ভারতে গিয়ে পাকিস্তানের সমালোচনা আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির

দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং আফগান প্রেসিডেন্ট ছবির কপিরাইট STRDEL
Image caption দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং আফগান প্রেসিডেন্ট

তালেবানের সাথে শান্তি মীমাংসার জন্য আশেরিকার এবং রাশিয়ার তরফ থেকে সমান্তরাল উদ্যোগের মাঝে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি ভারত সফরে গেছেন।

দিল্লিতে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দিনভর বৈঠকের পর সন্ধ্যায় শহরের একটি গবেষনা প্রতিষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে আফগান প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশে সহিংসার চরিত্র আলাদা আর আন্তর্জাতিক বিশ্বকে সেটা বুঝেই তার মোকাবিলার পথ খুঁজতে হবে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, তালেবানের সঙ্গে কাবুলের শান্তি আলোচনার উদ্যোগ বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে তার সরকার যে সেটা মেনে নেবে না, প্রেসিডেন্ট গনি এদিন সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন।

ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট গনি স্পষ্ট করেই বলেছেন - পাকিস্তান একদিকে তার দেশে তালেবানকে মদত দিয়ে যাবে আর অন্য দিকে তাদের সঙ্গে আলোচনাতেও বসতে বলবে, দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না।

বলা বাহুল্য পাকিস্তান নিয়ে আফগান সরকারের এই অবস্থানে ভারতের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আফগানিস্তানের চিফ এক্সিকিউটিভ আবদুল্লা আবদুল্লা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন রাব্বানি ভারত সফর করে গেছেন। এ মাসের ১৬ তারিখে কাবুল গিয়েছিলেন ভারতের ক্ষমতাধর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।

আফগান চিফ এক্সিকিউটিভ আবদুল্লা আবদুল্লা গত মাসেই দিল্লি সফরে এসে সরাসরি বলেছিলেন, "আমাদের দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক খুবই সমস্যাসঙ্কুল - আর তার প্রধান কারণ হল যে সব গোষ্ঠী আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বিপন্ন করতে চায় তাদের ঘাঁটি এখনও পাকিস্তানেই। সে দেশ থেকে তারা এখনও সমর্থন পাচ্ছে।"

এতটা খোলাখুলি না-বললেও প্রেসিডেন্ট গনিও এদিন দিল্লির বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনে দেওয়া ভাষণে পাকিস্তানের প্রতি ইঙ্গিত করেই বলেছেন, তার দেশে চলা সহিংসতায় রাজনৈতিকভাবে অর্থায়ন করা হচ্ছে, মদত দেওয়া হচ্ছে।

পাকিস্তানের সমর্থনপুষ্ট কোনও শান্তি আলোচনায় যে আফগানিস্তানের ভরসা নেই, তার এই মন্তব্যকে এভাবেই ব্যাখ্যা করছে ভারত।

যে থিঙ্কট্যাঙ্কে প্রেসিডেন্ট গনি এদিন ভাষণ দিয়েছেন, তার সিনিয়র ফেলো সুশান্ত সারিন বিবিসিকে বলছিলেন ভারতের এখনকার আফগান নীতির প্রতি প্রেসিডেন্ট গনির যে সমর্থণ রয়েছে তার পরিষ্কার ইঙ্গিত তিনি দিয়েছেন।

মি সারিনের কথায়, "আফগানিস্তানে ভারতের সাফল্যের মূল কারণ হল অন্য দাতা দেশগুলোর মতো ভারত কখনও ঠিক করতে যায়নি আফগানরা কী চায়, বরং তারা জানতে চেয়েছে আফগানিস্তান কী চায়।"

ছবির কপিরাইট STRDEL
Image caption দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং আফগান প্রেসিডেন্ট

"হ্যাঁ, আমেরিকার সঙ্গে আফগানিস্তান নিয়ে আলোচনা নিশ্চয়ই চলবে - কিন্তু ভারতকে এখানে একটা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকতে হবে।"

গত সপ্তাহেই ওমানের মাস্কটে আফগান শান্তি আলোচনাকে জিইয়ে তোলার চেষ্টায় কাবুলের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল আমেরিকা, চীন ও পাকিস্তান।

তা ছাড়া রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তান - এই তিন দেশের উদ্যোগেও কাবুল ও তালেবানকে মুখোমুখি বসানোর চেষ্টা চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। কিন্তু এ ব্যাপারে ভারতের অবস্থান একটু আলাদা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভি কে সিং এ বছরের গোড়াতেই স্পষ্ট করে দিয়ে বলেছেন, "ভারত মনে করে আফগানিস্তান নিয়ে বৈঠক করলেই সে দেশের সমস্যার সমাধান হবে, বিষয়টা মোটেও তা নয়। সবচেয়ে জরুরি হল, যে কোনও শান্তি আলোচনা হতে হবে আফগানিস্তানের নেতৃত্বে ও তাদের নিয়ন্ত্রণে। নইলে কিছুতেই তাদের সঙ্কট মিটবে না।"

অন্যভাবে বললে, শান্তি আলোচনায় ভারত যে পাকিস্তানের কোনও ভূমিকা দেখতে চায় না সে মনোভাব দিল্লি অনেক আগেই স্পষ্ট করেছে।

ঘটনাচক্রে প্রেসিডেন্ট গনি কাবুলের ফিরতি বিমান ধরার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে দিল্লিতে এসে নামছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। তার কাছেও ভারত আফগান প্রশ্নে তাদের এই অবস্থান তুলে ধরতে চাইবে।

সম্পর্কিত বিষয়