পরিকল্পনার অভাবে বাংলাদেশে দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে: উদ্বেগ পরিবেশ আন্দোলনকারীদের

ঢাকায় বায়ুদূষণ অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন।
Image caption ঢাকায় বায়ুদূষণ অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন।

বায়ু, পানি, মাটি, সবক্ষেত্রেই দূষণ বাংলাদেশের মানুষের কাছে নতুন কোন বিষয় না হলেও পরিস্থিতি এখন সঙ্কটে রূপ নিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন । তাদের মতে, রাজধানী ঢাকায় বায়ু এবং শব্দ দূষণ অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে।

ঢাকাকে ঘিরে বুড়িগঙ্গা এবং শীতলক্ষ্যাসহ নদীগুলোর দূষণের মাত্রা বাড়ছে। এখন দেশের অন্য শহরগুলোর মানুষও দূষণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

কৃষিকাজে বিষাক্ত রাসায়নিক বা কীটনাশকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় দূষণের ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে মানুষের খাদ্যে।

দূষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম একজন সংগঠক নাসের খান মনে করেন, পরিকল্পনার অভাবে দূষণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

"মাটি, পানি, বাতাস সবগুলোই কিন্তু দূষিত। কারণ আমরা যে ধরণের শিল্প গড়েছি, সেগুলোতে প্রচুর পরিমাণে দূষণ হচ্ছে। একইসাথে ইঁটের ভাটার কারণেও দূষণ হচ্ছে। নদীগুলো দূষিত হচ্ছে শিল্প কারখানার বর্জ্য পড়ে। আমাদের খাদ্যে দূষণের প্রভাব খারাপ থেকে খারাপ হচ্ছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হলেও সেগুলো দূষণের প্রভাব মুক্ত করতে অনেক সময় লেগে যাবে।"

ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে বায়ু এবং শব্দ দূষণের কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু এবং বয়স্করা।

তাদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, বা এ্যাজমার মতো রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া পরিবেশ দূষণের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। চিকিৎসকদের কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

ট্যানারি শিল্পসহ বিভিন্ন ধরণের কারখানায় কর্মরতরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করছে।

Image caption বাংলাদেশের বহু গ্রামে আর্সেনিকযুক্ত পানি খেতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ।

বাংলাদেশে পানি দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে আর্সেনিক। এখনও সারাদেশে সাড়ে পাঁচকোটির বেশি মানুষ আর্সেনিকযুক্ত পানি ব্যবহার করছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে বলা হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের মাঝে দূষণের বিষয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ঢাকার একটি ব্যস্ত সড়কে ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলছিলেন, দূষণের কারণে তারা যে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বা অনেক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, সেটা তাদের আতঙ্কিত করছে।

একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক তানজিলা মহসিন বলছিলেন, পরিস্থিতি কতটা খারাপ হলে সবার টনক নড়বে, সেটা তিনি বুঝতে পারছেন না।

পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের অনেকের মাঝে হতাশাও কাজ করছে।

পরিবেশ নিয়ে আন্দোলনকারীরা মনে করেন, বাংলাদেশে বায়ু পানি কৃষিসহ সব ক্ষেত্রেই দূষণের যে পরিস্থিতি, সেখানে কোন একটি ক্ষত্রে দূষণের মাত্রা কম , একথা বলার সুযোগ নেই।

সবক্ষেত্রেই সমানতালে দূষণ বাড়ছে।

সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কাজী সারোয়ার ইমতিয়াজ হাশমীও দূষণের মাত্রা বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি দূষণ রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার কথাও তুলে ধরেন।

"দূষণ বাড়ছে। যেহেতু জনসংখ্যা বাড়ছে শহরগুলোতে। উন্নয়ন কর্মকান্ড বাড়ছে এবং গাড়ির সংখ্যাও বেড়ে গেছে। তবে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। ট্যানারি কারখানাগুলো ঢাকা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।ইটের ভাটায় বিকল্প ব্যস্থা নেয়া হচ্ছে।এ ধরণের বিভিন্ন পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি।"

একইসাথে পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, শুধু সরকারি পদক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব নয়। পরিবেশ রক্ষায় মানুষের সচেতনতাও প্রয়োজন।

সম্পর্কিত বিষয়