ভারতের অযোধ্যায় হিন্দু দেবতা রামের মূর্তি তৈরিতে অর্থদান করেছে মুসলমানদের একটি গোষ্ঠী

এই সরযূ নদীর কূলেই নির্মিত হবে রামচন্দ্রের মূর্তি।
Image caption এই সরযূ নদীর কূলেই নির্মিত হবে রামচন্দ্রের মূর্তি।

ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের বিজেপি শাসিত সরকার অযোধ্যায় হিন্দু দেবতা রামের যে বিশাল একটি মূর্তি তৈরির কথা ঘোষণা করেছে, তার দিকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে চাইছে মুসলমানদের একটি গোষ্ঠী।

উত্তরপ্রদেশের শিয়া ওয়াক্‌ফ বোর্ড জানিয়েছে, তারা রামচন্দ্রের ঐ মূর্তির জন্য দশটি রুপোর তৈরি তীর বানিয়ে দেবে।

যে রামজন্মভূমি-বাবরি মসজিদ নিয়ে বহু দশক ধরে বিতর্ক ও মামলা চলছে, নানা জায়গায় দাঙ্গায় হাজার হাজার মানুষ মারা গেছেন, সেই বিতর্ক শেষ করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির পরিবেশ শুরু করতেই এই সহযোগিতা বলে ওয়াক্‌ফবোর্ড মনে করছে।

উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা শহরের রামজন্মভূমি-বাবরি মসজিদ নিয়ে বিতর্কে যে জায়গা, তারই কাছ দিয়ে বয়ে গেছে সরযূ নদী।

কয়েকদিন আগে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি শাসিত সরকার জানিয়েছে, হিন্দুদের কাছে অতি পবিত্র ঐ নদীর ধারে তারা হিন্দুদের আরাধ্য দেবতা রামচন্দ্রের একটি বিশাল মূর্তি তৈরি করবে।

Image caption স্থানীয় মন্দিরে রামচন্দ্রের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করছে ভিএইচপির এক কর্মী।

রাজ্যের শিয়া মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বকারী শিয়া ওয়াক্‌ফ বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা ঐ মূর্তিটির জন্য দশটি রুপোর তীর বানিয়ে দেবে।

ধনুক হাতে যুদ্ধরত রামচন্দ্রের পরিচিত ছবিতে তাঁর পিঠে বাঁধা একটি তূণে বেশ কিছু তীর দেখা যায়।

শিয়া ওয়াক্‌ফ বোর্ডের প্রধান ওয়াসিম রিজভির কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কেন রামচন্দ্রের মূর্তি তৈরিতে এই সহযোগিতার সিদ্ধান্ত তাদের?

মি. রিজভি বলছিলেন, "আমরা যে বার্তাটা এই সহযোগিতার মাধ্যমে দিতে চাইছি, তা হল হিন্দু আর মুসলমান - দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে যাতে সম্প্রীতির একটা পরিবেশ তৈরি হয়।ৱ

"এই রামজন্মভূমি আর বাবরি মসজিদ নিয়ে অনেক হিংসা, অনেক অশান্তি হয়েছে, সেসব শেষ করে এবার যাতে দুই সম্প্রদায় শান্তিতে থাকতে পারে, সেই চেষ্টা কোথাও থেকে তো শুরু করতে হবে। সেই প্রচেষ্টাই আমরা করতে চাইছি," বলছিলেন মি. রিজভি।

তিনি আরও বলছিলেন যারা মুসলমানদের হয়ে এই বিতর্ক চালিয়ে যাচ্ছে, তারা আসলে এর সমাধান চায়ই না।

রাজ্যের সুন্নি মুসলমান গোষ্ঠী রামচন্দ্রের মূর্তিতে শিয়া ওয়াক্‌ফ বোর্ডের রুপোর তীর উপহার দেওয়া নিয়ে ঠিক কী ভাবছে, তা জানার জন্য সুন্নি ওয়াক্‌ফ বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় নি।

Image caption ইউপি'র মুসলমানরা এখনও বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।

তবে রামজন্মভূমি আন্দোলন যারা গড়ে তুলেছিল সেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অযোধ্যা অঞ্চলের মুখপাত্র শরদ শর্মা বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "ভগবান রাম সবধরনের সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে ছিলেন। তিনি উত্তরের সঙ্গে দক্ষিণকে জুড়েছিলেন, সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলতেন। সেরকমই যদি ভগবান রামের মূর্তি তৈরিতে যদি সব সম্প্রদায় এগিয়ে আসে, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, তার থেকে ভাল আর কী হতে পারে।"

হিন্দুত্ববাদীরা যখন শিয়া সম্প্রদায়ের এই সহযোগিতাকে এই ভাবে ব্যাখ্যা করছে, তখন সাধারণ হিন্দু মুসলমান কী বলছেন? জানতে চেয়েছিলাম দুজন হিন্দু ও দুজন মুসলমান ধর্মাবলম্বীর কাছে।

একজনের কথায়, "শিয়া ওয়াক্‌ফ বোর্ডের ওই সিদ্ধান্ত সব মুসলমানের মনের কথা কখনই নয়। যে রামজন্মভূমি আর বাবরি মসজিদ দেশের লাখ লাখ হিন্দু মুসলমানের হৃদয়ের সঙ্গে জুড়ে আছে, এত স্পর্শকাতর একটি যে বিষয়, তার কি এভাবে সমাধান সম্ভব নাকি? শুধু তীর বানিয়ে দিয়ে কী সম্প্রীতি হয়?"

আরেকজন বলছিলেন, "আমার তো মনে হচ্ছে ওই সম্প্রদায়ের মনে কোথাও ভয় কাজ করছে। সম্প্রদায়ের সদস্যদের কাছ থেকে নিশ্চয় তারা এরকম ফিডব্যাক পেয়েছে যে নিশ্চিন্তে থাকতে গেলে এটাই করতে হবে। গুড জেস্চারটার পেছনে নিশ্চয় কোনও চাপ আছে।"

"সারা দেশে হিন্দুত্ববাদীদের যে হৈচৈ, দাপাদাপি, তার মধ্যে কয়েকটা রুপোর তীর উপহার দেওয়াটা একটা লোক দেখানো ব্যাপার। আসল বিতর্কেরই তো এখনও সমাধান হল না।" মন্তব্য আরেকজনের।

সম্পর্কিত বিষয়