মাঠে ময়দানে
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

ক্রিকেটে `স্পট ফিক্সিং' জোচ্চুরি ঠেকানো কি সম্ভব?

স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে পাকিস্তানের ক্রিকেটার খালিদ লতিফকে বুধবার পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তানের ক্রিকেটে বোর্ড পিসিবি। পাকিস্তানের টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট পিএসএলের গত আসরে এই ফিক্সিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তান জাতীয় দলের হয়ে লতিফ ৫টি ওডিআই এবং ১৩টি টি২০ ম্যাচ খেলেছেন। তবে পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেট তিনি বড়মাপের একজন তারকা।

বছর চারেক আগেও আইপিএলের মত হাই-প্রোফাইল টুর্নামেন্ট তোলপাড় হয়েছে।

সর্বশেষ কেলেঙ্কারি হলো পাকিস্তান সুপার লীগ পিএসএলের এ বছরের (২০১৭) আসরে। খালিদ লতিফ সহ এখন পর্যন্ত ছয়জন ক্রিকেটারকে স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আইসিসি ছাড়াও জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডগুলোও নানাভাবে চেষ্টা করছে এই দুর্নীতি বন্ধ করতে। তারপরেও থেকে থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই জোচ্চুরির প্রমাণ মিলছে। কেন স্পট ফিক্সিং কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছেনা ?

কলকাতায় ক্রিকেট লেখক বরিয়া মজুমদার বিবিসি বাংলাকে বলেন, তিনি মনে করেন স্পট ফিক্সিং পুরোপুরি বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব। "ম্যাচ যদি টিভিতে লাইভ দেখানো হয়, মোবাইল ফোন যদি থাকে, তাহলে এই জোচ্চুরি বন্ধ করা খুবই কঠিন।"

তার মতে - বেটিং হয়তো বন্ধ করা সম্ভব, কারণ বেটিং করতে কয়েকজনের সাথে জুয়াড়িদের বোঝাপড়া করতে হয়, ফলে ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি। কিন্তু একজন বোলার তার একটি নির্দিষ্ট ওভারে দুটি ওয়াইড বা নো বল করবেন - এটা শত নজরদারি করেও ধরা অসম্ভব।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption খালিদ লতিফ

বরিয়া মজুমদারের আশঙ্কা পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের জন্য যদি ক্রিকেট থেকে আয় বাড়ানোর ব্যবস্থা না হয়, তাহলে সেদেশে এই প্রবণতা ঠেকানো কঠিন হবে।

এছাড়া, তিনি বলেন, যেভাবে সারা পৃথিবীতে ফ্রাঞ্চাইজি টি-২০ ক্রিকেটের প্রসার হচ্ছে তাতে স্পট-ফিক্সিংয়ের প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা অনেক।

যাযাবর এক ফুটবলারের বয়ান

ইংলিশ ফুটবলার রোহান রিকেট সম্পর্কে বলা হয় তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দেশে পেশাদার ফুটবল খেলেছেন। লন্ডনের ক্লাব আর্সেনাল থেকে ফুটবল শুরু। তারপর বিশ্বের চারটি মহাদেশের ১১টি দেশের লীগে খেলেছেন - ক্যানাডা, হাঙ্গেরি, মলডোভা, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, একুয়েডর, থাইল্যান্ড, ভারত, হংকং এমনকী বাংলাদেশের ফুটবল লীগেও খেলেছেন রোহান রিকেট। ফুটবল যদি বিশ্বের একমাত্র সত্যিকারের আন্তর্জাতিক খেলা হয়, তাহলে রোহান রিকেট তার যথার্থ প্রতিনিধি।

বিবিসির সাথে কথা কথোপকথনে এই বর্ণময় ফুটবলার স্বীকার করেছেন, ফুটবলের 'কালো জগতে' এখনও দেদারছে ম্যাচ গড়াপেটার দুর্নীতি চলছে, বন্ধ হয়নি বর্ণবাদ।

"রুমের ভেতর আমার পাশেই সতীর্থ ফুটবলারদের কানাঘুষো করতে শুনেছি তাদের বোনাস কি তারা রেফারিকে দিয়ে দেবে নাকি নিজেরা রাখবে। অনেক মানুষই জানেনা যে ফুটবলে অন্ধকার একটা জগত রয়েছে। প্রচুর টাকা যেমন, তেমনি ব্যাপক দুর্নীতি।"

"ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কোনো প্রস্তাব নিয়ে কেউ আসেনি। আমি এমন দলেও খেলেছি যেখানে শুনেছি অমুক খেলোয়াড় ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য টাকা নিয়েছে। দুবছর পর দেখেছি সে কারাগারে।"

একুয়েডরে থাকার সময় সালসা নাচ আর ল্যাটিন সংস্কৃতির সংস্পর্শে তার যে মুগ্ধতা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো রয়েছে। পাশাপাশি, পূর্ব ইউরোপের মলডোভায় তার তিক্ত অভিজ্ঞতা এখনো ভোলেননি রিকেট।

"সবচেয়ে খারাপ জায়গা? খুব সহজ উত্তর । মলডোভা। আমি সেখানে গেলাম, চুক্তি করলাম। কিন্তু কোনো পয়সা পাইনি। অভিযোগ নিয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ বলে দিলো - তুমি এই চুক্তি জাল করেছো। এর মত অবাস্তব ঘটনার সম্মুখীন আমি কখনো কোথাও হইনি।"

ছবির কপিরাইট .
Image caption রোহান রেকিট - যাযাবর ফুটবলার

গায়ের রং কালো হওয়ার কারণে বর্ণবাদি আচরণের শিকার হয়েছেন বিভিন্ন সময়। সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছিলো ইউরোপা লীগের একটি ম্যাচে। প্রতিপক্ষ ছিলো গ্রীসের ক্লাব পাওক সালোনিকা।

"খেলা শুরুর আগে আমি ওয়ার্ম আপ করছিলাম। যখনই বল আমার পায়ে আসছিলো গ্যালারি থেকে বাঁদরের ডাকের মত শব্দ আসছিলো। আমি ড্রেসিং রুমে গিয়ে একটি কলা নিয়ে ফিরে এসে গ্যালারিতে ছুড়ে দিয়েছিলাম ... আসলে অজ্ঞ কিছু মানুষ এগুলো করে।"

সম্পর্কিত বিষয়