'রোহিঙ্গাদের ত্রাণ নিয়ে বিদেশী সংস্থাগুলো একত্রে কাজ করবে'

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption সম্প্রতি চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ তৎপরতার নেতৃত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে কোন প্রতিযোগিতা কিংবা জটিলতা নেই বলে মনে করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ সচিব শাহ কামাল।

তিনি বলেন, ত্রাণ তৎপরতার ক্ষেত্রে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী সবচেয়ে বেশি কাজ করছে অন্যান্য সংস্থাগুলো তাদের সহায়তা করছে।

সরকার বলছে, যতদিন রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন চলবে ততদিন পর্যন্ত সবগুলো বিদেশী সংস্থা একত্রে কাজ করবে।

সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ সচিব শাহ কামাল বিবিসি বাংলাকে বলেন, ত্রাণের ক্ষেত্রে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করলেও রোহিঙ্গাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ,চিকিৎসা এবং অন্যান্য কাজের জন্য ইউএনএইচসিআর, আইওএম এবং এসিএফ'র সাথে বাংলাদেশ সরকারের সমঝোতা হয়েছে।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য বিদেশী ত্রাণ সহায়তা গ্রহণ করতে চট্টগ্রাম বিমান এবং সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

বাংলাদেশে ত্রাণ সহায়তা আসার পর সেনাবাহিনীর সহায়তায় নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে দেয়া হবে।

মি: কামাল বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ তৎপরতার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সাড়া বাড়ছে।

মি: কামাল জানান, বিদেশী ত্রাণ সহায়তা চট্টগ্রামে আসার পর সেনাবাহিনী সেগুলো গ্রহণ করে নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে দেবে।

জেলা প্রশাসকের কাছে সেগুলো নথিভুক্ত হবার পর সেগুলো গুদামে সংরক্ষণ করা হবে।

সরকার মনে করছে রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য যে পরিমাণ বিদেশী ত্রাণ পাওয়া যাচ্ছে সেটি বেশ ভালো। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী বা ডব্লিউএফপি সবচেয়ে বেশি সহায়তা করছে বলে জানান ত্রাণ সচিব।

তিনি বলেন, "বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী দুই লক্ষ ষাট হাজার রোহিঙ্গাকে ত্রাণ সামগ্রী দিচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে এ লক্ষ মানুষকে। এর পাশাপাশি তুরস্কের রেড ক্রিসেন্ট সহায়তা করছে ৩০ হাজারকে।"

জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভাসমান রোহিঙ্গাদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

এছাড়া বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী প্রতিটি রোহিঙ্গা পরিবারকে একমাসের জন্য ৩০ কেজি চাল এবং অন্যান্য সামগ্রী দিচ্ছে। তুরস্কের রেড ক্রিসেন্টও রান্না করা খাবার বিতরণ করছে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী বাংলাদেশ সরকারকে নিশ্চয়তা দিয়েছে যে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তারা বর্তমান ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

এরপর ত্রাণ সহায়তা নিয়ে জানুয়ারি মাসে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী আবারো দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি দিবে বাংলাদেশ সরকারকে।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য ২৮ মিলিয়ন ডলার সহায়তা করবে। এছাড়া সৌদি আরব দেবে ১৫ লক্ষ ডলার জাতিসংঘ দেবে ৭৭ মিলিয়ন ডলার।

সম্পর্কিত বিষয়