও এমন হয়েছে। কিন্তু আর্জেন্টিনার মতো দেশ - যারা দু'বার বিশ্বকাপ জিতেছে, গত বার রানার্সআপ হয়েছে - তারা এভাবে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে চায় না।

জোসে পিনোশে বলছিলেন, আগামি মাসে তাদের পেরুর বিরুদ্ধে ম্যাচ রয়েছে। সেই ম্যাচও হবে বুয়েনোস আইরেসে - কিন্তু সে খেলার ফল কি হবে তা কেউ বলতে পারে না।

কারণ আর্জেন্টিনা এবার গ্রুপ পর্বে ইকুয়েডর, প্যারাগুয়ের সাথে হেরেছে, ভেনেজুয়েলার সাথে ড্র করেছে।

বিশ্বকাপে কোয়ালিফা্ইং পর্বের শেষ খেলাগুলো হবে অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে, এবং নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে। আর্জেন্টিনার খেলা রয়েছে পেরুর সাথে ৫ই অক্টোবর, আর ইকুয়েডরের সাথে ১০ই অক্টোবর।

যদি তাদের প্লে-অফ খেলতে হয় তা হবে নভেম্বরের ৬ এবং ১৪ তারিখে।

কিন্তু বিশ্বজুড়ে আর্জেন্টিনার কোটি কোট ভক্ত চাইবেন যে রাশিযার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এবং লিওনেল মেসিকে মাঠে নামতে দেখা যাবে কিনা তা যেন তার আগেই নিশ্চিত হয়ে যায় ।

সম্পর্কিত বিষয়