এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার: মইনুল আহসান সাবের
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার: মঈনুল আহসান সাবের

কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও প্রকাশক, তিনটি পরিচয়েই পরিচিত মঈনুল আহসান সাবের।

লেখালেখি করছেন গত কয়েক দশক জুড়ে। প্রকাশিত হয়েছে অসংখ্য জনপ্রিয় উপন্যাস, ছোটগল্প, কিশোর উপন্যাস। তার বেশ কয়েকটি লেখা নিয়ে টেলিভিশন নাটকও তৈরি হয়েছে।

''সবগুলো কাজের প্রতিই আমার শ্রদ্ধা আছে। তবে সবচেয়ে ভালো লাগে ছোটগল্প লিখতে'', বলছিলেন মি. সাবের।

ঢাকায় তার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। বাবা কবি আহসান হাবিব। ছোট বেলা থেকেই বাড়িতে বইয়ের মধ্যে বেড়ে উঠেছেন।

কলেজ জীবন থেকেই লেখালেখি করতে শুরু করেন। কিন্তু সাংবাদিক বাবার কারণে ছোটবেলাতেই এই পেশার প্রতি টান তৈরি হয়। পরবর্তীতে পেশা হিসাবে সাংবাদিকতাকে বেছে নেন।

তবে সবসময়েই তাঁর কাছে প্রাধান্য পেয়েছে লেখালেখি।

যে মধ্যবিত্ত সমাজে তার বেড়ে ওঠা, সেই মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, বেদনা, বঞ্চনা, প্রতারণা তাঁর লেখায় ঘুরে ফিরে এসেছে।

সাবের বলছেন, ''এই সমাজেই আমি বেড়ে উঠেছি। যখন লেখালেখি শুরু, তখন সদ্য স্বাধীন একটি দেশে নতুন মধ্যবিত্ত একটি সমাজ বিকশিত হচ্ছে। তাদের নিয়ে লেখতে দিয়ে দেখি একধরণের স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি। কারণ এই মানুষগুলোকে আমি চিনি।''

কখনো কখনো লেখকের ব্যক্তি জীবনের অনেক গল্পও লেখায় এসেছে। তা হয়তো পাঠকের পক্ষে ধরা সম্ভব না।

এক সময়ে তার মনে হলো, বাংলাদেশে এখনো বহু ধরণের বই বাকি আছে, যেসব বই কেউ প্রকাশ করছে না। হাতে কিছু টাকাও ছিল। আবার নিজের বাবাও একবার প্রকাশনা ব্যবসা শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করতে পারেননি।

এসব কারণ মিলে তিনি প্রকাশনা ব্যবসা শুরু করেন।

সাবের বলছেন, ''এটা আমি বলতে পারি, অনেক ভিন্ন ধরণের বই আমাদের প্রকাশনী থেকে বের হয়েছে।''

নব্বুইয়ের দশকে কোন কোন বছর তার অনেক বই প্রকাশিত হয়। এ বছরে তার সর্ব্বোচ্চ আটটি বই প্রকাশিত হয়েছে।

সাবের বলছেন, ''প্রকাশকরা সে সময় আরেকজন ব্যবসা সফল লেখককে খুঁজছিলেন। তাই তাদের একটা চাপ ছিল। যে আটটি বই বের হয়েছিল, তার বেশিরভাগ রচনাই আগে থেকে তৈরি ছিল। কিন্তু এখন মনে হয়, লেখকের জন্য এটা একটা ফাঁদ। প্রকাশকরা স্বেচ্ছায় এই ফাঁদ তৈরি করছেন তা নয়। হয়তো জনপ্রিয়তা পাওয়ার কিছু ইচ্ছাও আমার তৈরি হয়েছিল। এখন বুঝতে পারি, লেখকদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।''

তিনি বলছেন, ''পরে সেই ধারা থেকে আমি সরে আসি। এই সরে আসার প্রক্রিয়াটা ছিল কষ্টের। আমি হয়তো কয়েক বছর লিখছি, কিন্তু বই বের করছি না। আমার এমনও হয়েছে, বহু চেষ্টা করেও লিখতে পারছি না।''

প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির গল্প বলতে গিয়ে বলেন, ''সব লেখকেরই কিছু অতৃপ্তি বৈষয়িক দিকে আমি কখনোই সচেতন ছিলাম না। তাই সে নিয়ে বলার কিছু নেই। কিন্তু লেখক হিসাবে এই দেশে আমাকে নিয়ে যতটা আলোচনা হওয়া উচিত ছিল, তা হয়নি। তবে এখন তরুণ লেখকরা আমার লেখাকে অনেক গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। সেটা আমার বড় পাওয়া।''

ব্লগে বা ইন্টারনেট ভিত্তিক বিভিন্ন মাধ্যমে যে লেখালেখি হচ্ছে, তা লেখক সৃষ্টিতে একটি ভালো ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, সবাই হয়তো নামী লেখক হবে না, তবে লেখার পরিসর বেড়েছে, এটাই উল্লেখযোগ্য দিক।

বন্ধুদের সংখ্যা খুব কম। একা থাকতে ভালোবাসেন। নির্জনতা প্রিয়, ভ্রমণ ভালো লাগে। আবার ইচ্ছা করলে ঘরেও দিনের পর দিন পার করে দিতে পারেন।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সায়েদুল ইসলাম।

সম্পর্কিত বিষয়